Results for আইন

বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি ভাগ, উত্তরাধিকার ও খোরপোষ: ছেলে ও মেয়ে উভয়ের আইনি অধিকার (2026)

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
⚖️ সংক্ষিপ্ত পরিচয়: বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি ভাগ, উত্তরাধিকার ও খোরপোষ - এই চারটি বিষয় পারিবারিক আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিয়ের পর সম্পর্ক ভেঙে গেলে বা পরিবারে মৃত্যু হলে এই আইনগুলো আপনার জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই পোস্টে স্বামী ও স্ত্রী - উভয় পক্ষের আইনি অধিকার, সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার, এবং অনলাইন আইনি সাহায্যের সম্পূর্ণ গাইড।

ভারতে বিবাহ একটি পবিত্র সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত, কিন্তু যখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে, আইন উভয় পক্ষকেই সম্মানজনক বেরোনোর পথ দেয়। একইভাবে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও স্পষ্ট আইনি কাঠামো আছে। ২০০৫ সালের Hindu Succession Amendment Act এবং ২০২৪ সালের BNSS এর মাধ্যমে এই আইনগুলো আরও আধুনিক ও লিঙ্গ-সমতাভিত্তিক হয়েছে। এই বিস্তৃত গাইডে আমরা দেখবো - বিবাহবিচ্ছেদের ধরন ও পদ্ধতি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পত্তিতে অধিকার, উত্তরাধিকার আইন, খোরপোষের নিয়ম, এবং অনলাইন আইনি সাহায্য কোথায় পাবেন।

📋 এই পোস্টে যা যা থাকছে

পর্ব ১: বিবাহবিচ্ছেদ

পর্ব ২: সম্পত্তি ভাগ

পর্ব ৩: উত্তরাধিকার

পর্ব ৪: খোরপোষ

পর্ব ৫: সাহায্য

পর্ব ১ - বিবাহবিচ্ছেদ: আইনি কাঠামো

ভারতে বিবাহবিচ্ছেদ আইন ধর্ম ভিত্তিক। প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব Personal Law আছে:

ধর্মপ্রযোজ্য আইন
হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধHindu Marriage Act, 1955
মুসলিমDissolution of Muslim Marriage Act, 1939
খ্রিস্টানIndian Divorce Act, 1869
পার্সিParsi Marriage and Divorce Act, 1936
আন্তঃধর্মীয় / Civil MarriageSpecial Marriage Act, 1954
📊 জানতেন? National Judicial Data Grid (NJDG) অনুযায়ী ২০২৪-২৫ সালে ভারতে ১০.৮ লক্ষেরও বেশি নতুন বিবাহ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়েছে। এর অধিকাংশই Hindu Marriage Act এর অধীনে।

বিবাহবিচ্ছেদের প্রধান দুই প্রকার

১. Mutual Consent Divorce (পারস্পরিক সম্মতি) - Section 13B

যখন স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সম্মত থাকেন - সবচেয়ে সহজ, দ্রুত ও কম খরচে।

২. Contested Divorce (বিরোধপূর্ণ) - Section 13

একপক্ষ চাইলেও অন্যপক্ষ রাজি নয় - এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি (grounds) প্রমাণ করতে হয়।

৩. পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ (Mutual Consent Divorce)

এটি সবচেয়ে ভালো ও সহজ উপায়। Hindu Marriage Act এর Section 13B অনুযায়ী পরিচালিত।

📌 শর্তাবলী:

  • ✅ দম্পতি কমপক্ষে ১ বছর আলাদা বসবাস করছেন
  • ✅ তাঁরা একসাথে থাকতে পারছেন না
  • ✅ উভয়েই বিবাহ ভেঙে দিতে সম্মত
  • ✅ উভয়ের সম্মতি স্বাধীন ও স্বেচ্ছাকৃত

📝 প্রক্রিয়া - Step by Step:

  1. ধাপ ১: দুজনের উকিলের সাথে মিলে Joint Petition তৈরি করুন।
  2. ধাপ ২: Family Court এ Petition দাখিল করুন (প্রথম Motion)।
  3. ধাপ ৩: বিচারক প্রথম Hearing এ বক্তব্য শুনবেন।
  4. ধাপ ৪: ৬ মাসের Cooling-off Period (সময় লাগবে ভেবে দেখার জন্য)।
  5. ধাপ ৫: ৬ মাস পর Second Motion - উভয়েই এখনো সম্মত কিনা যাচাই।
  6. ধাপ ৬: সন্তান হেফাজত, খোরপোষ, সম্পত্তি সম্পর্কিত Agreement তৈরি।
  7. ধাপ ৭: বিচারক Divorce Decree জারি করেন।
🆕 নতুন তথ্য (২০২৩): Supreme Court এর Constitution Bench মে ২০২৩ এ রায় দিয়েছে যে Article 142 এর অধীনে Supreme Court চাইলে ৬ মাসের Cooling-off Period ছাড়াই সরাসরি বিবাহবিচ্ছেদ দিতে পারে যদি সম্পর্ক "irretrievably broken" হয়। Shilpa Shailesh v. Varun Sreenivasan মামলার রায়।

⏱️ সময় লাগে: সাধারণত ৬-১৮ মাস
💰 খরচ: ₹১৫,০০০ - ₹৫০,০০০ (উকিলের ফি ভিত্তিতে)

৪. Contested Divorce - স্বামী ও স্ত্রীর আইনি ভিত্তি

Hindu Marriage Act এর Section 13(1) অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী যেকেউ নিচের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ চাইতে পারেন:

🤝 উভয়পক্ষের জন্য (Common Grounds):

Groundব্যাখ্যা
ব্যভিচার (Adultery)স্বামী/স্ত্রী বিয়ের পর অন্য কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে
নিষ্ঠুরতা (Cruelty)শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন (একসাথে থাকা অসম্ভব)
পরিত্যাগ (Desertion)২ বছর বা তার বেশি সময় যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া আলাদা থাকা
ধর্মান্তর (Conversion)স্বামী/স্ত্রী অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে
মানসিক রোগ (Unsoundness of Mind)নিরাময়-অযোগ্য মানসিক ব্যাধি
সংক্রামক রোগSTD বা মারাত্মক সংক্রামক রোগ
সন্ন্যাসসংসার ত্যাগ করে ধর্মীয় পথে যাওয়া
৭ বছর নিখোঁজ৭ বছর কেউ খবর না পেলে

👩 শুধু স্ত্রীর জন্য বিশেষ Grounds (Section 13(2)):

  • একাধিক বিবাহ: স্বামীর ১৯৫৫ এর আগের বিয়ে এখনো বিদ্যমান
  • ধর্ষণ/সমকামিতা/পশুসংগম: স্বামী এগুলোর জন্য দোষী সাব্যস্ত
  • ১৫ বছরের আগে বিয়ে: ১৫ বছরের আগে বিয়ে হয়েছিল, ১৮ হওয়ার আগেই প্রত্যাহার করেছেন
  • খোরপোষ না দেওয়া: আদালতের আদেশের পরেও ১ বছর খোরপোষ না দিলে

👨 স্বামীর জন্য বিশেষ বিবেচনা:

  • স্ত্রীর পরকীয়া ও ব্যভিচার প্রমাণিত হলে
  • স্ত্রী স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিলে (যেমন 498A এর অপব্যবহার)
  • স্ত্রী শ্বশুরবাড়ির লোকদের সাথে বসবাস করতে অস্বীকার করলে
  • স্ত্রী স্বামীর সম্মতি ছাড়া কর্মজীবন পরিবর্তন করলে (পরিস্থিতি-নির্ভর)
⚖️ গুরুত্বপূর্ণ: Naveen Kohli v. Neelu Kohli (2006) মামলায় Supreme Court স্পষ্ট করেছে যে বিবাহ টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হলে "Irretrievable Breakdown" কে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে, যদিও এটি এখনো HMA তে আলাদা Ground হিসেবে নেই।

৫. Contested Divorce এর প্রক্রিয়া

  1. উকিলের সাথে পরামর্শ - নথিপত্র ও প্রমাণ গুছিয়ে নিন
  2. Petition Draft - কারণ ও প্রমাণসহ
  3. Family Court এ দাখিল - সঠিক এখতিয়ারের (Jurisdiction)
  4. Notice জারি - অপরপক্ষকে Summons পাঠানো হবে
  5. Written Statement - অপরপক্ষ তাদের বক্তব্য জমা দেবেন
  6. Mediation/Counselling - সমঝোতার চেষ্টা
  7. Evidence ও Cross-examination - সাক্ষী, নথি
  8. Final Arguments - উভয় পক্ষের উকিলের সওয়াল
  9. রায় ও Decree - বিচারক রায় দেবেন

⏱️ সময় লাগে: ৩-৭ বছর (complexity অনুযায়ী)
💰 খরচ: ₹১ লক্ষ - ₹৫ লক্ষ বা তার বেশি

পর্ব ২ - সম্পত্তি ভাগ: প্রকারভেদ

বিবাহবিচ্ছেদ বা পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজনের ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকারভেদ বুঝতে হবে:

১. পৈতৃক সম্পত্তি (Ancestral Property)

৪ প্রজন্ম পর্যন্ত অবিভক্ত পুরুষ বংশানুক্রমে প্রাপ্ত সম্পত্তি। পুত্র-কন্যা উভয়েই এতে জন্মসূত্রে অধিকারী (coparcener)।

২. স্ব-অর্জিত সম্পত্তি (Self-acquired Property)

নিজের পরিশ্রমে বা দক্ষতায় অর্জিত সম্পত্তি। মালিক নিজের ইচ্ছামতো বিলি-বণ্টন করতে পারেন।

৩. যৌথ সম্পত্তি (Joint Property)

স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে কেনা বা গড়া সম্পত্তি - যেমন joint bank account, joint নামে ফ্ল্যাট।

৪. স্ত্রীধন (Stridhan)

স্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পাওয়া সম্পত্তি - গয়না, উপহার, বাবার বাড়ির দেওয়া জিনিস ইত্যাদি। সম্পূর্ণ স্ত্রীর।

৭. স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার

⚠️ সাধারণ ভুল ধারণা: অনেকে মনে করেন বিয়ে করলেই স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে অর্ধেক অধিকারিণী - এটা ভুল। ভারতে কোনো "Community Property" নিয়ম নেই।

📍 বিয়ে চলাকালীন:

  • স্বামীর স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে কোনো মালিকানা নেই
  • বসবাসের অধিকার (Right to Reside) আছে - Domestic Violence Act 2005 অনুযায়ী
  • স্বামীর আয় থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার
  • স্বামী-স্ত্রী যৌথ সম্পত্তিতে শেয়ার থাকবে (যদি দলিলে নাম থাকে)

