Featured Posts

[বিশেষ রায়][feat1][আইন][feat2]

পণপ্রথা বিরোধী আইন- পন চাইলে কোথায় জানাবেন ? সাজা কি ? পণপ্রথা নিষিদ্ধকরণ আইন বিস্তারিত

অক্টোবর ৩০, ২০২২

dowry law in bengali

পণপ্রথা নিষিদ্ধকরণ আইন, ১৯৬১ (সংশােধনী, ১৯৮৬)

হিন্দু বিবাহে পণপ্রথা একটি দীর্ঘকালের কুপ্রথা। এই প্রথার ফলে বিশেষ করে মহিলারা স্বামীর গৃহে বিশেষভাবে নিগৃহীত হয়। এই কুপ্রথা নিষিদ্ধ করে ১৯৬১ সালে যে আইন তৈরী হয়, তাতে অনেক ফাঁক ছিল বলে সমাজের উপকার হয়নি। উল্টে পণের চাহিদা উৎকট আকারে বাড়তে থাকে, সেই সঙ্গে বঁধু নির্যাতন, আত্মহত্যা বা হত্যা নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। দফায় দফায় আইন সংশােধন করে, শেষে ১৯৮৬ সালে যে আকার নিয়েছে তার বিশেষ প্রয়ােজনীয় অংশগুলি দেওয়া হলো ।

'পণ' কাকে বলে?

বিয়ের উভয়পক্ষের একপক্ষ (বরপক্ষ / কনেপক্ষ) বা তার বাবা বা মা অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন জন যদি দিতে অন্য পক্ষ অথবা তার বাবা বা মা অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন জনকে বিয়ে করার শর্ত হিসাবে বিয়ে উপলক্ষে দ্বিত আগে বা পরে, অথবা অনুষ্ঠানের দিনে সােজাসুজি বা ঘুরপথে কোন সম্পত্তি অথবা মূল্যবান কোন জিনিস (যেমন নগদ টাকা, টিভি, রেফ্রিজারেটর, সােনা ইত্যাদি) দিতে বা দেওয়ার জন্য রাজি থাকেন তবে তাকেই ‘পণ' বলে।

কিন্তু যেসমস্ত ব্যক্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়তী আইন) অনুযায়ী চলেন তাঁদের ক্ষেত্রে 'যৌতুক' বা 'মােহর। (দেন মােহরও বলা হয়) উপরে যে পণের কথা বলা হয়েছে তা এর আওতায় আসবে না।


'পণ' দেওয়া / নেওয়ার শাস্তি

( পণ যে দেয় ও যে নেয় উভয় পক্ষেরই শাস্তি হবে )

* পণ দেওয়া নেওয়া, বা লেনদেনে সাহায্য করার সাজা হবে কমপক্ষে পাঁচ বছর জেল এবং জরিমানা, কমপক্ষে পনের হাজার টাকা অথবা যৌতুকের মূল্য দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি।

কিন্তু কোন রকম জোর জবরদস্তি বা দাবি ছাড়া যদি বর / কনেকে উপহার দেওয়া হয়, তা কোন অপরাধ হবে না । তবে সব উপহারের লিখিত তালিকা রাখতে হবে।

" প্রচলিত রীতি বা আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার দিলে কোন শাস্তির প্রশ্ন উঠবে না (আইনের ফাঁক)।


'পণ দাবি করার শাস্তি -

সোজাসুজি বা ঘুরপথে পণের দাবি করলে সাজা হবে কমপক্ষে ছ' মাস থেকে দু' বছর জেল এবং দশ হাজার টাকা। পর্যন্ত জরিমানা। খবরের কাগজ বা অন্যপ্রচার মাধ্যমে যদি ছেলে/মেয়ে বা অন্য কোনও আত্মীয়ের বিয়ের জন্য টাকা বা ব্যবসায়ভা" বা ঐ ধরণের লােভ দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তবে ছাপাখানা, প্রচারক, প্রকাশকের সাজা হবে ছ' মাস থেকে পাই বছর জেল অথবা পনের হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। )


'পণ' দেওয়া / নেওয়ার অভিযোেগ কার কাছে জানাতে হবে ?

(ক) কোনাে ছেলের বাড়ির লােকেরা যদি পণ দাবি করে তাহলে যার কাছে দাবি করা হয়েছে তিনি নিজে বা কোনাে এন.জি.ওর সাহায্যে থানায় এফআইআর করতে পারেন। আর যদি পুলিশ অভিযােগ না নেয় তবে তার এলাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযােগ জানাতে পারেন।

(খ) রাজ্য সরকার এই আইন প্রয়ােগের জন্য বিশেষ অফিসার নিয়ােগ করতে পারেন এবং প্রতিটি জেলার সমাজ কল্যাণ আধিকারিকের কাছে অভিযােগ জানানাে যেতে পারে।

(গ) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিজ অবগতির ভিত্তিতে অথবা পুলিশের রির্পোটের ভিত্তিতে অভিযােগের বিচার করতে পারবেন।

(ঘ) পাত্র/পাত্রী যার কাছ থেকে পণ চাওয়া হয়েছে অথবা তার বাবা বা মা । যে কোনাে আত্মীয়, অথবা যে কোনো স্বীকৃত অসরকারী সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান নালিশ জানাতে পারে ।

মামলা দায়ের করার নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা নেই।

অভিযােগ প্রমাণিত হলে এই অপরাধ জামিন অযােগ্য। এক্ষেত্রে কোন আপস করা যাবে না৷ | যার বিরুদ্ধে অভিযােগ তাকে প্রথমেই দোষী বলে ধরা হবে ; নিজেকে নিরপরাধ বলে প্রমাণ করার দায় তার নিজের।


