Results for বিশেষ রায়

বিয়ে না করেও একসাথে থাকলে কি ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব নিতে হবে ? কি বলছে হাইকোর্ট ?

জুলাই ১৮, ২০১৮

বিয়ে না করেও একসাথে থাকলে কি ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব নিতে হবে ? কি বলছে বোম্বে হাইকোর্ট ? মুম্বাই নিবাসী এক ভদ্র মহিলার ২০ বছর আগে বিয়ে হয় । দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মহিলার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান । এরপর তাঁর সাথে এক সব্জী ব্যাবসায়ীর ভাব জমে এবং দুজনে স্বামী-স্ত্রী'র মত সংসার করতে থাকেন । তারা কখনই সরকারী ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি । চক্ষুলজ্জার ভয়ে অনুষ্ঠান করেও তারা বিয়ে করেননি  । গত ১৫ বছর ধরে মুম্বাইয়ে তারা স্বামী স্ত্রীর মত জীবনযাপন করছিলেন ।  ভদ্রমহিলার প্রথম পক্ষের ছেলে মেয়েরা সব্জী ব্যাবসায়ী ভদ্রলোককে "বাবা" বলে ডাকে এবং প্রতিবেশীরাও তাদের একটি পরিবার হিসাবেই দেখে এসেছে । ২০১২ সালে একটি বিশেষ সমস্যার কারনে ভদ্রমহিলার মনে হয় তার বর্তমান স্বামী ভালো মানুষ নন এবং তিনি তার সাথে ছাড়াছাড়ি করেন ও খোরপোশ দাবি করেন । যেহেতু , দুজনের বৈধ বিবাহের কোনো প্রমান নেই সেইহেতু সেসন কোর্ট মহিলার এই দাবীকে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসাবে রায় দেয় । মহিলা বোম্বে হাইকোর্টে মামলা করেন । 
গতকাল বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি  Dangre জানান -বৈধ ভাবে বিয়ে না করলেও তারা দুজন ১৫ বছর একসাথে  এক ছাদের তলায় থেকেছেন , প্রতিবেশীরা তাদের স্বামী স্ত্রী হিসাবেই জানে , এবং শিশু অবস্থা থেকেই মহিলার প্রথম পক্ষের বাচ্চারা উক্ত ভদ্রলোককেই বাবা মনে করে এসেছে , এহেন অবস্থায় ছাড়াছাড়ি করার ফলে প্রমান হয় সব্জী ব্যবসায়ী ভদ্রলোক উক্ত মহিলাকে এত বছর  ধরে মানসিক অর্থনৈতিক ও শারীরিক ভাবে অপব্যবহার করেছেন সেহেতু Special Anti-Domestic violence law অনুসারে  ভদ্রমহিলা তার ভরণপোষণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ দাবী করতে পারেন । 
বিচারপতি  Dangre সেসন কোর্টের বিচারকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন । 
বিয়ে না করেও একসাথে থাকলে কি ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব নিতে হবে ? কি বলছে হাইকোর্ট ? বিয়ে না করেও একসাথে থাকলে কি ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব নিতে হবে ? কি বলছে হাইকোর্ট ? Reviewed by Wisdom Apps on জুলাই ১৮, ২০১৮ Rating: 5

গভীর প্রেমের সময় যৌনসহবাস করলে সেটা ধর্ষণ বলা যাবে না - হাইকোর্টের রায়

জুলাই ১১, ২০১৮


গভীর প্রেমের সময় যৌনসংগম করলে সেটা কোনোভাবেই ধর্ষণ বলা যাবে না - হাইকোর্টের রায়