📍 বিবাহবিচ্ছেদের পর:

  • স্বামীর স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে অধিকার থাকে না
  • তবে Alimony ও Maintenance পান
  • যৌথ সম্পত্তিতে আনুপাতিক ভাগ
  • স্ত্রীধন সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার অধিকার

📍 স্বামীর মৃত্যুর পর:

  • Class I উত্তরাধিকারী হিসেবে বিধবা স্ত্রী সম্পূর্ণ সমান অধিকার পান
  • পুত্র, কন্যা ও মায়ের সমান অংশ
  • Uncontested case এ স্ত্রী+সন্তান = পুরো সম্পত্তির সমান ভাগ

৮. স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অধিকার

📍 স্বাধীনতা ও অধিকার:

  • স্ত্রীর স্ব-অর্জিত সম্পত্তি সম্পূর্ণ তাঁর নিজের
  • স্বামীর কোনো স্বত্ব বা দাবি নেই
  • স্ত্রীধন সম্পত্তিতে স্বামীর কোনো অধিকার নেই

📍 স্ত্রীর মৃত্যুর পর:

Section 15 of Hindu Succession Act অনুযায়ী ক্রম:

  1. পুত্র, কন্যা ও স্বামী (সমান ভাগ)
  2. স্বামীর উত্তরাধিকারী
  3. বাবা-মা
  4. বাবার উত্তরাধিকারী
  5. মায়ের উত্তরাধিকারী
💡 গুরুত্বপূর্ণ: স্ত্রী যদি Will (উইল) করে যান, তাহলে তাঁর ইচ্ছামতো সম্পত্তি বণ্টন হবে। Will না থাকলে উপরের ক্রম অনুযায়ী ভাগ হবে।

৯. স্ত্রীধন - মহিলার চরম আইনি রক্ষাকবচ

স্ত্রীধন হল স্ত্রীর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যাতে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি বা অন্য কারো কোনো অধিকার নেই।

📌 স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত:

  • 🎁 বিয়েতে পাওয়া উপহার (যে কেউ দিক)
  • 💍 গয়না ও অলঙ্কার (সোনা, হীরা ইত্যাদি)
  • 💰 বাবা-মা, ভাই-বোনের দেওয়া টাকা বা জিনিস
  • 👰 বিয়ের সময় পাওয়া সকল কিছু
  • 🎂 জন্মদিন, উৎসবে পাওয়া উপহার
  • 💼 নিজের উপার্জন ও সঞ্চয়
  • 🏦 নিজের Bank Account এর টাকা

🛡️ আইনি সুরক্ষা:

  • IPC Section 406: স্ত্রীধন আত্মসাৎ করলে ৩ বছর কারাদণ্ড
  • Domestic Violence Act 2005: স্ত্রীধন ফেরত চাওয়ার অধিকার
  • Pratibha Rani vs Suraj Kumar (1985): Supreme Court এর ঐতিহাসিক রায় - স্ত্রীধন সম্পূর্ণ স্ত্রীর

📝 কীভাবে প্রমাণ করবেন:

  • বিয়ের সময় তালিকা (List of Gifts) তৈরি করুন
  • ছবি তুলে রাখুন
  • রসিদ সংরক্ষণ করুন
  • সাক্ষী রাখুন

পর্ব ৩ - উত্তরাধিকার আইন

উত্তরাধিকার হল মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বেঁচে থাকা আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টনের আইনি প্রক্রিয়া। ভারতে প্রধানত Hindu Succession Act, 1956 এই বিষয়ে প্রযোজ্য হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধদের জন্য।

১১. ২০০৫ সংশোধনী - কন্যা ও পুত্রের সমান অধিকার

২০০৫ সালের Hindu Succession (Amendment) Act ভারতীয় উত্তরাধিকার আইনে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই সংশোধনী অনুযায়ী:

🎯 ঐতিহাসিক পরিবর্তন: ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৫ থেকে কার্যকর - "কন্যা জন্মসূত্রেই পুত্রের সমান coparcener"। পৈতৃক সম্পত্তিতে পুত্র যতটুকু পায়, কন্যাও ততটুকু পাবেন।

👧 কন্যার অধিকার (২০০৫ সংশোধনীর পর):

  • ✅ পৈতৃক সম্পত্তিতে জন্মসূত্রে সমান অধিকার (পুত্রের মতো)
  • ✅ বিবাহিত হলেও অধিকার অটুট
  • ✅ Partition চাইতে পারেন
  • ✅ HUF (Hindu Undivided Family) এর Karta হতে পারেন
  • ✅ সম্পত্তি বিক্রি, দান, Will করতে পারেন
⚖️ Vineeta Sharma vs Rakesh Sharma (2020): Supreme Court এর ঐতিহাসিক রায় - কন্যার অধিকার Retrospective অর্থাৎ পিতা ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৫ এর আগে মারা গেলেও কন্যা সমান অধিকারী। পিতার জীবিত থাকার শর্ত নেই।

👦 পুত্রের অধিকার:

  • পৈতৃক সম্পত্তিতে জন্মসূত্রে অধিকার
  • কন্যার সাথে সমান (আর বেশি নয়)
  • পিতার স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে Will অনুযায়ী বা Will না থাকলে সমান ভাগ

১২. Class I ও Class II উত্তরাধিকারী

যদি হিন্দু পুরুষ মারা যান কোনো Will (উইল) ছাড়া, তাঁর সম্পত্তি নির্দিষ্ট ক্রম অনুযায়ী বণ্টন হয়:

🥇 Class I Heirs (প্রাথমিক উত্তরাধিকারী - সমান অংশ পান):

  • বিধবা স্ত্রী
  • পুত্র ও কন্যা (অবিবাহিত/বিবাহিত উভয়)
  • মা
  • পূর্বমৃত পুত্রের পুত্র/কন্যা/বিধবা
  • পূর্বমৃত কন্যার পুত্র/কন্যা

🥈 Class II Heirs (Class I না থাকলে):

  • পিতা
  • ভাই-বোন
  • দাদা-দাদী, নানা-নানী
  • চাচা-চাচি, মামা-মামি
  • আরো ৯টি ক্যাটাগরি
💡 মনে রাখুন: Class I এর একজনও থাকলে Class II কেউ কিছু পাবেন না। Class I এর সবাই সমান ভাগ পান - যেমন মা, স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে সবাই ১/৪ অংশ।

১৩. মুসলিম উত্তরাধিকার আইন - সংক্ষিপ্ত

মুসলিম আইন Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937 অনুযায়ী পরিচালিত। প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  • সুন্নি ও শিয়া আইন কিছুটা আলাদা
  • মৃতের সম্পত্তির ১/৩ অংশ পর্যন্ত Will (ওসিয়ত) করা যায়
  • বাকি ২/৩ নির্দিষ্ট ক্রম অনুযায়ী
  • সাধারণত পুত্র কন্যার দ্বিগুণ পান
  • স্ত্রী সন্তান থাকলে ১/৮, না থাকলে ১/৪
  • স্বামী স্ত্রীর সন্তান থাকলে ১/৪, না থাকলে ১/২

পর্ব ৪ - খোরপোষ (Maintenance)

খোরপোষ বা Maintenance হল এক ব্যক্তির অন্য ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান - বিশেষ করে স্বামী থেকে স্ত্রী, বা সন্তান/বাবা-মায়ের জন্য।

📜 আইনি ভিত্তি:

আইনবিবরণ
Section 125 CrPC → Section 144 BNSS (২০২৪)ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য
Hindu Marriage Act Section 24, 25অন্তর্বর্তী ও স্থায়ী খোরপোষ
Hindu Adoption and Maintenance Act 1956স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা
Domestic Violence Act 2005Monetary Relief
Muslim Women (Protection of Rights) Act 1986মুসলিম মহিলাদের জন্য

১৫. স্ত্রীর খোরপোষ পাওয়ার অধিকার

একজন স্ত্রী নিচের পরিস্থিতিতে স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ পেতে পারেন:

  • ✅ বিয়ের সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকাকালে - যদি স্বামী ভরণপোষণ না দেন
  • ✅ বিবাহবিচ্ছেদের সময় (Interim Maintenance)
  • ✅ বিবাহবিচ্ছেদের পর (Permanent Alimony)
  • ✅ Judicial Separation এর পর
  • ✅ স্বামী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে বের করে দিলে
  • ✅ স্বামী অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলে

📌 খোরপোষের প্রকারভেদ:

  1. Interim Maintenance: মামলা চলাকালীন (Section 24 HMA)
  2. Permanent Alimony: বিবাহবিচ্ছেদের পর (Section 25 HMA)
  3. Lump Sum Payment: একবারে থোক টাকা
  4. Monthly Maintenance: প্রতিমাসে নির্দিষ্ট টাকা

❌ স্ত্রী কখন খোরপোষ পাবেন না:

  • তিনি adultery (ব্যভিচার) করলে
  • যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া স্বামী থেকে আলাদা থাকলে
  • পুনর্বিবাহ করলে (permanent alimony বন্ধ)
  • পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা থাকলে (কিছু ক্ষেত্রে)

১৬. স্বামী কি খোরপোষ পেতে পারেন?

🚫 Section 125 CrPC / Section 144 BNSS এর অধীনে: না, স্বামী স্ত্রীর কাছ থেকে খোরপোষ চাইতে পারেন না। এই ধারাটি মূলত আর্থিকভাবে নির্ভরশীলদের সুরক্ষার জন্য।

✅ কিন্তু অন্য আইনের অধীনে সম্ভব:

১. Hindu Marriage Act Section 24 ও 25

এই ধারাগুলি Gender-neutral। অর্থাৎ স্বামী স্ত্রী - যেকেউ খোরপোষ চাইতে পারেন যদি:

  • তিনি নিজের ভরণপোষণ করতে অক্ষম
  • অপর পক্ষের যথেষ্ট আর্থিক সক্ষমতা আছে
  • স্বামী শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতায় আয় করতে পারছেন না

২. Special Marriage Act Section 36, 37

Civil বিবাহের ক্ষেত্রে - Gender-neutral

⚖️ বাস্তব উদাহরণ:

Rani Sethi vs Sunil Sethi (2011): Delhi High Court রায় দিয়েছিল যে বেকার স্বামী চাকরিরত স্ত্রীর কাছ থেকে খোরপোষ পেতে পারেন HMA Section 24 এর অধীনে।

১৭. সন্তান ও বাবা-মায়ের খোরপোষ

👶 সন্তানের খোরপোষ:

  • নাবালক সন্তান: Section 144 BNSS অনুযায়ী বাবা খোরপোষ দিতে বাধ্য
  • সাবালক সন্তান: সাধারণত বাবা বাধ্য নন, তবে প্রতিবন্ধী হলে বাধ্য
  • অবিবাহিত কন্যা: বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত বাবার দায়িত্ব
  • শিক্ষা খরচ: Higher Education এর খরচ কভার (Court discretion)

👴👵 বাবা-মায়ের খোরপোষ:

  • Section 144 BNSS: সন্তান বাবা-মাকে খোরপোষ দিতে বাধ্য
  • Maintenance and Welfare of Parents and Senior Citizens Act, 2007: বিশেষ আইন বৃদ্ধদের জন্য
  • সন্তান অস্বীকার করলে Tribunal এ আবেদন করা যায়
  • সর্বোচ্চ ₹১০,০০০ প্রতিমাসে (পূর্বে সীমা ছিল)

১৮. খোরপোষের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হয়?