পণজনিত মৃত্যু

বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যে কোন ক্ষেত্রে (306IPC) ৩ মাস, কোন ক্ষেত্রে (304BIPC) ৬ মাস, কোন ক্ষেত্রে (306IPC, 304BIPC, 498A) ৭ বছরের মধ্যে বধূ আত্মহত্যা করলে অথবা তার অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে, সাক্ষ্যপ্রমাণের মধ্যে দিয়ে যদি প্রমাণিত হয় যে মৃতার স্বামী বা অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের দুর্ব্যবহার, শারীরিক অত্যাচার তাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে, বা তার মৃত্যু ঘটানাে হয়েছে , তবে ধরে নেওয়া যায় যে এর পিছনে জোর করে পণ আদায়ের চক্রান্ত রয়েছে।


কার কাছে অভিযােগ জানাতে হবে -

অপরাধ যে এলাকায় ঘটেছে সেই এলাকার থানায় অভিযােগ জানাতে হবে। শুধু জেনারেল ডায়েরী (GD) করলে পুলিশ মামলা করতে বাধ্য থাকে না। এফআইআর, দাখিল করতে হবে যার ভিত্তিতে পুলিশ মামলা শুরু করতে বাধ্য। সেশনস্ কোর্টে । প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে এই মামলার বিচার হবে'।

শাস্তি : জামিন অযােগ্য অপরাধ। কমপক্ষে ৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ।

পণ দেওয়া নেওয়ার ব্যাপারে কোনাে চুক্তি স্বাক্ষরিত থাকলে তা বাতিল করা হবে।


পণের টাকা বা সামগ্রী স্ত্রীধন হিসাবে বন্ধু বা তাঁর উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য।

(ক) এই পণ বিয়ের এক বছর আগে দেওয়া হলেও একই নিয়ম খাটবে।

(খ) বিয়ের সময় বা এক বছর পরে দেওয়া হলেও তাই।

(গ) নাবালিকা বধূর ১৮ বছর বয়স হলেই সে সব সামগ্রী তাঁকে দিয়ে দিতে হবে।


পণপ্রথা বিরোধী আইন- পন চাইলে কোথায় জানাবেন ? সাজা কি ? পণপ্রথা নিষিদ্ধকরণ আইন বিস্তারিত পণপ্রথা বিরোধী আইন- পন চাইলে কোথায় জানাবেন ? সাজা কি ? পণপ্রথা নিষিদ্ধকরণ আইন বিস্তারিত Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ৩০, ২০২২ Rating: 5

বিড়ি এবং সিগার শ্রমিক আইন । এই আইন না মানলে মালিকের ৩ মাস জেল হতে পারে

অক্টোবর ২৬, ২০২২

law for biri labour

বিড়ি এবং সিগার শ্রমিক (নিয়ােজনের শর্তাবলী) আইন, ১৯৬৬

বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে বিড়ি এবং সিগার শ্রমিকরা কাজ করেন, তা খুবই অসন্তোষজনক। যদিও কারখানা। আইন, ১৯৪৮ এই ক্ষেত্রগুলির ক্ষেত্রেও প্রযােজ্য, কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই মালিক বা মালিকপক্ষ এই নিয়মগুলি মেনে চলেন না এবং কাজের ক্ষেত্রগুলিকে ছােট ছােট ভাগে ভাগ করে দেন।

অসংঘটিত বিড়ি শ্রমিক সমস্যা ও আইন

বিড়ি শ্রমিক যাঁরা বিড়ি বানান তারা ঠিকাদারদের থেকে কাজের বরাত নেন এবং নিজেদের বসত বাড়িতেই কাজ করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাড়ীর মেয়েরাই এই কাজ করে থাকেন। এই কাজের জন্য কাঁচামাল তারা পান হয় মালিক বা মালিক পক্ষের কাছ থেকে, না হয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে। এই শ্রমিকরা বিশেষ করে মহিলারা অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক হওয়ায় নিজেদের দাবি ও সুযােগ-সুবিধা আদায়ে সক্ষম নন। একটি কি দু’টি রাজ্য সরকার এই ধরণের শ্রমিকদের কাজের অবস্থার উন্নতি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ আইন পাশ করেছেন। কিন্তু এই আইন তারা আজও বলবৎ করতে সক্ষম হননি। এই ধরণের অবস্থার মধ্যে যেসব শ্রমিকরা কাজ করতে বাধ্য হন তাদের কথা মাথায় রেখে, এই বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীয় আইন প্রণয়নের প্রয়ােজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী বর্তমানের ‘বিড়ি এবং সিগার শ্রমিক বিল (নিয়ােজনের শর্তাবলী) ১৯৬৬ সালের ৩০ শে নভেম্বর, পার্লামেন্টে গৃহীত এবং অনুমােদিত হয়। ১৯৯৩ সালে এই আইনটি সংশােধিত হয় এবং ‘বিড়ি এবং সিগার শ্রমিক (নিয়ােজনের শর্তাবলী) আইন, ১৯৯৩' নামে পরিচিত হয়।

কোন মালিক এই আইনের অধীনে উপযুক্ত লাইসেন্স ছাড়া বিড়ি/সিগারের কারখানা হিসাবে কোন স্থানকে ব্যবহার করতে পারবেন না। কোন স্থান বা ঘরবাড়িকে বিড়ি/সিগার তৈরীর শিল্পতালুক হিসাবে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাতে হবে। ঐ দরখাস্তে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন্ সময়ে সর্বাধিক কতজন শ্রমিককে কাজে লাগানাে হবে এবং সেই সঙ্গে ঐ স্থান বা ঘর বাড়ির যথাবিহিত নকশাও পেশ করতে হবে। এই আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ - • রাজ্য সরকার সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি ঘােষণার মাধ্যমে এমন কোন আধিকারিককে ইন্সপেক্টর হিসাবে নিয়ােগ করতে পারেন, যাকে রাজ্য সরকার এই কাজের উপযুক্ত বলে মনে করেন এবং তার ওপর স্থানীয় কর্তৃত্ব অর্পণ করতে পারেন। এর সঙ্গে সঙ্গে সেই আধিকারিককে যে এলাকা জুড়ে কাজ করতে হবে তার স্থানীয় সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।।