যোগেশ পালেকর , গোয়ার একটি হোটেলে শেফের কাজ করেন । ২০১৩ সালে সেই হোটেলেই তার সাথে আলাপ হয় স্মার্ট , সুন্দরী রিনার [ নাম পরিবর্তিত ] সাথে । প্রথম পরিচয়েই প্রেম , এরপর বেশ কয়েকবার ডেটিং করার পর যোগেশ রিনাকে তার বাবা মা'র সাথে দেখা করার জন্য বাড়িতে ডাকেন । কিন্তু যোগেশের বাবা মা মেয়েটির সাথে দেখা করতে না আসায় তারা দু'জন একটু হতাশ হয়ে পড়েন এবং সেইদিন সারারাত এক বাড়িতে থেকে যান । রিনার কথা অনুযায়ী এই দিন তারা প্রথম যৌনমিলন করেন । এরপর থেকে বহুবার যোগেশের বাড়িতে তারা অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছেন । কিন্তু ২০১৭ সালে যোগেশের পরিবার থেকে রিনাকে বিয়ের ব্যাপারে চরম আপত্তি করায় যোগেশ রিনার সাথে ব্রেক আপ করে নেয় ।
রিনা ট্রায়াল কোর্টে - যোগেশের বিরূদ্ধে " বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ " করার অভিযোগে মামলা করেন । মামলায় ট্রায়াল কোর্ট যোগেশকে ৭ বছর জেল ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করে । ট্রায়াল কোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মুম্বাই হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চে যান যোগেশ ।
গতকাল মুম্বাই হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ রায় দিয়েছে - যে সময় যোগেশ ও রিনা যৌনসনহবাস করেছিল সে সময় তারা দুজনে সম্পূর্ণ পরিনত বয়স্ক ছিল এবং পরস্পরের প্রতি গভীর ভালোবাসার তাগিদেই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিল ; এখানে কোনোভাবেই যোগেশকে ধর্ষণের আসামী বলা চলে না । কোর্ট এও বলে - রিনা ও যোগেশ বেশ কয়েকবার সহবাস করেছে এবং তারা আগে কখনও অভিযোগ করেনি । এছাড়াও যোগেশের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট থেকে প্রমান পাওয়া গেছে , রিনা যোগেশকে বহুবার পারিবারিক প্রয়োজনে টাকা দিয়ে সাহায্য করেছে । ধর্ষণকারীকে কেউ টাকা সাহায্য করে না , কেবলমাত্র গভীর ভালোবাসা ছিল বলেই রিনা এটা করেছে বলে কোর্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছে ।
পারিবারিক কারনে যোগেশ রিনাকে বিয়ে করতে আপত্তি করেছে । রিনা ভিন্ন জাতের হওয়ায় যোগেশের পরিবার বিয়েতে চরম আপত্তি জানিয়েছে । ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে না করতে পারা এবং সেই ভালোবাসার মানুষের দ্বারাই ধর্ষক অভিযুক্ত হয়ে যোগেশ খুব ভেঙ্গে পড়েছে এবং সম্প্রতি গোয়ার এক সায়ক্রিয়াটিক কাউন্সিলে চিকিৎসা চালাচ্ছে ।
বিচারপতি Bhadang সমস্ত দিক বিবেচনা করে যোগেশকে সমস্ত সাজা থেকে মুক্ত করেছেন এবং যোগেশের পরিবারকে পরিনত সন্তানদের বিয়ের সিদ্ধান্তে বাধা না দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন ।

বিচারপতি Bhadang এর এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে আরো পরিনত ও আধুনিক চিন্তাধারার উপযোগী করে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন ।
গভীর প্রেমের সময় যৌনসহবাস করলে সেটা ধর্ষণ বলা যাবে না - হাইকোর্টের রায় গভীর প্রেমের সময় যৌনসহবাস করলে সেটা ধর্ষণ বলা যাবে না - হাইকোর্টের রায় Reviewed by Wisdom Apps on জুলাই ১১, ২০১৮ Rating: 5

আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে বিফল হলে সেই ব্যাক্তির সাঁজা হওয়া উচিৎ নয় - রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

জুলাই ১০, ২০১৮



ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের সেকশন-৩০৯ অনুযায়ী - কোনো ব্যাক্তি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলে সেটা দন্ডনীয় অপরাধ । অত্মহত্যায় বিফল হলে আসামীর লঘু দন্ড হিসাবে সর্বোচ্চ ১ বছরের জেল বা জরিমানা হতে পারে । বিশেষ ক্ষেত্রে  জেল ও জরিমানা দুটিই একসাথে হতে পারে । 
গত ১০ই মার্চ ২০১৮ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি D.Y. Chandrachud  একটি কেসের রায় দিতে গিয়ে বলেন - " সন্মানের সাথে বাঁচার অধিকারের ভিতর কোনোভাবেই স্বেচ্ছায় নিজের প্রান ত্যাগ করার অধিকার কে ধরা হয় না । কিন্তু যে ব্যাক্তি আত্মহত্যা করতে চলেছে সে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির শিকার । মানসিক ভাবে ভেঙ্গে না পড়লে কেউ আত্মহত্যা করতে চায় না । Mental Healthcare Act, 2017 এর সেকশন -১১৫ অনুযায়ী  যে ব্যাক্তি আত্মহত্যা করতে চেষ্টা করে সে চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার , তাকে কোনোভাবেই শাস্তি দেওয়া চলে না ; বরং তাকে যত্ন  আর ভালোবাসা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে হবে । " 
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির এই রায়কে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে । পৃথিবীর প্রগতিশীল বহু দেশেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে বিফল হওয়া ব্যাক্তিকে আসামী হিসাবে না দেখে সহানুভূতির চোখে দেখা হয় এবং  মানসিক কাউন্সেলিং করার জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয় । ভারতবর্ষে খুব শীঘ্রই এই ব্যাবস্থা পুরোদমে চালু হবে বলে মনে করা হচ্ছে । 





                               ..................
আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে বিফল হলে সেই ব্যাক্তির সাঁজা হওয়া উচিৎ নয় - রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে বিফল হলে সেই ব্যাক্তির সাঁজা হওয়া উচিৎ নয় - রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট Reviewed by Wisdom Apps on জুলাই ১০, ২০১৮ Rating: 5
Blogger দ্বারা পরিচালিত.