আদালত নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করেন:

  • 💼 স্বামীর মাসিক নিট আয় (Net Income)
  • 🏠 জীবনযাত্রার মান (Standard of Living)
  • 👨‍👩‍👧‍👦 পরিবারের সদস্য সংখ্যা
  • 💰 সম্পত্তি ও সম্পদ
  • 🎓 স্ত্রীর শিক্ষা ও যোগ্যতা
  • 🏥 স্ত্রীর স্বাস্থ্য অবস্থা
  • 👶 সন্তানের সংখ্যা ও বয়স
  • ⚖️ অন্য দায়-দেনা

📊 সাধারণ নিয়ম:

Supreme Court এর দিকনির্দেশনা: Rajnesh vs Neha (2020) মামলায় Supreme Court খোরপোষ নির্ধারণের গাইডলাইন দিয়েছে:

• সাধারণত স্বামীর নিট আয়ের ২৫% থেকে ৩৩%
• Urban এলাকায় বেশি, Rural এলাকায় কম
• Interim Maintenance দ্রুত নিষ্পত্তি
• উভয় পক্ষের Income Affidavit বাধ্যতামূলক

💡 উদাহরণ:

  • স্বামীর নিট মাসিক আয় ₹৫০,০০০ → স্ত্রীর খোরপোষ: ₹১২,৫০০ - ₹১৬,৫০০
  • সন্তান থাকলে আলাদা শিক্ষা খরচ যোগ হবে
  • Inflation বিবেচনায় প্রতি ২-৩ বছরে পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে

পর্ব ৫ - অনলাইন আইনি সাহায্য: কোথায় পাবেন

আইনি সমস্যায় সাহায্যের জন্য এখন অনলাইনে অনেক বিশ্বস্ত পথ আছে। এর মধ্যে কিছু সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি, আর কিছু পেইড বেসরকারি।

🏛️ ১. সরকারি ফ্রি আইনি সাহায্য (Legal Aid)

⚖️ NALSA - ফ্রি আইনি সাহায্য

  • National Legal Services Authority (NALSA): nalsa.gov.in
  • হেল্পলাইন: ১৫১০০ (Toll-free)
  • State Legal Services Authority (WB): wbslsa.org
  • যাদের জন্য: মহিলা, শিশু, SC/ST, ₹৯ লক্ষের কম বার্ষিক আয়ের পরিবার
  • কী পাবেন: ফ্রি আইনজীবী, কোর্ট ফি মওকুফ, বিনামূল্যে পরামর্শ

🌐 ২. Tele-Law সেবা

  • ওয়েবসাইট: tele-law.in
  • গ্রামীণ এলাকায় ভিডিও কনফারেন্সিং এ আইনজীবীর পরামর্শ
  • সম্পূর্ণ ফ্রি সরকারি উদ্যোগ
  • নিকটতম CSC (Common Service Centre) এ যান

👩 ৩. মহিলাদের জন্য বিশেষ সেবা

সেবাযোগাযোগ
Women Helpline১৮১ (২৪x৭)
National Commission for Womenncw.nic.in
WB Women's Commissionwbwomencommission.org
Sakhi One Stop Centreপ্রতি জেলায় - ১৮১
Protection Officer (DV Act)জেলা সদরে উপলব্ধ

👨 ৪. পুরুষদের জন্য সাহায্য

অনেকে জানেন না - পুরুষদের জন্যও সহায়তা আছে। বিশেষ করে যদি মিথ্যা মামলা, পারিবারিক অত্যাচার বা হয়রানির শিকার হন:

  • SIF (Save Indian Family Foundation): saveindianfamily.in
  • Men's Rights Organisation: mensrightsorganisation.com
  • Vaastav Foundation: পুরুষদের জন্য কাউন্সেলিং
  • NCMI Helpline: ৮৮৮২-৪৯৮৪৯৮

💼 ৫. পেইড অনলাইন আইনি পরামর্শ

🎯 ৬. পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ

  • WBSLSA হেল্পলাইন: ০৩৩-২৩৩৫-৮৮০০
  • Calcutta High Court Legal Services: calcuttahighcourt.gov.in
  • জেলা Legal Services Authority: প্রতি জেলা কোর্টে
  • Family Court Kolkata: ৩৭, বেলভেডিয়ার রোড, আলিপুর

📱 ৭. সরকারি অনলাইন পোর্টাল (মামলার স্ট্যাটাস চেক)

২০. সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

❓ বিবাহবিচ্ছেদ পেতে কত সময় লাগে?

Mutual Consent এ সাধারণত ৬-১৮ মাস। Contested এ ৩-৭ বছর বা তার বেশি। Supreme Court এর নতুন রায়ে বিশেষ ক্ষেত্রে Cooling-off period ছাড়াই সম্ভব।

❓ বিবাহিত কন্যা কি বাবার সম্পত্তি পাবেন?

হ্যাঁ। ২০০৫ সালের Hindu Succession Amendment এবং Vineeta Sharma (2020) রায় অনুযায়ী বিবাহিত-অবিবাহিত কন্যা জন্মসূত্রেই coparcener। বিয়ের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

❓ স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকলেই কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়?

না। আলাদা থাকা আর বিবাহবিচ্ছেদ ভিন্ন জিনিস। Court Decree ছাড়া আইনিভাবে বিবাহ ভাঙে না। আলাদা থাকা হতে পারে Judicial Separation যা বিবাহবিচ্ছেদের prelude।

❓ সন্তানের কাস্টডি কে পাবে?

আদালত "সন্তানের সর্বোচ্চ স্বার্থ" (Welfare of Child) বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত ৫ বছরের নিচে শিশুর কাস্টডি মায়ের কাছেই থাকে। বড় সন্তানের ক্ষেত্রে তার ইচ্ছাও বিবেচ্য। উভয় অভিভাবকেরই Visitation Rights থাকে।

❓ খোরপোষ কি আজীবন দিতে হয়?

হ্যাঁ, সাধারণত হ্যাঁ - যদি না স্ত্রী পুনর্বিবাহ করেন। Section 125 CrPC / 144 BNSS অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ হলেও খোরপোষ চলতে থাকে। Supreme Court বলেছে "এক দিনের জন্য বিবাহিতা মহিলাও আজীবন খোরপোষের অধিকারী"।

❓ স্বামী যদি খোরপোষ না দেন?

আদালত Warrant জারি করে গ্রেপ্তার করতে পারে। বেতন Attach করা যায়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যায়। Inter-state execution ও সম্ভব।

❓ স্ত্রী চাকরিরত হলেও কি খোরপোষ পাবেন?

নির্ভর করে আয়ের তারতম্যের উপর। যদি স্ত্রীর আয় যথেষ্ট হয় তাঁর জীবনযাত্রা বজায় রাখতে, তাহলে নাও পেতে পারেন। তবে স্বামীর আয় অনেক বেশি হলে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে পেতে পারেন।

❓ উইল (Will) না থাকলে কী হয়?

Intestate Succession এর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। Class I heirs সবাই সমান ভাগ পাবেন। তাই Will তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ - ₹১০০-র Stamp Paper এ সাধারণ Will তৈরি করা যায়।

❓ ফ্রি উকিল কীভাবে পাব?

NALSA হেল্পলাইন ১৫১০০ এ ফোন করুন। অথবা নিকটতম District Court এ Legal Services Authority অফিসে যান। মহিলা, SC/ST, ₹৯ লক্ষের কম আয়ের পরিবার ফ্রি সাহায্য পান।

❓ পুরুষ কি মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে কী করতে পারে?

IPC Section 498A (এখন BNS 85, 86) এর অপব্যবহার হলে - Quash Petition, Defamation মামলা, High Court এ Writ, এবং Malicious Prosecution এর মামলা করা যায়। Save Indian Family এর মতো NGO সাহায্য করে।

🔖 উপসংহার

বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের আইন সময়ের সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে বিবর্তিত হয়েছে। ২০০৫ সালের সংশোধনী কন্যাদের জন্য বিপ্লব এনেছে; ২০২৩ সালের Supreme Court রায় বিবাহবিচ্ছেদকে সহজ করেছে; এবং ২০২৪ সালের BNSS খোরপোষের পদ্ধতিকে আরো স্পষ্ট করেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: পারিবারিক বিরোধ যতটা সম্ভব সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলুন। কোর্টে যাওয়া মানে অর্থ, সময় ও মানসিক শান্তি - সবই হারানো। যদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হয়, Mutual Consent এর পথ বেছে নিন। বিশেষ করে সন্তান থাকলে তাদের স্বার্থকে সবার উপরে রাখুন।

আইনি সহায়তা দরকার হলে প্রথমে NALSA হেল্পলাইন ১৫১০০ এ ফোন করুন - সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাহায্য পাবেন। মহিলারা ১৮১ হেল্পলাইন ব্যবহার করুন।

⚠️ Disclaimer: এই পোস্টটি সাধারণ তথ্যের জন্য। পারিবারিক আইন অত্যন্ত জটিল এবং প্রতিটি মামলা আলাদা। কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন যোগ্য পারিবারিক আইনজীবীর পরামর্শ নিন। আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনশীল - সর্বশেষ আপডেট যাচাই করে নিন।

এই পোস্ট ভালো লাগলে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান - আইনি অধিকার সম্পর্কে জানা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন।

🔗 সম্পর্কিত পোস্ট:

বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি ভাগ, উত্তরাধিকার ও খোরপোষ: ছেলে ও মেয়ে উভয়ের আইনি অধিকার (2026) বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি ভাগ, উত্তরাধিকার ও খোরপোষ: ছেলে ও মেয়ে উভয়ের আইনি অধিকার (2026) Reviewed by Wisdom Apps on এপ্রিল ২৩, ২০২৬ Rating: 5

RTI কীভাবে দাখিল করবেন, FIR লেখার নিয়ম ও পুলিশি হয়রানিতে আপনার আইনি অধিকার

এপ্রিল ১৯, ২০২৬
🛡️ সংক্ষিপ্ত পরিচয়: একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সরকারি তথ্য জানা, অপরাধের অভিযোগ করা এবং পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া - এই তিনটিই আপনার সাংবিধানিক অধিকার। এই পোস্টে আমরা জানবো কীভাবে RTI দাখিল করবেন, FIR লেখার সঠিক নিয়ম এবং পুলিশি হয়রানি হলে কী আইনি পদক্ষেপ নেবেন।


ভারতের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে কিছু মৌলিক অধিকার দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এই অধিকারগুলি সম্পর্কে জানেন না, ফলে সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশের হাতে প্রতারিত ও হয়রানির শিকার হন। এই বিস্তারিত গাইডে আমরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের জানা উচিত।

📋 এই পোস্টে যা যা থাকছে

পর্ব ১: RTI - তথ্যের অধিকার আইন কী?