• কোন শ্রমিক বা কোন ব্যক্তি যদি এই আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে কোন ইন্সপেক্টরের কাছে অভিযােগ জানান, তাহলে সেই ইন্সপেক্টর ঐ বিষয়ে তদন্ত করতে পারবেন এবং তিনি কখনও-ই অভিযােগকারী/কারিণীর নাম তিনি না চাইলে কাউকে/কোথাও জানাবেন না।


• কোন ব্যক্তিকে এমন কোন প্রশ্ন করা বা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না যা তার বিরুদ্ধে যেতে পারে। এমনকি, অভিযােগের ওপর নির্ভর করে যদি কোন ইন্সপেক্টর অভিযুক্ত মালিক বা মালিক পক্ষ বা ঠিকাদার বা তাদের কোন প্রতিনিধিদের অফিসে বা কারখানায় এই আইনের বলে পরিদর্শনের জন্য যান, তাহলেও সেই ইন্সপেক্টর কাউকে জানাবেন না যে তিনি কোন অভিযােগের ভিত্তিতে এই পরিদর্শন করছেন।


• যদি ইন্সপেক্টরের সন্দেহ হয় যে মালিক এই আইন কোন ভাবে লঙঘন করে কারখানা চালাচ্ছেন তাহলে তিনি নােটিশ দিয়ে মালিকের অনুপস্থিতিতেও ঐ স্থানে প্রবেশ করতে পারেন। এই আইনের অধীনে এমন কোন বিভাগ/উপধারা নেই, যার মাধ্যমে কোন অভিযােগকারী/কারিণী তার নাম জানানাের জন্য অনুমতি দিতে পারে বা অভিযােগকারী/কারিণীর কাছ থেকে অনুমতি চাওয়া যেতে পারে।


বিড়ি বা সিগার কোম্পানীর মালিকের দায়িত্ব

• কোন নর্দমা, শৌচাগার থেকে কোনরকম দুর্গন্ধ যাতে না আসে এজন্য পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করতে হবে।

• কারখানার প্রতিটি ঘরে খােলা হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে।

• তাপমাত্রা যাতে অস্বস্তি ও অসুস্থতার কারণ না হয়, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।

• কর্মীদের কাজ ও চলাফেরার সব জায়গায় যথেষ্ট আলাে থাকা চাই।

• যে সব কারখানায় বিড়ি বা সিগারেট তৈরির প্রক্রিয়ায় এমন জিনিস তৈরি হয় যাতে বিষাক্ত ধোয়া বা ধুলোর মতাে গুড়াে বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর জিনিস হাওয়ায় ছড়িয়ে যায়, সে সব জায়গায় কর্মীদের নাকে-চোখেমুখে যাতে তা না ঢুকে যায় তার জন্য মালিক বা মালিক পক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

• কারখানার বিভিন্ন জায়গায়, কর্মীদের সহজ নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্যকর পরিশ্রুত জল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

• পুরুষ ও মহিলা কর্মীদের জন্য কারখানা চত্বরে আলাদা আলাদা শৌচাগার থাকবে । ঠিক হবে কতগুলাে কলঘর প্রয়ােজন। এগুলাের ডিজাইন থেকে মেরামতি ও নিয়মিত সাফাই ব্যাবস্থায় কোনরকম ঢিলে দেওয়া বা গাফিলতি চলবে না। মালিক বা মালিক পক্ষকে এক্ষেত্রে শ্রমিকদফের স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

• প্রতিটি কারখানা চত্বরে, বিশেষ করে যেখানে তামাক মেশানাে ও ঘঁকা হয় অথবা যেখানে গরম তাওয়ায় বিড়ি সেঁকা হয়, সেখানে শ্রমিকদের জন্য মালিক বা মালিকপক্ষ অবশ্যই হাত-মুখ ধােয়ার জায়গার ব্যবস্থা করবেন ।

• যেখানে ত্রিশজনের বেশি মহিলা কাজ করেন সেখানে তাদের ৬ বছরের নীচে শিশুদের দেখভালের জন্য ঘরের ব্যবস্থা থাকবে।

- এর তত্ত্বাবধান যারা করবেন তাদের ঠিকমতাে ট্রেনিং থাকা চাই।

- খাওয়া-দাওয়া,কাপড়জামা বদলানাে ও কাচার ব্যবস্থাও থাকবে।

- জায়গাটিতে যথেষ্ট আলাে ও হাওয়া থাকবে।'

- বিনামূল্যে বাচ্চাদের জন্য দুধ ও অন্যান্য খাদ্যের ব্যবস্থা থাকতে পারে।

- মায়েদের অনুমতি থাকবে ঠিক সময়ে শিশুদের খাইয়ে যাওয়ার।


• প্রত্যেক কারখানা চত্বরে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে।

• কোন কর্মীকে দিয়ে দিনে নয় ঘন্টা এবং সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘন্টার বেশি কাজ করানাে যাবে না।

• কোন প্রাপ্তবয়স্ক কর্মী (১৮ বছর বয়সের উপর) কোন খারখানায় নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করলে তা ‘ওভারটাইম' হিসাবে ধরা হবে এবং সেই অনুযায়ী ‘ওভারটাইম’-এর রেটে টাকা পাবেন। এক্ষেত্রেও কাজের সময় কখনােই দিনে দশ ঘন্টা এবং সপ্তাহে চুয়ান্ন ঘন্টার বেশি হবে না।

• কোন কারখানায় যারা ওভারটাইম কাজ করেন তাদের এই বাড়তি সময়ের জন্য দ্বিগুণ রেটে মাইনে দিতে হবে।