RTI (Right to Information) Act, 2005 হল ভারতের একটি বিপ্লবী আইন যা প্রতিটি নাগরিককে সরকারি দপ্তরের তথ্য জানার অধিকার দিয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন:

  • সরকারি অফিসে আপনার ফাইলের অবস্থা
  • কোনো সরকারি প্রকল্পে কত টাকা খরচ হয়েছে
  • আপনার গ্রামের রাস্তা কত টাকায় তৈরি হয়েছে
  • চাকরির পরীক্ষায় আপনার উত্তরপত্র কেমন মূল্যায়িত হয়েছে
  • সরকারি স্কিমের সুবিধাভোগীদের তালিকা
  • পুলিশ কেস এর তদন্তের অগ্রগতি
⚖️ আইনি ভিত্তি: RTI Act, 2005 এর Section 3 অনুযায়ী প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার আছে। Section 6(1) অনুযায়ী আবেদন করতে হয় এবং Section 7(1) অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে উত্তর দিতে সরকারি কর্মকর্তারা বাধ্য।

RTI সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিষয়বিবরণ
আইনের নামRight to Information Act, 2005
আবেদন ফি₹১০ (BPL কার্ডধারীদের বিনামূল্যে)
উত্তর পাওয়ার সময়৩০ দিন (সাধারণ), ৪৮ ঘণ্টা (জীবন-স্বাধীনতা সংক্রান্ত)
প্রতি পৃষ্ঠার ফি₹২ (A4/A3 কাগজে)
প্রথম আপিল৩০ দিনের মধ্যে, First Appellate Authority এর কাছে
দ্বিতীয় আপিল৯০ দিনের মধ্যে, CIC/SIC এর কাছে

RTI কীভাবে দাখিল করবেন - সম্পূর্ণ পদ্ধতি

RTI দাখিলের দুটি উপায় আছে - অফলাইন (হাতে লেখা) এবং অনলাইন। প্রথমে অফলাইন পদ্ধতি দেখে নেওয়া যাক:

📝 অফলাইনে RTI দাখিলের ধাপ

  1. ধাপ ১: একটি সাদা A4 কাগজে হাতে বা টাইপ করে আবেদন লিখুন (বাংলা, হিন্দি বা ইংরেজিতে)।
  2. ধাপ ২: আবেদনের উপরে লিখুন - "To, The Public Information Officer (PIO), [সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নাম]"।
  3. ধাপ ৩: বিষয় হিসেবে লিখুন - "Application under Section 6(1) of the RTI Act, 2005"।
  4. ধাপ ৪: স্পষ্টভাবে প্রশ্নগুলি পয়েন্ট আকারে লিখুন (১, ২, ৩ নম্বর দিয়ে)।
  5. ধাপ ৫: আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও সাক্ষর দিন।
  6. ধাপ ৬: ₹১০ এর Indian Postal Order (IPO) বা Demand Draft সংযুক্ত করুন (PIO এর নামে)।
  7. ধাপ ৭: Registered Post বা Speed Post এ পাঠান। পোস্টের রিসিট সংরক্ষণ করুন।
💡 টিপস: প্রশ্ন করার সময় "দয়া করে জানান" বা "অনুগ্রহ করে তথ্য দিন" - এই ভাষা ব্যবহার করুন। প্রশ্ন যেন Yes/No ভিত্তিক না হয়, বরং নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়। উদাহরণ: "২০২৫ সালে এই গ্রামে MGNREGA তে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং কত খরচ হয়েছে তার সার্টিফায়েড কপি চাই।"

অনলাইনে RTI দাখিল - সরাসরি লিঙ্ক

কেন্দ্রীয় সরকারের যেকোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের বিরুদ্ধে RTI অনলাইনে দাখিল করা যায়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচে।

🌐 Central RTI Portal এ যান

🖥️ অনলাইন RTI দাখিলের পদ্ধতি

  1. অফিসিয়াল ওয়েবসাইট rtionline.gov.in এ যান।
  2. "Submit Request" বোতামে ক্লিক করুন।
  3. Guidelines পড়ে "I have read and understood" এ টিক দিন।
  4. Ministry/Department drop-down থেকে সঠিক দপ্তর নির্বাচন করুন।
  5. আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, ঠিকানা, ইমেল, ফোন) পূরণ করুন।
  6. Text box এ আপনার প্রশ্ন লিখুন (সর্বোচ্চ ৩০০০ অক্ষর)। দীর্ঘ হলে ১ MB এর কম PDF আপলোড করুন।
  7. "Make Payment" বোতামে ক্লিক করে ₹১০ ফি জমা দিন (Net Banking/Card/UPI)।
  8. Registration Number সংরক্ষণ করুন - এটি দিয়ে পরে Status দেখা যাবে।
⚠️ সাবধান: Central RTI Portal শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরের জন্য। রাজ্য সরকারের দপ্তরের জন্য এই পোর্টালে আবেদন করলে ফি ফেরত দেওয়া হবে না এবং আবেদন বাতিল হবে।

পশ্চিমবঙ্গে RTI দাখিলের নিয়ম

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দপ্তরের জন্য West Bengal Information Commission (WBIC) এর অধীনে আলাদা নিয়ম আছে। West Bengal RTI Rules, 2006 - ১০ মার্চ ২০০৬ থেকে কার্যকর।

📌 WB RTI এর গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক

পশ্চিমবঙ্গে RTI দাখিলের ধাপ

  1. যে দপ্তরের বিরুদ্ধে RTI দাখিল করবেন সেই দপ্তরের PIO চিহ্নিত করুন।
  2. বাংলা, হিন্দি বা ইংরেজিতে আবেদন লিখুন।
  3. ₹১০ ফি GRIPS পোর্টাল (wbifms.gov.in/GRIPS) এর মাধ্যমে জমা দিন অথবা Treasury Challan ব্যবহার করুন।
  4. সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বা Registered Post এ আবেদন পাঠান।
  5. ৩০ দিনে উত্তর না পেলে First Appellate Authority এর কাছে আপিল করুন।
  6. তাতেও কাজ না হলে WBIC তে দ্বিতীয় আপিল দায়ের করুন।

RTI আবেদনের নমুনা ফরম্যাট (বাংলায়)

তারিখঃ ১৯/০৪/২০২৬

প্রতি,
জনসম্পর্ক আধিকারিক (PIO),
[দপ্তরের নাম ও ঠিকানা]

বিষয়ঃ তথ্য অধিকার আইন, ২০০৫ এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী তথ্যের জন্য আবেদন।

মহোদয়,

আমি নিম্নলিখিত বিষয়ে তথ্য জানতে ইচ্ছুক। অনুগ্রহ করে সার্টিফায়েড কপি সহ নিম্নলিখিত তথ্যগুলি প্রদান করুন:

১. [আপনার প্রথম প্রশ্ন স্পষ্টভাবে লিখুন]
২. [দ্বিতীয় প্রশ্ন]
৩. [তৃতীয় প্রশ্ন]

আমি একজন ভারতীয় নাগরিক। আবেদন ফি ₹১০ এর IPO নং [IPO নম্বর] সংযুক্ত করা হল।

ধন্যবাদান্তে,
[আপনার নাম]
[সম্পূর্ণ ঠিকানা]
ফোনঃ [মোবাইল নম্বর]
ইমেলঃ [ইমেল আইডি]
সাক্ষরঃ ______________

পর্ব ২: FIR কী এবং কেন জরুরি?

FIR (First Information Report) হল কোনো জামিন-অযোগ্য অপরাধের (Cognizable Offence) লিখিত রেকর্ড যা পুলিশ থানায় দায়ের করা হয়। এটি অপরাধমূলক মামলার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি।

📜 আইনি ভিত্তি: FIR এর বিধান ছিল পূর্বে CrPC Section 154 এ। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর নতুন আইন Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita (BNSS), 2023 এর Section 173 অনুযায়ী FIR দায়ের হয়।

Cognizable vs Non-Cognizable অপরাধ

Cognizable অপরাধ (FIR)Non-Cognizable অপরাধ (NCR)
খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, অপহরণমারামারি, মানহানি, প্রতারণা (ছোট)
পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারেম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার নয়
পুলিশ সরাসরি তদন্ত করতে পারেম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি প্রয়োজন
FIR দায়ের বাধ্যতামূলকশুধু NCR (Non-Cognizable Report)

FIR লেখার সঠিক নিয়ম

একটি ভালো FIR লেখার জন্য নিচের বিষয়গুলি অবশ্যই মনে রাখবেন:

🔍 FIR এ যা যা অবশ্যই থাকতে হবে

  • অপরাধের তারিখ ও সময়: যতটা সম্ভব নির্দিষ্টভাবে
  • অপরাধের স্থান: সম্পূর্ণ ঠিকানা সহ
  • অপরাধের ধরন: কী ঘটেছে - বিস্তারিত বর্ণনা
  • অভিযুক্তের পরিচয়: নাম, বিবরণ, যদি চেনা থাকে
  • সাক্ষীদের নাম: যদি কেউ ঘটনা দেখে থাকেন
  • অভিযোগকারীর পরিচয়: সম্পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ফোন
  • প্রমাণ: ছবি, ভিডিও, মেডিক্যাল রিপোর্ট ইত্যাদি

📋 FIR দায়ের করার ধাপে ধাপে পদ্ধতি

  1. ধাপ ১: অপরাধ ঘটার স্থানের নিকটতম থানায় যান (অথবা Zero FIR - পরে আলোচনা)।
  2. ধাপ ২: Duty Officer বা Station House Officer (SHO) এর সাথে দেখা করুন।
  3. ধাপ ৩: বিস্তারিতভাবে ঘটনা বর্ণনা করুন - ঘটনাক্রম, স্থান, সময়, অভিযুক্ত, প্রমাণ।
  4. ধাপ ৪: পুলিশ আপনার বক্তব্য লিপিবদ্ধ করবে। লেখা শেষে পুরোটা পড়ে দেখুন।
  5. ধাপ ৫: সব ঠিক থাকলে সাক্ষর করুন। না হলে ভুল সংশোধন করান।
  6. ধাপ ৬: FIR এর কপি বিনামূল্যে নিতে ভুলবেন না - এটা আপনার আইনি অধিকার।
  7. ধাপ ৭: FIR নম্বর, তারিখ ও থানার নাম সংরক্ষণ করুন।

অনলাইনে FIR দায়ের করার পদ্ধতি (পশ্চিমবঙ্গ)

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন অনলাইনে FIR/Complaint দায়ের করার সুবিধা দিয়েছে। বিশেষ করে non-cognizable অপরাধ এবং সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকর।

🌐 গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন লিঙ্ক

🚔 West Bengal Police 🏙️ Kolkata Police 💻 Cyber Crime Portal

অনলাইন FIR দাখিলের ধাপ

  1. আপনার এলাকা অনুযায়ী wbpolice.gov.in বা kolkatapolice.gov.in এ যান।
  2. "Citizen Services" বা "Online Complaint" অপশনে ক্লিক করুন।
  3. নতুন ব্যবহারকারী হলে ইমেল ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করুন।
  4. OTP দিয়ে লগইন করুন।
  5. Complaint Category নির্বাচন করুন (Lost Property, General Diary, Missing Person ইত্যাদি)।
  6. ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিন এবং প্রমাণ আপলোড করুন।
  7. Submit করার পর Complaint Number সংরক্ষণ করুন।
⚠️ মনে রাখবেন: গুরুতর অপরাধের (খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি) ক্ষেত্রে অনলাইন FIR সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। সরাসরি থানায় যেতে হবে। সাইবার অপরাধের জন্য জাতীয় পোর্টাল cybercrime.gov.in বা হেল্পলাইন ১৯৩০ ব্যবহার করুন।

পুলিশ FIR নিতে অস্বীকার করলে কী করবেন?

দুর্ভাগ্যবশত অনেক সময় পুলিশ FIR নিতে চায় না। এটা বেআইনি - Supreme Court এর Lalita Kumari v. Govt of UP (2014) মামলার রায় অনুযায়ী cognizable অপরাধে FIR দায়ের বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে আপনার করণীয়:

🔄 ৪টি আইনি পদক্ষেপ

  1. ১. SP/Commissioner কে লিখিত অভিযোগ (BNSS Section 173(4)):
    জেলার Superintendent of Police (SP) বা Kolkata হলে Commissioner of Police এর কাছে Registered Post এ লিখিত অভিযোগ পাঠান। তিনি তদন্ত করতে বাধ্য।
  2. ২. Magistrate এর কাছে আবেদন (BNSS Section 175(3)):
    Judicial Magistrate এর কাছে ধারা ১৭৫(৩) BNSS অনুযায়ী আবেদন করুন। Magistrate পুলিশকে FIR দায়ের করার নির্দেশ দিতে পারেন।
  3. ৩. Human Rights Commission এ অভিযোগ:
    National Human Rights Commission (NHRC) বা West Bengal Human Rights Commission এ অনলাইনে অভিযোগ করুন।
  4. ৪. High Court এ Writ Petition:
    Article 226 অনুযায়ী Calcutta High Court এ Writ Petition (Mandamus) দায়ের করুন। এটি একটি powerful পদক্ষেপ তবে উকিল লাগবে।

Zero FIR - একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার

Zero FIR হল এমন FIR যা যেকোনো থানায় দায়ের করা যায়, এলাকা (jurisdiction) নির্বিশেষে। অপরাধ যেখানেই ঘটুক, যেকোনো থানা প্রথমে Zero FIR নিয়ে পরে সংশ্লিষ্ট থানায় transfer করে।

🎯 কখন Zero FIR কাজে লাগে:
  • আপনি অন্য রাজ্যে আছেন এবং অপরাধ আপনার নিজের এলাকায় হয়েছে
  • থানা দূরে এবং সময় কম
  • স্থানীয় পুলিশ FIR নিতে চাইছে না
  • ধর্ষণ, অ্যাসিড অ্যাটাক এর মতো জরুরি ক্ষেত্রে

Nirbhaya গণধর্ষণ মামলার পর Justice Verma Committee এর সুপারিশে Zero FIR এর ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়। এটি এখন BNSS Section 173 এর অধীনে আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে।

পর্ব ৩: পুলিশি হয়রানি হলে কী করবেন?

পুলিশি হয়রানি ভারতে একটি মারাত্মক সমস্যা। অনেকেই পুলিশের ভয়ে চুপ থাকেন। কিন্তু সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের রায় আপনাকে সুরক্ষা দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলা:

⚖️ D.K. Basu vs State of West Bengal (1997)
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের জন্য ১১টি বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা (guidelines) জারি করেন। এই guidelines এখনো কার্যকর এবং পুলিশ অমান্য করলে সেটা আদালত অবমাননা।

গ্রেপ্তারের সময় আপনার ১০টি সাংবিধানিক অধিকার

  1. গ্রেপ্তারের কারণ জানার অধিকার (Article 22): পুলিশকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, সেটা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
  2. Name Tag ও ID বাধ্যতামূলক (D.K. Basu Guidelines): গ্রেপ্তারকারী পুলিশের নাম, পদবী স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে।
  3. Arrest Memo তৈরি: গ্রেপ্তারের সময় Arrest Memo তৈরি করতে হবে, যাতে সময়, তারিখ, সাক্ষীর সাক্ষর থাকবে।
  4. পরিবারকে জানানোর অধিকার: গ্রেপ্তারের সাথে সাথে পরিবার বা বন্ধুকে জানাতে হবে।
  5. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট (Article 22(2)): গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।
  6. উকিলের সাথে পরামর্শের অধিকার (Article 22(1)): নিজের পছন্দের আইনজীবীর সাথে দেখা ও পরামর্শ করার অধিকার আছে।
  7. নীরব থাকার অধিকার (Article 20(3)): নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য নন।
  8. মেডিক্যাল পরীক্ষা: গ্রেপ্তারের সময় ও প্রতি ৪৮ ঘণ্টা অন্তর মেডিক্যাল পরীক্ষার অধিকার।
  9. মহিলাদের বিশেষ অধিকার: সূর্যাস্তের পর ও সূর্যোদয়ের আগে মহিলাদের গ্রেপ্তার করা যাবে না (BNSS Section 43)। মহিলা পুলিশ অফিসার ছাড়া মহিলাদের গ্রেপ্তার করা যাবে না।
  10. নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা (Article 21): শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ বেআইনি। নির্যাতন হলে Medical Report সংগ্রহ করুন।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ৫টি পথ

যদি কোনো পুলিশ সদস্য আপনাকে হয়রানি, মারধর বা অবৈধভাবে আটক করেন, নিচের পাঁচটি পথে অভিযোগ করতে পারেন:

১. 🏢 Senior Police Officer (DSP/SP/DIG)

প্রথমে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার senior অফিসার (DSP, SP, DIG) এর কাছে লিখিত অভিযোগ করুন। অভিযোগে অবশ্যই উল্লেখ করবেন:

  • অভিযুক্ত পুলিশের নাম ও পদবী (যদি জানা থাকে)
  • ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান
  • সাক্ষীদের নাম
  • মেডিক্যাল রিপোর্ট (মারধরের ক্ষেত্রে)

২. 🏛️ Police Complaints Authority (PCA)

সুপ্রিম কোর্টের Prakash Singh vs Union of India (2006) রায় অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যে PCA থাকতে বাধ্য। পশ্চিমবঙ্গে এটি State Police Complaints Authority নামে পরিচিত।

৩. 👥 Human Rights Commission

  • National Human Rights Commission (NHRC): nhrc.nic.in - অনলাইনে ফ্রি অভিযোগ
  • West Bengal Human Rights Commission: wbhrc.nic.in
  • হেল্পলাইন: ১৪৪৩৩ (NHRC)

৪. ⚖️ Magistrate এর কাছে অভিযোগ

CrPC এর Section 200 (এখন BNSS Section 210) অনুযায়ী সরাসরি Judicial Magistrate এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। Magistrate তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।

৫. 🏛️ High Court এ Writ Petition

গুরুতর পুলিশি হয়রানির ক্ষেত্রে Calcutta High Court এ Article 226 অনুযায়ী Writ Petition দায়ের করুন। বিশেষ করে:

  • Habeas Corpus (অবৈধ আটক)
  • Mandamus (FIR দায়ের করানো)
  • Compensation for custodial violence
💰 ক্ষতিপূরণের অধিকার: Nilabati Behera vs State of Orissa (1993) মামলার রায় অনুযায়ী, পুলিশের দ্বারা অবৈধ আটক বা নির্যাতন হলে রাষ্ট্র থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ (compensation) পাওয়ার অধিকার আছে।

🆘 জরুরি হেল্পলাইন নম্বর

সেবানম্বর
পুলিশ (জরুরি)১০০ / ১১২
মহিলা হেল্পলাইন১০৯১ / ১৮১
শিশু হেল্পলাইন১০৯৮
সাইবার ক্রাইম১৯৩০
NHRC১৪৪৩৩
Kolkata Police Control Room২২৫০-৫০০০
Legal Aid (NALSA)১৫১০০

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

❓ RTI দাখিলের ফি কত?

RTI দাখিলের সাধারণ ফি ₹১০। BPL (Below Poverty Line) কার্ডধারীদের জন্য এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে BPL প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

❓ RTI এর উত্তর না পেলে কী করব?

৩০ দিনের মধ্যে উত্তর না পেলে বা অসন্তুষ্ট হলে ৩০ দিনের মধ্যে First Appellate Authority এর কাছে আপিল করুন। সেখানেও সন্তুষ্ট না হলে ৯০ দিনের মধ্যে Central/State Information Commission এ দ্বিতীয় আপিল দাখিল করুন।

❓ FIR দায়ের করতে কি টাকা লাগে?

না, FIR দায়ের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কেউ টাকা চাইলে সেটা ঘুষ এবং বেআইনি। FIR এর কপিও বিনামূল্যে পাওয়ার অধিকার আছে।

❓ পুলিশ FIR নিতে অস্বীকার করলে?