• যাঁরা “পীস-রেটে কাজ করেন, তাদের সারাদিনের রােজগার বেতনের হার হিসাবে ধরতে হবে। অর্থাৎ সারাদিন কাজ করলে একজন কর্মীর যা মাইনে হয়, সেই রেটে উক্ত কর্মীর ওভারটাইমের বেতনের হিসেব ধরতে হবে।

• পাঁচঘন্টা কাজ করার পর অন্ততঃ আধ ঘন্টা বিশ্রামের সময় সমস্ত কর্মীকে দিতে হবে।

• বিশ্রামের সময় সমেত সাড়ে দশ ঘন্টার বেশি একদিনে কোন কর্মীকে দিয়ে কাজ করানাে চলবে না। তবে মুখ্য পরিদর্শক যদি নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে লিখিত কোন নির্দেশ জারি করেন তাহলেও কাজের নির্ধারিত সময় মােট বারাে ঘন্টার বেশি হবে না।


• সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন কারখানা পুরাে ছুটি থাকবে। মালিক বা মালিক পক্ষকে আগে থেকে কারখানা চত্বরে সবার নজরে পড়বে এমন জায়গায় নােটিস দিয়ে ছুটির দিন সম্বন্ধে সবাইকে নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। এই ছুটির দিনটি মালিক বা মালিক পক্ষ যখন তখন বদলাতে পারবেন না। যদি কেউ বদলাতে চান তাহলে আগে মুখ্য পরিদর্শকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তবেই বদলাতে পারবেন এবং তিনমাসের মধ্যে মাত্র একবার এইভাবে দিন বদলানাে যাবে।


বিঃ দ্রঃ যখন বিড়ি বা তামাকের পাতা ভিজানাের কাজ চলবে, তখন সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হতে পারে। তবে এর পরিবর্তে সপ্তাহের অন্য কোন দিন ছুটি দিতে হবে।


• মহিলা এবং কমবয়সী ছেলেমেয়েরা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যে ৭টার মধ্যেই শুধু কাজ করতে পারবে, তার বাইরে নয়।

• ১৪ বছরের নীচে কাউকে এই কারখানায় নিয়ােগ করা যাবে না।

• প্রতি কর্মী এক বছরে বেতনসমেত ছুটি পাওয়ার যােগ্য ও

ক) প্রাপ্তবয়স্ক হলে - কুড়ি দিন কাজ মানে একদিন ছুটি।

খ) কমবয়সী হলে - পনের দিন কাজ মানে একদিন ছুটি।

• মালিকের আবেদন সাপেক্ষে কারখানা চত্বরের বাইরে পাতা ভেজানাে বা কাটার জন্য সরকার বিশেষ অনুমতি দিতে পারেন।

• কোন মালিক বা মালিক পক্ষ কোনরকম যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোন কর্মীকে, যিনি অন্ততঃ ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কাজ করছেন, হঠাৎ করে ছাঁটাই করতে পারেন না। এক্ষেত্রে অন্ততঃ একমাসের নােটিশ উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে দিতে হবে।

• অবশ্য যদি কোন কর্মীর বিরুদ্ধে এই মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় যে সে দোষী এবং অশােভন আচরণে অভিযুক্ত এবং মালিক বা মালিক পক্ষ তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে যে তথ্য পেয়েছেন তা উক্ত কমাকে ছাঁটাই করার পক্ষে যথেষ্ট, তাহলে সেই কর্মীকে ছাঁটাইয়ের জন্য কোন নােটিশ দেওয়ার দরকার নেই।

• ছাঁটাই হলে শ্রমিক যথাযােগ্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাতে পারে যে, কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই মালিক তাকে ছাঁটাই করেছে।



এই আইন না মানার শাস্তি ( কারখানার মালিকের জন্য )


এই আইনের কোন ধারা কেউ লঙঘন করলে অথবা আপিল-কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী মজুরি বা ক্ষতিপূরণ দিলে, প্রথম অপরাধের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে একমাস থেকে তিনমাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা একশাে টাকা থেকে পাঁচশাে টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা দুটোই একসঙ্গে হতে পারে। আপিল- কর্তৃপক্ষের নির্দেশানুযায়ী কোন মালিক যদি শ্রমিককে পুনরায় কাজে নিযুক্ত না করেন তাহলে ২৫০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে।


জেনে রাখা দরকার

উপরিউক্ত আইনের অধীনে কোন শ্রমিক যদি কোনরকম অন্যায়ের শিকার হন বা মালিক বা মালিক পক্ষ যদি কোন নিয়ম লঙ্ঘন করেন তাহলে শ্রমিকরা মুখ্য পরিদর্শকের কাছে অভিযােগ জানাবেন।

বিড়ি এবং সিগার শ্রমিক আইন । এই আইন না মানলে মালিকের ৩ মাস জেল হতে পারে বিড়ি এবং সিগার শ্রমিক আইন । এই আইন না মানলে মালিকের ৩ মাস জেল হতে পারে Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ২৬, ২০২২ Rating: 5

জাতীয় মহিলা কমিশন কি ? জাতীয় মহিলা কমিশন অ্যাক্ট, ১৯৯০ এবং হেল্পলাইন

অক্টোবর ২৪, ২০২২

জাতীয় মহিলা কমিশন
মহিলা কমিশন কি ?