BNSS Section 173(4) অনুযায়ী Superintendent of Police (SP) এর কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠান। কাজ না হলে Section 175(3) BNSS অনুযায়ী Magistrate এর কাছে আবেদন করুন। অথবা High Court এ Writ Petition দায়ের করা যায়।

❓ Zero FIR কী?

Zero FIR হল এমন FIR যা যেকোনো থানায় এলাকা নির্বিশেষে দায়ের করা যায়। পরে সেটি সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানান্তর হয়। জরুরি ক্ষেত্রে (ধর্ষণ, খুন) এটি জীবন বাঁচাতে পারে।

❓ পুলিশ মারধর করলে কী করব?

প্রথমে যেকোনো সরকারি হাসপাতালে গিয়ে Medical Examination করান - এটি আপনার প্রমাণ। তারপর DSP/SP এর কাছে লিখিত অভিযোগ, NHRC/SHRC তে অনলাইন অভিযোগ এবং প্রয়োজনে High Court এ Writ Petition দায়ের করুন।

❓ গ্রেপ্তারের পর কতক্ষণে উকিল পেতে পারি?

Article 22(1) অনুযায়ী গ্রেপ্তারের সাথে সাথেই উকিলের সাথে পরামর্শের অধিকার আছে। টাকা না থাকলে NALSA এর মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সাহায্য (Legal Aid) পাওয়া যায় - হেল্পলাইন ১৫১০০।

❓ রাতে মহিলাদের গ্রেপ্তার করা যায়?

না। BNSS Section 43(5) অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর ও সূর্যোদয়ের আগে সাধারণত মহিলাদের গ্রেপ্তার করা যায় না। একান্ত প্রয়োজনে মহিলা পুলিশ অফিসার এবং Magistrate এর লিখিত অনুমতি লাগবে।

🔖 উপসংহার

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে RTI দাখিল, FIR লেখা এবং পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিকার - এই তিনটি আইনি অস্ত্র আপনার হাতে থাকলে আপনি কখনোই অসহায় নন। সংবিধান ও আইন সাধারণ নাগরিকের পক্ষে - শুধু জানতে হবে কীভাবে এই অধিকারগুলি ব্যবহার করতে হয়।

মনে রাখবেন - "আইন জানা নাগরিক হল ক্ষমতাবান নাগরিক।" আপনার অধিকার জানুন, অন্যকে জানান এবং প্রয়োজনে নির্ভয়ে ব্যবহার করুন।

⚠️ Disclaimer: এই পোস্টটি সাধারণ তথ্যের জন্য লেখা। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যার জন্য অবশ্যই একজন যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন। আইন পরিবর্তনশীল - পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নিন।

এই পোস্ট ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান - আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

সম্পর্কিত পোস্ট:

RTI কীভাবে দাখিল করবেন, FIR লেখার নিয়ম ও পুলিশি হয়রানিতে আপনার আইনি অধিকার RTI কীভাবে দাখিল করবেন, FIR লেখার নিয়ম ও পুলিশি হয়রানিতে আপনার আইনি অধিকার Reviewed by Wisdom Apps on এপ্রিল ১৯, ২০২৬ Rating: 5

ক্রেতা বা ভোক্তা সুরক্ষা আইন, 1986 (সংশোধিত, 2002)

অক্টোবর ০৭, ২০২৫

প্রারম্ভিক কথন ও সংজ্ঞা

প্রারম্ভিক কথন (Preliminaries) :

দেশের উন্নতির মূলে আছে উৎপাদন এবং উৎপাদন বিক্রির কেন্দ্রে আছে ক্রেতারা। আমাদের দেশের এই ক্রেতারা অধিকাংশই অশিক্ষিত ও অসংগঠিত। এই অশিক্ষা ও অসংগঠনের কারণে, বাজার থেকে সঠিক দামে সঠিক দ্রব্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষমতা তাদের সীমাবদ্ধ থাকায়, তারা ব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রতারিত ও প্রবঞ্চিত হয়। কারণ, ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত থাকায় ক্রেতাদেরকে প্রতারিত করার সুযোগ তাদের হাতে অনেক বেশি।



স্বাধীনতার পর ভারতে দ্রুত শিল্পায়ন ও শিল্পোন্নয়ন ঘটে এবং পরবর্তীকালে সরকার বিশ্ববাজারের দরজা খুলে দিলে, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত হয়ে পড়ে এই ভেবে যে, নিম্নমানের জিনিস তৈরি করে, তারা বিদেশি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাঁড়াতে পারবে না।

ব্যবসায়ীদের প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার হাত থেকে ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষা করার জন্য 1986 সালে ভারত সরকার ক্রেতা বা ভোক্তা সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্বাধীন ভারতে জনস্বার্থ সংক্রান্ত যেসব আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ক্রেতা বা ভোক্তা সুরক্ষা আইনটি, অন্যতম একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। ক্রেতা বা ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষার জন্য 1986 সালে প্রণীত আইনটি দু'বার সংশোধিত ও পরিমার্জিত করা হয়েছে – প্রথম সংশোধনটি হয় 1993 সালে ও দ্বিতীয়ত সংশোধনটি ঘটে 2002 সালে এবং এই সংশোধনী আইন 2003 সালের 15ই মার্চ থেকে কার্যকরী হয়েছে।

আইন চালু হওয়ার সময় ও স্থান (Time and Place of Introducing the Act):

1986 সালের 24 শে ডিসেম্বর থেকে এই আইনটি বলবৎ হয়। জম্মু ও কাশ্মীর ছাড়া এই আইন ভারতের সর্বত্র প্রযোজ্য।

এই আইনের উদ্দেশ্য (Purpose of the Act) :

1. এই আইন ক্রেতা বা ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ক্রেতাদের পরিষেবার জন্য তৈরি হয়েছে।

2. এই আইন ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নতি বর্ধনের রক্ষাকবচ। ভোক্তাদের এই অধিকারগুলি নিম্নরূপ-

(a) কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করার ফলে, ক্রেতার জীবন ও সম্পত্তি বিপন্ন হলে, এই আইনের সাহায্য নেওয়ার অধিকার ক্রেতাদের আছে।

(b) অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রতিকার করার ও বিবেকবর্জিত শোষণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই আইনের সাহায্য নেওয়ার অধিকার ক্রেতার আছে।

(c) অধিকার সংক্রান্ত সচেতনার শিক্ষা গ্রহণ করার অধিকার ক্রেতাদের রয়েছে।

(d) প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে যতদূর সম্ভব বিভিন্ন ধরনের ও গুণমানের দ্রব্য ক্রয় করার অধিকার ক্রেতাদের আছে।

(e) অসাধু ব্যবসায়িক কার্যকলাপের কবল থেকে রক্ষা পাবার এবং ভোগ্যদ্রব্যের প্রকৃতিগত গুণ, পরিমাণ, শুদ্ধতা, গুণমান ও মূল্য সম্বন্ধীয় তথ্য জানবার অধিকার ক্রেতাদের আছে।

(f) ক্রেতাদের যথোপযুক্ত স্বার্থ রক্ষার জন্য বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ও সুবিবেচনা পাওয়ার অধিকার ক্রেতাদের আছে।

3. উপরোক্ত অধিকার ছাড়া, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হল, ক্রেতাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সেই উদ্দেশ্যে ক্রেতা-সংশ্লিষ্ট বিবাদের মীমাংসার জন্য ক্রেতা পরিষদ গঠন করা।

4. ক্রেতাদের বিবাদের দ্রুত ও সহজ প্রতিকারের জন্য জেলাস্তরে, রাজ্যস্তরে ও জাতীয়স্তরে উপআদালত (Quari judicial) নামক নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্থাপন। স্বাভাবিক ন্যায়বোধের নীতি অনুসরণ করে এরূপ সংস্থা ক্রেতাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ জারি করতে এবং এই আদেশ অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।

সংজ্ঞাসমূহ (Definitions):

1. যথোপযুক্ত পরীক্ষাগার (Appropriate laboratory): যথোপোযুক্ত পরীক্ষাগার বলতে এমন কোনো পরীক্ষাগার বা সংস্থাকে বোঝায় যা一

(a) কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা স্বীকৃত; অথবা,

(b) কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি-নির্ধারক নির্দেশাবলি সাপেক্ষে রাজ্য সরকার দ্বারা স্বীকৃত; অথবা,

(c) পণ্যের ত্রুটি সংক্রান্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা বা বিশ্লেষণ চালাবার জন্য অন্য কোনো আইন দ্বারা সৃষ্ট এমন কোনো ধরনের পরীক্ষাগার বা সংস্থা যা কেন্দ্রীয় সরকার, বা রাজ্য সরকারের অর্থে বা আর্থিক সাহায্যে পরিচালিত।

2. শাখা কার্যালয় (Branch Office): শাখা কার্যালয় বলতে এমন কোনো

শাখা দপ্তরকে বোঝায়, যা প্রধান কার্যালয়ের মূল কাজকর্ম বা মোটের ওপর একই কাজকর্ম পরিচালনা করে।

3. অভিযোগকারী (Complainant): অভিযোগকারী বলতে বোঝায়-

(a) ক্রেতা বা ভোক্তা নিজে; অথবা

(b) 1956 সালের কোম্পানি আইন অথবা, অন্য কোনো প্রচলিত সমকালে কার্যকরী আইন দ্বারা নিবন্ধিত কোনো স্বেচ্ছামূলক উপভোক্তা সমিতি; অথবা,

(c) কেন্দ্রীয় সরকার বা কোনো রাজ্যসরকার যখন কোনো অভিযোগ দায়ের করে; অথবা,

(d) একই স্বার্থসংশ্লিষ্ট বহু সংখ্যক ভোক্তা বা ক্রেতার মধ্য থেকে এক বা একাধিক ভোক্তা বা ক্রেতা।

2002 সালের ভোক্তা বা ক্রেতা (সংশোধিত) আইনে সংযোজিত হয়েছে যে, কোনো ভোক্তার মৃত্যু ঘটলে, সেই ভোক্তার আইনগত উত্তরাধিকারী বা প্রতিনিধিও অভিযোগকারীর আওতার অন্তর্ভুক্ত হবে।

4. অভিযোগ (Compleaint): অভিযোগ বলতে বোঝায়, অভিযোগকারীর লিখিত নালিশ এবং সেই নালিশের ধরণগুলো নিম্নরূপ-

(a) অসাধু ব্যবসায়িক কার্যকলাপ অথবা সীমায়িত বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবসায়িক কার্যকলাপের জন্য ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সে নালিশ করতে পারে।

(b) ক্রীতপণ্যে বা কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ পণ্যে যদি এক বা একাধিক ত্রুটি থাকে, তা হলে ক্রেতা নালিশ করতে পারে।

(c) ক্রেতা ব্যবহার করতে দেওয়া বা গৃহীত পরিষেবায় সন্তুষ্ট না হলে অর্থাৎ সেবায় কোনো ঘাটতি থাকলে, ভোক্তা বা ক্রেতা অভিযোগ করতে পারে।

(d) কোনো আইন বা সমকালে কার্যকরী প্রচলিত কোনো আইনের দ্বারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কোনো পণ্য বিক্রি করলে, বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অভিযোগ করার অধিকার আছে।

(e) ব্যবহারের সময় জীবন ও নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর দ্রব্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, ক্রেতাকে দ্রব্যের বিপজ্জনক ও ক্ষতিকারক দিকটি অবহিত করার সময়কালে কার্যকরী আইনানুগ দায়িত্ব বিক্রেতা পালন না করলে, এবং এর ফলে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সে বিক্রেতার বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারে।

2002 সালের ভোক্তা বা ক্রেতা (সংশোধিত) আইন দ্বারা সংযোজিত অভিযোগের সংজ্ঞাকে আরও প্রশস্ত করার জন্য এই সংজ্ঞায় আরও কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সেগুলি নিম্নরূপ-

(A) কোনো পরিষেবা সরবরাহকারী, যদি কোনো অসাধু অথবা সীমায়িত বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবসায়িক কার্যকলাপ গ্রহণ করে অথবা, নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে যদি পরিষেবা বিক্রি করে অথবা, জীবন ও নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকারক কোনো পরিষেবা যদি সরবরাহ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে নালিশ করার অধিকার ভোক্তার থাকে।

5. ভোক্তা বা ক্রেতা (Consumer):

(a) ভোক্তা বা ক্রেতা হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যে প্রদানের (consideration) বিনিময়ে কোনো পণ্যদ্রব্য ক্রয় করে। এরূপ প্রতিদান পূর্ণরূপে প্রদান করা যায় অথবা, প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায় বা, আংশিকভাবে প্রদান করা যায় বা, আংশিক প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রদান করা যায়। প্রতিদানের পূর্ণ প্রদান ছাড়া, সবরকম আংশিক প্রদানই কোনো বিলম্বিত মূল্যপ্রদান পদ্ধতিগত (detered payment system) চুক্তির মাধ্যমে করতে হয়। পণ্যের বণ্টন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ের ভোগকারীকেই ক্রেতা বা ভোক্তা বলে। পুনরায় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অথবা উৎপাদন পদ্ধতির উপাদান হিসেবে, বাণিজ্যিক ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে কোনো পণ্য ক্রয় করলে, সেরূপ ব্যক্তিকে ক্রেতা বা ভোক্তা বলা যায় না।

(b) ভোক্তা বা ক্রেতা হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যে প্রতিদানের (consider-ation) বিনিময়ে কোনো পরিষেবা ক্রয় করে। পরিষেবা পাওয়ার বিনিময়ে এরূপ প্রতিদান পূর্ণরূপে প্রদান করা যায় অথবা, প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা আংশিক প্রদান করে বা অবশিষ্ট অংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে করা যায়। প্রতিদানের পূর্ণ প্রদান ছাড়া সবরকম আংশিক প্রদানই কোনো বিলম্বিত মূল্যপ্রদান পদ্ধতিগত চুক্তির মাধ্যমে করতে হয়। প্রতিদান প্রদানকারী ব্যক্তির অনুমতি সাপেক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি পরিষেবা ভোগ করলে, সেই ব্যক্তিকেও ক্রেতা বা ভোক্তারূপে গণ্য করা হয়।

2002 সালের ভোক্তা বা ক্রেতা (সংশোধিত) আইনের নতুন সংযোজন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কোনো পরিষেবা ক্রয় করলে, সেই ব্যক্তিকে ক্রেতা বা ভোক্তা বলা যায় না।

6. ক্রেতা বা ভোক্তা বিরোধ (consumer despute): অভিযোগকারী যখন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এবং সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি সেই অভিযোগকে অস্বীকার করে বা সেই অভিযোগের বিরোধিতা করে, তাহলে তা ক্রেতা বা ভোক্তা বিরোধ বলে গণ্য হবে। এই অভিযোগ পেশ ও অভিযোগ অস্বীকার দুই-ই লিখিতভাবে করতে হবে।

7. ঘাটতি (Deficiency) : কোনো ক্রয়-চুক্তি সম্পাদন দ্বারা, বা সমকালে কার্যকরী প্রচলিত কোনো আইন অনুসারে, পরিষেবার উৎকৃষ্টতা ও গুণগত মানের

মধ্যে কোনো দোষ, অসম্পূর্ণতা বা অপর্যাপ্ততা থাকলে তাকে ঘাটতি বলে।

8. ত্রুটি (Defect): ক্রয়-চুক্তি সম্পাদন দ্বারা বা সমকালে কার্যকরী প্রচলিত কোনো আইন অনুসারে, কোনো পণ্যের পরিমাণগত, গুণগত, কার্যকরী ক্ষমতা ও বিশুদ্ধতার মধ্যে কোনো ঘাটতি, দোষ বা অসম্পূর্ণতা থাকাকেই ত্রুটি (Defect) বলে।

9. জেলা ফোরাম বা ক্রেতা আদালত (Destriedt forum): যেখানে ক্রেতাদের পণ্য বা পরিষেবা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা করা হয়, তাকে ক্রেতা আদালত বলে। ক্রেতা সুরক্ষা আইনের 9(a) নং ধারা অনুযায়ী ক্রেতা বিরোধ মেটানোর জন্য প্রতি জেলাতেই এক বা একাধিক ক্রেতা আদালত থাকে।

10. পণ্য বা দ্রব্য (Goods): 1930 সালের পণ্য বিক্রয় আইনে (Sale of

Goods Act, 1930) পণ্যের সংজ্ঞা দেওয়া আছে। ওই সংজ্ঞা দেওয়া আছে। ওই আইনের 2(7) নং ধারায় বলা হয়েছে যে, মামলাযোগ্য দাবি (actionable claim) ও বিহিত মুদ্রা ছাড়া, সব ধরনের অস্থাবর সম্পত্তিই পণ্য বলে গণ্য হবে।

11. উৎপাদক (Manufacturer): উৎপাদক বলতে এমন কোনো ব্যক্তিকে বোঝায় যে-

(a) কোনো পণ্য বা তার কোনো অংশ তৈরি করে বা উৎপাদন করে, অথবা,

(b) অন্য কোনো উৎপাদকের তৈরি পণ্যের ওপর তার নিজস্ব কোনো চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করে নিজের উৎপাদিত পণ্য বলে দাবি করে।

2002 সালের ক্রেতা বা ভোক্তা সুরক্ষা (সংশোধি) আইনে সংযোজিত হয়েছে যে, উপরোক্ত (b) ও (c) শ্রেণিভুক্ত পণ্যের উৎপাদক, সেই পণ্যসমূহকে নিজের বলে দাবি না করলেও, ওইসব শ্রেণির পণ্য তার নিজস্ব বলেই পরিগণিত হবে।

12. সদস্য (Member): সদস্য বলতে জাতীয় কমিশন (National Commission), রাজ্য কমিশন (State Commission) ও জেলা ক্রেতা আদালতের (District Forum) সভাপতি স্বয়ং ও অন্যান্য সদস্যবর্গকে বোঝায়।

13. জাতীয় কমিশন (National Commission): জাতীয় কমিশন বলতে বোঝায়, কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ক্রেতা বিরোধ প্রতিকার কমিশন (National Consumer Dispute Redressal Commission)।

14. বিজ্ঞপ্তিপত্র (Notification): সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ইস্তেহারকে বিজ্ঞপ্তি পত্র বলে।

15. ব্যক্তি (Person): ব্যক্তি বলতে বোঝায়-

(a) একটি অংশীদারি কারবার-সেটি নিবন্ধিতই হোক বা অনিবন্ধিত।

(b) একটি যৌথ হিন্দু পরিবার।

(c) কোনো সমবায় সমিতি।

(d) 1860 সালের সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন আইন দ্বারা নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের সমিতি।

16. সীমায়িত বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যাবসায়িক কার্যকলাপ (Restrictive trade practice): সীমায়িত ব্যবসায়িক কার্যকলাপ বলতে সেইসব ব্যবসায়িক কার্যকলাপকে

বোঝায়, যেসব কার্যকলাপের মাধ্যমে ক্রেতা কোনো পণ্য বা পরিষেবা কেনা, ভাড় 'নেওয়া অথবা, পাওয়ার জন্য পণ্য কোনো পণ্য বা পরিষেবা কেনার পূর্বশর্ত আরোপিত করা।

2002 সালের ক্রেতা বা ভোক্তা (সংশোধিত) আইনে সীমায়িত ব্যবসায়িক

কার্যকলাপের সংজ্ঞাকে আরো বিস্তৃত বা প্রসারিত করে বলা হয়েছে যে, কৌশল গতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে পণ্যের মূল্য বা পণ্য অর্পণের শর্ত বা পণ্য সরবরাহের জোগান নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যায়ভাবে ভোক্তার ওপর চাপ বা নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করা এবং ওইসব কার্যকলাপের জন্য নির্ধারিত উত্তরণের বিলম্বের জন্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াও সীমায়িত ব্যাবসায়িক কার্যকলাপের আওতায় আসবে। এরপর পূর্বশর্ত আরোপকেই ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতা বলে।

17. সেবা পরিষেবা (Services): সেবা বা পরিষেবা বলতে সেইসব সেবামূলক

কাজকে বোঝায়, যেগুলি ক্রেতার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়, অর্থাৎ ক্রেতার কাছে যেসব সেবার উপযোগিতা আছে এবং যেসব সেবা ক্রেতা বা ভোক্তা অর্থের বিনিময়ে লাভ করে, সেইসব সেবাই আইনত সেবামূলক কাজ বলে গম্য হবে। কিন্তু যেসব সেবার জন্য কোনো মূল্য দিতে হয় না, অথবা, ব্যক্তিগত চুক্তিতে যে সেবাদান করা হয়, তাকে সেবা বলে গণ্য করা হয় না। আইনত সেবামূলক কাজ বলতে যেসব পরিষেবাকে বোঝায়, সেগুলির কয়েকটি উদাহরণ হল-ব্যাঙ্কিং, অর্থজোগান (financing), বিমা (insurance), পরিবহন (transport), বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো শক্তির সরবরাহ (electrical or other energy) আমোদ-প্রমোদ ও বিনোদন, তথ্য সরবরাহ (Purveying of news or other information), থাকা খাওয়া (boarding and lodging) ইত্যাদি।