ভারতের সংবিধান ও অন্যান্য আইন প্রদত্ত মহিলাদের অধিকারগুলি সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে মহিলা কমিশন গঠনের জন্য আইন প্রণীত হয়েছে। এই আইনগুলিতে মহিলাদের জন্য ব্যবস্থিত অধিকার সম্পর্কিত বিশেষ অংশগুলির আলােচনা করা হল।

জাতীয় মহিলা কমিশন অ্যাক্ট, ১৯৯০

কেন্দ্রীয় সরকার শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য একটি জাতীয় কমিশন আইন ১৯৯০ সালে প্রণয়ন করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীর ব্যতীত ভারতের সর্বত্র এই আইন প্রযােজ্য।


জাতীয় মহিলা কমিশনের গঠন

জাতীয় মহিলা কমিশন নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হবে :

(১) কেন্দ্রীয় সরকার মনােনীত একজন চেয়ার পার্সন, যিনি নারী প্রগতির কাজে আত্মনিয়ােজিত।

(২) আইন, ট্রেড ইউনিয়ন, শিল্প পরিচালনা বা মহিলাদের বিভিন্ন কর্মে নিযুক্তির যােগ্যতা বাড়ানাের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ দায়বদ্ধ ব্যক্তি, মহিলাদের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান (মহিলা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী সহ প্রশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা অথবা সমাজ কল্যাণে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, কর্মক্ষম, সৎ প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে কেন্দ্রীয় সরকার মনােনীত পাঁচজন সদস্য যাদের মধ্যে অন্ততঃ একজন করে সদস্য তফসিলভুক্ত উপজাতি ও জনজাতির অন্তর্ভুক্ত।

(৩) পরিচালনা, ম্যানেজমেন্ট বা সাংগঠনিক কাঠামােগত ক্ষমতা অথবা সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে পারদর্শী কোন ব্যক্তি, অথবা কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসের বা সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য যাঁর। উপযুক্ত অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক সদস্য সচিব হিসাবে নির্বাচিত হবেন।


জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান কার্যাবলী

ক) সংবিধান ও অন্যান্য আইনে মহিলাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে রক্ষাকবচগুলির বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করা;

খ) বাৎসরিক অথবা নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে উক্ত রক্ষাকবচগুলি কিভাবে প্রয়ােগ করা হচ্ছে সে বিষয়ে রিপোের্ট পেশ করা;

গ)এই রিপাের্টে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কর্তৃক মহিলাদের অবস্থার উন্নতির জন্য রক্ষাকবচগুলি কার্যকরী ভাবে সম্পাদিত করার জন্য সুপারিশ করা ;

ঘ) উপযুক্ত সময়ান্তরে মহিলা সম্পর্কিত সংবিধান ও অন্যান্য আইনের বর্তমান ব্যবস্থাগুলির পযালােচনা এবং এই সব আইনের ফাঁক, অসম্পূর্ণতা বা ত্রুটিগুলি সংশোধনের জন্য সুপারিশ করা;

ঙ) সংবিধান ও অন্যান্য আইনের মহিলা সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবস্থা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নজরে আনা;

চ) নিম্নলিখিত বিষয়গুলির ক্ষেত্রে অভিযােগের ভিত্তিতে অথবা স্বতঃপ্রণােদিতভাবে খতিয়ে দেখা

i) মহিলারা অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে;

ii) মহিলাদের সুরক্ষার এবং সমানাধিকার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত আইনগুলি সঠিক ভাবে সম্পাদিত না হলে;

iii) মহিলাদের কষ্ট লাঘব করা, তাদের কল্যাণসাধন এবং বাধাগুলি দূর করার জন্য যে সকল নিয়ম নীতি, পরিচালনপদ্ধতি ও অন্যান্য নির্দেশ আছে সেগুলি অমান্য করা হলে; এবং এই সকল ক্ষেত্রে অমান্য করা হলে তা বিষয়গুলি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের গােচরে আনা;

ছ) মহিলাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বা নৃশংস নির্যাতনের ফলে উদ্ভূত বিশেষ সমস্যাগুলি সম্পর্কে বিশেষ সমীক্ষা | ও অনুসন্ধানের জন্য উৎসাহ দেওয়া এবং সেগুলির অপনােদনের নির্দিষ্ট বাধাগুলি চিহ্নিত করা;

জ) সর্বক্ষেত্রে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা, তাদের অগ্রগতি রােধ করার ক্ষেত্রে যে কারণগুলি দায়ী * যেমন আবাসন ও অত্যাবশ্যক পরিষেবাগুলি না পাওয়া, একঘেয়ে নীরসকাজ ও পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি ** কমানাের জন্য এবং কাজের ক্ষেত্রে তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য অপ্রতুল সহায়ক পরিষেবা ব্যবস্থা * ও প্রযুক্তি --সেই কারণগুলি চিহুিত করা;

ঝ) মহিলাদের সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ ও পরামর্শ দেওয়া;

ঞ) কেন্দ্র ও রাজ্যে মহিলাদের উন্নয়নের অগ্রগতির মূল্যায়ন; -

ট) জেল বা পরিত্যক্ত মেয়েদের হােম, মহিলাদের হাজত বা অন্য কোন জায়গা যেখানে মহিলাদের বন্দী হিসাবে অথবা অন্য কোন ভাবে অভিরক্ষাধীনে রাখা হয় সেগুলি পরিদর্শন করা বা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা এবং সেগুলি ত্রুটি মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা;

ঠ) বহু সংখ্যক মহিলার পক্ষে ক্ষতিকারক এমন বিষয়সমূহকে জড়িত করে যে মামলা, সেই মামলার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদান।

ড) মহিলাদের সম্পর্কিত যে কোন বিষয়ে, বিশেষ করে তারা যে বিভিন্ন ধরণের অসুবিধায় ভােগে সে সম্পর্কে 1 নির্দিষ্ট সময় অন্তর সরকারের কাছে রিপাের্ট পেশ;

অন্য যে কোনও বিষয় জাতীয় মহিলা কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাতে পারবেন। ;


উপরােক্ত বিষয়গুলি সম্পর্কে তদন্ত করার সময়ে কমিশন কাউকে ডেকে পাঠাননা বা জোর করে হাজির করা, কোন নথি উপস্থাপন করা, সাক্ষ্য ও হলফনামা গ্রহণ করা, কোনও কোর্ট বা অফিস থেকে কোনও রেকর্ড তলব করা, ইত্যাদি বিষয়ে একটি দেওয়ানি আদালতের মতই ক্ষমতা ভােগ করবে।