2002 সালের ক্রেতা বা ভোক্তা (সংশোধিত) আইনে পরিষেবার সংজ্ঞাকে আরও সুস্পষ্ট করার জন্য বলা হয়েছে যে, আইনের ব্যাখ্যার ওপরে উল্লিখিত যেসব পরিষেবার নাম করা হয়েছে, সেগুলো শুধুমাত্র উদাহরণ।

18. রাজ্য কমিশন (State Commission): রাজ্য কমিশন বলতে বোঝায়, রাজ্য সরকার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রাজ্য ক্রেতা বিরোধ প্রতিকার কমিশন (State Consumer Disputer Redressal Commission)। বিজ্ঞপ্তি জারি করে, রাজ্য সরকারকে এই কমিশন প্রতিষ্ঠা বা স্থাপন করতে হয়।

19. অন্যায্য বা অনৈতিক ব্যবসায়িক কার্যকলাপ (Unfair trade practice): কোনো পণ্য বা পরিষেবার বিক্রয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে, যে অন্যায্য পদ্ধতি বা প্রতারণামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়, তাকে অন্যায্য বা অনৈতিক ব্যবসায়িক কার্য বলে।

(a) অন্যায্য বা অনৈতিক ব্যবসায়িক কার্যকলাপ লিখিত হতে পারে, আবার মৌখিকও হতে পারে। এমনকি, এসব কার্যকলাপ প্রতিনিধি মারফতও হতে পারে। অর্থাৎ কোনো ব্যবসায়ী যদি অনৈতিকভাবে কোনো ভ্রান্তিমূলক বা প্রতারণামূলক

বিজ্ঞাপন (মৌখিক বা লিখিত যাই হোক না কেন) দেয়, তাহলে সেই কাজ অন্যায্য বা অনৈতিক কার্যকলাপ বলে গণ্য হবে। এ ধরনের অন্যায্য বা অনৈতিক কার্যকলাপ নিম্নরূপ হয়।-

(i) যদি পণ্যের উৎকর্ষতা, গুণগত মান, পরিমানগত মান, গুণ বা মূল্যগত পর্যায়, গুণ বা মূল্যগত পর্যায়, বস্তুগত মিশ্রণ, কেতাদুরস্ততা, মডেল বা প্রতিমান ইত্যাদি সম্পর্কে বিজ্ঞাপনে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া হয়।

(ii) যদি পরিষেবার উৎকর্ষতা, গুণগতমান, পর্যায় ইত্যাদি বিষয়ে বিজ্ঞাপনে মিথ্যা বর্ণনা দেওয়া হয়।

(iii) ব্যবহৃত হওয়া কোনো পুরোনো দ্রব্যকে পুনর্নির্মান বা নতুনভাবে মেরামত করে নতুন পণ্য হিসেবে যদি উপস্থাপিত করা হয়।

(iv) কোনো পণ্য বা পরিষেবা উৎপাদনের জামিনদার, অনুমোদন, সাফল্য, বিশিষ্টতা, গৌণভাবে সহায়কতা, ব্যবহারযোগ্যতা অথবা কোনো ফয়দা বা সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও এসব আছে বলে প্রচার করা।

(v) পণ্য বিক্রেতা বা পণ্য সরবরাহকারীর পণ্যের জমিদারি বা অনুমোদন বা সংযুক্তিকরণ ইত্যাদি না থাকা সত্ত্বেও, ওইসব আছে বলে প্রতিভাত করা।

(vi) কোনো পণ্য বা পরিষেবার উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন।

(vii) কোনো পণ্যের কার্যকারিতা, ফলপ্রদতা ও জীবনকাল সম্বন্ধে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই যদি ওইসব গুণগত মানের জন্য জমিন (guarantee) ও নির্ভরপত্র (warranty) প্রদান সম্বন্ধে জনসাধারণকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

(viii) জনসাধারণের কাছে এমনভাবে উপস্থাপনা করা হবে, যাতে সাধারণ অর্থে মনে হবে যে,

(a) কোনো পণ্য বা পরিষেবার জন্য জামিন অথবা নির্ভরপত্র দেওয়া হল;

(b) কোনো পণ্য পুনঃস্থাপন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে দেওয়ার জন্য অথবা কোনো পরিষেবা পুরনরাবৃত্তি বা চালিয়ে যাবার জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল;

এবং উক্তরূপ জামিন বা নির্ভরপত্র বা প্রতিশ্রুতি বিভ্রান্তিকর ছাড়া আর কিছু নয় এবং ওইরূপ জামিন বা নির্ভরপত্রের শর্ত সম্পাদনের কোনো যুক্তিযুক্ত সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না।

(ix) কোনো পণ্য বা অনুরূপ পণ্য অথবা কোনো পরিষেবার বাজার দাম সম্বন্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়।

(x) অপর কোনো ব্যক্তির পণ্য বা পরিষেবা সম্বন্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করে যদি তথ্য পরিবেশন করে যদি ওইসব পণ্য, পরিষেবা অথবা ওই ধরনের ব্যবসা সম্বন্ধে হেয় বা তাচ্ছিল্য করা হয়।

(b) দর কষাকষির মাধ্যমে বিক্রয় (Bargain sale): দর কষাকষির মাধ্যমে কোনো পণ্য বিক্রয় ও পরিষেবা সরবরাহ করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও, যদি কোনো

ব্যবসায়ী ওইরূপ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো বিজ্ঞাপন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়, তাহলে তা অনৈতিক ব্যবসায়ী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে।

(c) বিক্রয় প্রসার কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা (Breach of sales promotion programme) : বিক্রয় প্রসার ও বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী যদি বিনামূল্যে কোনো উপহার, পুরস্কার বা পরিতোষিক দেওয়ার কথা ঘোষণা করে, কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ঘোষণা কার্যকরী না করে, তাহলে ওই কাজকে অনৈতিক ব্যবসায়িক কাজ হিসেবে গণ্য করা হবে।

(d) পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে ভ্রান্তিকর বর্ণনা (False description of quality of goods): কোনো ব্যবসায়ী যদি কোনো পণ্যের উৎকর্ষের গুণগত মান যা, তার চেয়ে বেশি উৎকৃষ্টতা দাবি করে, তাহলে তা অনৈতিক ব্যবসায়ী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে।

(e) মজুতদারি (Hoafding): কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে, দাম বাড়ানোর জন্য

কোনো ব্যবসায়ী যদি অবৈধভাবে বেশি পরিমাণ পণ্য মজুত রাখে, বা পণ্য নষ্ট করে ফেলে, তাহলে ওইসব কাজ অনৈতিক কাজ হিসেবে গণ্য হবে।


ক্রেতা বা ভোক্তা সুরক্ষা আইন, 1986 (সংশোধিত, 2002)  ক্রেতা বা ভোক্তা সুরক্ষা আইন, 1986 (সংশোধিত, 2002) Reviewed by Wisdom Apps on অক্টোবর ০৭, ২০২৫ Rating: 5

ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী কি কি ? সংক্ষেপে জেনে নিন

নভেম্বর ৩০, ২০২৪

ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী



ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান। তিনি ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী দেশের সমস্ত কার্যাবলীর উপর নিয়ন্ত্রণ রক্ষাকারী ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মূলত তিনটি বিভাগে বিভক্ত—সাংবিধানিক, কার্যনির্বাহী এবং বিচারিক। এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলীর উপর আলোকপাত করব।


১. সাংবিধানিক ক্ষমতা (Constitutional Powers)

রাষ্ট্রপতি ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রধান প্রতীক। তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা দেশ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ:

  • আইন প্রণয়ন: সংসদে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া আইনে পরিণত হতে পারে না।
  • সংসদ ভঙ্গ ও আহ্বান: তিনি সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা ভঙ্গ করতে পারেন।
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণা: সংবিধানের ৩৫২, ৩৫৬ এবং ৩৬০ ধারায় তিনি জাতীয়, রাষ্ট্রিক বা আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
  • শপথবাক্য প্রদান: প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, এবং বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে শপথবাক্য পাঠ করানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির।

২. কার্যনির্বাহী ক্ষমতা (Executive Powers)

রাষ্ট্রপতির কার্যনির্বাহী ক্ষমতা দেশের প্রশাসনিক কার্যাবলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ:

  • প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ: সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করা হয়।
  • গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ: সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি, রাজ্যপাল, সেনাপ্রধান প্রমুখ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ করেন।
  • পরামর্শ গ্রহণ: তিনি মন্ত্রিসভার পরামর্শে কাজ করেন, তবে কিছু বিষয়ে নিজের বিবেচনা ব্যবহার করতে পারেন।

৩. বিচারিক ক্ষমতা (Judicial Powers)

রাষ্ট্রপতির বিচারিক ক্ষমতা তাঁকে জাতির ক্ষমাশীল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে:

  • ক্ষমা ঘোষণা: রাষ্ট্রপতি মৃত্যুদণ্ড সহ বিভিন্ন শাস্তি মকুব করতে পারেন।
  • আবেদন গ্রহণ: উচ্চ আদালতে পেন্ডিং কেসগুলির জন্য আবেদন গ্রহণ করতে পারেন।

৪. জরুরি অবস্থায় ক্ষমতা (Emergency Powers)

জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন:

  • জাতীয় জরুরি অবস্থা: দেশের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক বিপদের সময় তিনি ৩৫২ ধারা অনুসারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
  • রাষ্ট্রপতি শাসন: ৩৫৬ ধারা অনুসারে রাজ্যে প্রশাসনিক বিপর্যয় ঘটলে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু করতে পারেন।
  • আর্থিক জরুরি অবস্থা: দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় ৩৬০ ধারা প্রয়োগ করা হয়।


৫. প্রতীকী ক্ষমতা (Symbolic Powers)

রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতীকী প্রধান। তিনি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানানো এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ক্ষমতা রাখেন।

উপসংহার

ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি গভীর প্রভাব ফেলে। যদিও তাঁর বেশিরভাগ ক্ষমতা প্রতীকী, তবুও জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি কার্যত ভারতীয় গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেন। সংবিধানের এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি দেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।



ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী কি কি ? সংক্ষেপে জেনে নিন ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী কি কি ? সংক্ষেপে জেনে নিন Reviewed by Wisdom Apps on নভেম্বর ৩০, ২০২৪ Rating: 5
Blogger দ্বারা পরিচালিত.