এই কমিশনের সমস্ত রিপাের্ট এবং এ সম্পর্কে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে অথবা নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। এবং যদি কমিশনের সুপারিশ অগ্রাহ্য করা হয়ে থাকে তবে তার কারণ কি সে সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে বক্তব্য পেশ করবেন।


পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশন আইন, ১৯৯২

ভারতের সকল অঙ্গ রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গই সর্বপ্রথম রাজ্যস্তরে মহিলা কমিশন আইন, ১৯৯২ প্রণয়ন করে।

পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের গঠন

নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশন গঠিতঃ

(১) রাজ্য সরকার মনােনীত একজন চেয়ারপার্সন ও একজন ভাইস চেয়ার পার্সন;

(২) যে সব ব্যক্তি মহিলাদের স্বার্থরক্ষায় যােগ্যতাসম্পন্ন এবং সৎ, যাদের আইন সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা আছে, অথবা

মহিলাদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা আছে, অথবা কোন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বে আছেন অথবা মহিলাদের সার্বিক স্বার্থসুরক্ষা এবং উন্নতিবর্ধনের জন্য গঠিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে রাজ্য সরকার নিয়ােজিত নয়জন সদস্য থাকবেন, তাদের মধ্যে অবশ্যই একজন তফসিলভুক্ত জাতি ও একজন জনজাতির সদস্য থাকবেন।

রাজ্য সরকারের একজন অফিসার সদস্য সচিব হিসাবে কাজ করবেন।

রাজ্য কমিশন প্রয়ােজন বােধ করলে তার সভাগুলিতে জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন।


পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের কার্যাবলী

পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের কার্যাবলী মােটামুটিভাবে জাতীয় মহিলা কমিশনের কার্যাবলীর অনুরূপ।

কমিশন রাজ্য সরকারের কাছে ছয় মাস অন্তর অথবা অন্য কোন স্থিরীকৃত সময়ে সুপারিশসহ নিজ কার্যাবলীর রিপাের্ট পেশ করবেন এবং রাজ্য সরকার যত শীঘ্র সম্ভব ঐ রিপাের্ট এবং সে সম্পর্কে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং যেক্ষেত্রে সুপারিশ অগ্রাহ্য করা হয়েছে তার কারণ কী এ সবই রাজ্যের আইনসভায় পেশ করবেন।

১১৭।

রাজ্য সরকারও মহিলা সম্পর্কিত কোন নীতি প্রণয়নের সময়ে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।

কোন বিষয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের কোন রিপাের্ট সম্পর্কে রাজ্য সরকার উদ্বিগ্ন থাকলে অথবা রাজ্য সরকার আলােচ্য বিষয়ে জড়িত থাকলে এবং রাজ্য সরকার চাইলে ঐ বিষয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ জানানাে রাজ্য মহিলা কমিশনের দায়িত্ব।


মহিলাদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কমিশন যােগ্যতা সহকারে কাজ করে চলেছে।


মহিলা কমিশনের ফোন নাম্বার ও ইমেল আইডি নিচে দেওয়া হল - যেকোনো সমস্যায় যোগাযোগ করতে পারেন টুইটার ও ফেসবুকের মাধ্যমেও


মহিলা হেল্পলাইন নাম্বারে ফোন করতে পারেন 181 ডায়াল করে


Email                                                     :: ncw@nic.in Complaint & Investigation Cell           :: complaintcell-ncw@nic.in Policy Monitoring and Research Cell :: sro-ncw@nic.in Legal Cell                                             :: lo-ncw@nic.in RTI Cell                                                  :: rticell-ncw@nic.in NRI Cell                                                  :: nricell-ncw@nic.in North East Cell                                      :: northeastcell-ncw@nic.in



পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের ঠিকানা ও হেল্পলাইন নাম্বার

West Bengal Commission for Women, 
"Jalasampad Bhavan", (Ground Floor & 10th Floor), Block-DF,
Sector - I, Salt Lake City, Kolkata-700 091 
Phone: 033-23595609, 23210154, 23215895 23345324 (Fax)



জাতীয় মহিলা কমিশন কি ? জাতীয় মহিলা কমিশন অ্যাক্ট, ১৯৯০ এবং হেল্পলাইন জাতীয় মহিলা কমিশন কি ? জাতীয় মহিলা কমিশন অ্যাক্ট, ১৯৯০ এবং হেল্পলাইন Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ২৪, ২০২২ Rating: 5

মুসলিম নিকাহ ও তালাকের সব নিয়ম কানুন - মুসলিম ম্যারেজ ল - Muslim Marriage Law

অক্টোবর ২৪, ২০২২

muslim nikah law


মুসলিম বিবাহ বা নিকাহ মুসলিম বিবাহ বা নিকাহ


বিয়ে বা নিকাহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান . এটি হল নরনারীর বৈধ মিলন সম্পর্ক ও বৈধ সন্তানের জন্মদানের ও পালনের জন্য শরীয়ত সম্মত এক বিশেষ চুক্তি। মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন রকম আচার বিচার বা নিয়ম 'মুসলিম পার্সোনাল ল' (মুসলিম ব্যাক্তিগত আইন ) দ্বারা পরিচালিত হয়। এগুলিকে শরিয়তী আইন বলা হয় । শিয়া মুসলিমরা 'ইথনা আশারি' মতে নিকাহ করেন ; সুন্নিরা করেন হানাফি মতে । এ ছাড়াও, আরও ভাগ আছে। Guided by Mohamedan Laws.


মুসলিম বিয়ের যােগ্যতা -

(ক) কোনও সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলমান ছেলে বা মেয়ে যার যৌবনারম্ভ হয়েছে (সাধারণভাবে ১৫ বছর) সে বিয়ের | চুক্তি করতে পারে ।

(খ) মুসলিম মেয়ের বয়স ১৫ বছর হলে এবং রজোদর্শন হলে বাবা মায়ের অনুমতি ছাড়াই সমকুফুতে বিয়ে

করতে পারে ।

(গ) সুস্থ মস্তিষ্ক এবং যৌবপ্রাপ্ত হলে ছেলে মেয়েদের নিজস্ব মত ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়।


বৈধ নিকাহর নিয়ম

(১) এক তরফ প্রস্তাব দেবেন, অন্য তরফ তা গ্রহণ করবেন।

(২) প্রস্তাব দেওয়া-নেওয়া একই দিনে, একই অনুষ্ঠানে হবে ।

(৩) প্রস্তাব মৌখিক কিম্বা লিখিত, দুটোই চলবে ।

(৪) সাক্ষীদের সামনে মৌলবী নিকাহ সম্পন্ন করবেন।

(৫) ইচ্ছা করলে নিকাহ রেজিষ্ট্রি খাতায় বর-কনে ও সাক্ষীদের নাম-ধাম লিখে, মৌলবী সহ সকলকে সই করাবেন।

(৬) প্রস্তাব ও চুক্তি লিখিত হলে, সেই দলিল বা নিকাহনামায় সকলের সই থাকবে, তারিখ সহ ।

(৭) নিকাহর সময় বর উপযুক্ত পরিমাণ নিকাহনামা/কাবিলনামা, বিয়েতে অপরিহার্য টাকা দেবে কনেকে, বা । দেবার 'পণ করবে। সেই ‘মেহর' এর পরিমাণ মৌলবীর রেজিষ্ট্রি খাতা ও নিকাহনামাতে লেখা থাকতে পারে। প্রয়ােজন ; শিয়াদের ক্ষেত্রে সাক্ষীর উপস্থিতি প্রয়ােজন নয় ।

(৮) সাক্ষীর উপস্থিতি : সুন্নিদের ক্ষেত্রে দুজন সুস্থমস্তিষ্ক মুসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুজন মহিলার থাকা প্রয়োজন । শিয়াদের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের উপস্থিতি প্রয়োজন নয় ।


কোরানের নির্দেশঃ

কোরানের সুরা নিসা ও সুরা বাকারায় নিকাহ বিষয়ে নির্দেশ আছেঃ

‘স্বামীর মৃত্যর পর বিধবাদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করা আবশ্যক। তারপর সড়ক কোন দোষ নেই।



হাদীসের নির্দেশ

হাদীসে বলা হয়েছে : বিধবা অথবা স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের তাদের সম্মতি ব্যতীত বিয়ে হবে না এবং কুমারী কন্যাদের সম্মতি না চাওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে দেওয়া যাবে না।।

মুসলিম পার্সোনাল ল’বাের্ড ২০০৫ সালে নিকাহনামার খসড়ায় জানিয়েছেন যে পুরুষের একাধিক বিবাহ শরিয়তী আইন সম্মত। তবে স্বামীর উচিত সব স্ত্রীর সঙ্গে সমান আচরণ করা, সমান মর্যাদা দেওয়া।


মুসলিম বিয়ে বৈধ (শাহী) অবৈধ (বাতিল) হতে পারে।


মুসলিম বিয়ে বাতিল হওয়ার কারণ :

(ক) যেখানে সাক্ষীর উপস্থিতি মহমেডান আইন অনুযায়ী আবশ্যিক সেখানে সাক্ষী না থাকলে বিয়ে বিধি সম্মত হবে না।

(খ) একজন মুসলমান ব্যক্তির একই সময়ে চারজন স্ত্রী থাকতে পারে । পঞ্চম বিয়ে করলে, সেটি অনিয়মিত। .

(গ) একজন মুসলমান মহিলার এক সময়ে একজনমাত্র স্বামী থাকতে পারে । স্বামী জীবিত এবং বিচ্ছেদ হয়নি এমন মহিলা যদি বিয়ে করেন তবে তা বাতিল হবে।

(ঘ) ধর্মীয় নিয়ম পালিত হয়নি, অর্থাৎ কোনও মুসলিম মহিলা ইদ্দত কালের (বিচ্ছেদের পর ৩ মাসের ঋতুকাল) ভিতরে বিয়ে করলে সেই বিয়ে অনিয়মিত কিন্তু বাতিল নয়। সন্তানের বৈধতা ও পিতৃত্ব সাব্যস্ত করার জন্যই এই নিয়ম। |

(ঙ) কোনও মহিলা বিধবা হলে অথবা বিবাহবিচ্ছেদ হলে বিয়ে যৌনমিলন দ্বারা সম্পূর্ণ হােক বা না হােক তাকে ‘ইদ্দত' সময়কাল মানতেই হবে । এই ইদ্দতকাল চার মাস দশ দিন । সে সময়ে গর্ভবতী থাকলে সন্তান না জন্মাননা পর্যন্ত আবার বিয়ে করা যাবেনা । কিন্তু বিয়ে হলেও যৌনমিলন না, হলে তাকে ইদ্দত সময়কাল মানতে হবে না। সে সঙ্গে সঙ্গেই বিয়ে করতে পারে ।

(চ) সুন্নি মুসলিম ছেলে মুসলিম, ইহুদী বা খৃষ্টান মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। কিন্তু কোনও অকিতাবিয়াকে (অর্থাৎ হিন্দু, যারা মূর্তি পূজা করে অথবা অগ্নি উপাসক) বিয়ে করলে তা বাতিল হবে। শিয়া মুসলিম ছেলে 'কিতাবিয়া' কে বিয়ে করলে তা বাতিল হবে।

(ছ) একজন মুসলিম মেয়ে শুধুমাত্র একজন মুসলিম পুরুষকেই বৈধভাবে বিয়ে করতে পারে।

(জ) নিষিদ্ধ সম্পর্কের আওতায় পড়লে অর্থাৎ মা বা ঠাকুমা । দিদিমা, মেয়ে বা নাতনী, নিজের বােন অথবা অন্য প্রকারে রক্তের সম্বন্ধযুক্ত, ভাইঝি, পালিত কন্যা, স্ত্রীর গর্ভজাত কন্যা ইত্যাদির সঙ্গে বিয়ে অবৈধ বা বাতিল বলে গণ্য হবে।



মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ

মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) মুসলিম পার্সোনাল ল (মুসলিম ব্যক্তিগত আইন) অর্থাৎ শরিয়তী আইন অনুযায়ী। হয়ে থাকে।

তালাক - মুসলিম আইনে তালাক মানে বিয়ের চুক্তি থেকে রেহাই দেওয়া ।


স্বামী বিবাহ বিচ্ছিন্ন করতে পারেন তিনভাবে - ১) তালাক, ২) ইলা, ৩) জিহার।


মৌখিক তালাক

(ক) প্রাপ্ত বয়স্ক শিয়া মুসলিম স্বামী স্বেচ্ছায় মৌখিকভাবে তালাক দিতে পারেন - অন্তত দুজন সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে। (যদি বােবা হন তাহলে অন্য কেউ তার হয়ে তালাক দিতে পারে)।

(খ) প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কের সুন্নি স্বামী কোনাে কারণ না দেখিয়ে মাতাল বা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় বা প্রতারণা

করেও তালাক দিতে পারেন। স্ত্রীর দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদকে বলা হয় তালাকেতাফইদ।


তালাক :

যদি কেউ স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে না চায় তাহলে চার মাস অপেক্ষা করা উচিত – ইহাকে শরীয়ত পরিভাষায় ইলা বলে, এবং এতে এক তাল্লাকে বায়েন পতিত হবে চারমাস কাল পূর্ণ করলে। তার মধ্যে তাদের পুনর্মিলন হলে ভালাে। কিন্তু তারা যদি বিচ্ছেদের জন্য দৃঢ়সংকল্প হয় তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে। তবে তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন মাসিক ঋতু কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। গর্ভবতী হয়েছে কিনা দেখা জরুরী।

'এই অপেক্ষার কাল পার হওয়ার পর যদি তারা উভয়ে সুবিবেচনার সঙ্গে মিলিত হতে সম্মত হয় তবে তাদের পুনর্বিবাহে বাধা দেওয়া ঠিক নয়'।

হয় দুই তালাকের পর সুবিবেচনার সঙ্গে স্ত্রীকে গ্রহণ কর, না হয় সুবিবেচনার সঙ্গে তিন তালাক দিয়ে তাকে বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্তি দাও'।

‘দুগ্ধ পােষ্য শিশুর পিতা-মাতার মধ্যে তালাক হলে মাতা পূর্ণ দুই বছর শিশুকে স্তন্যদান করবে এবং পিতা শিশু ও মাতা উভয়েরই ভরণ পােষণের ভার গ্রহণ করবে।

'পূর্ণ তালাকের পর স্বামী যদি স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করতে চায় তাহলে সেই স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে হওয়ার পর তালাক পেলে তবেই তা সম্ভব হবে। মুসলিম পার্সোনাল ল বাের্ড ২০ ডিসেম্বর ২০০৪এ ঘােষণা করেছেন যে ধর্মবিশ্বাসী মুসলমানের উচিত ‘তিন তালাক দেওয়া থেকে বিরত থাকা। .



বিভিন্ন ধরণের তালাক -

(ক) সব থেকে উন্নত ধরণের তালাক হল তালাক-উস-সুন্নত, হয় আহসান (শ্রেষ্ঠ) বা হাসান (ভালাে) পদ্ধতিতে দেওয়া।

(খ) তালাক-উল-বিদ্দত ও শিয়া ও মালিকি মতে এটি খুবই খারাপ ধরণের পাপ, যদিও হানাফিদের মধ্যে এর চল খুবই বেশি। সুন্নি আইনেও এটি পাপ বলে গণ্য, তবুও সামাজিকভাবে মেনে নেওয়া হয়।



আপসরফা দ্বারা বিবাহবিচ্ছেদ

খুলা – স্ত্রীর প্রস্তাব বা অনুরােধে ও টাকা বা সম্পত্তির বিনিময়ে, স্বামী তার দাম্পত্যের অধিকার ও স্ত্রীর উপর কর্তত পরিহার করবে, এক অর্থে স্ত্রী তার মুক্তি বা বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার মূল্য দিয়ে কিনছেন । এই মূল্য দেবার কথা দিয়ে ছাড় পাবার পর যদি স্ত্রী কথা না রাখেন , তবে সেই বিচ্ছিন্ন স্বামী সম্পত্তি বা টাকা আদায় করার জন্য কাজীর বিচার চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ কিন্তু বহাল থাকবে ।

মুবারত - অর্থাৎ আপস রফা - এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ প্রথম প্রস্তাব দিতে পারেন। কোনাে লেন-দেনের প্রশ্ন থাকে না। এই ধরণের বিচ্ছেদ ও পাকাপাকি হয়ে যায়, ইদ্দত কাল পালন করতে হয়, ও স্বামীর ক্ষেত্রে খােরপােষের দায়িত্ব থাকে।


মুসলিম মহিলাদের জেনে রাখা ভালাে যে উলেমারা ফতােয়া দিয়েছেন যে হানাফি মতে এ মামলা অসম্ভব হলেও মালিকী আইনে এ মামলা হতে পারে। অতএব, অধর্মের ভয় নেই।


মুসলিম নিকাহ ও তালাকের সব নিয়ম কানুন - মুসলিম ম্যারেজ ল - Muslim Marriage Law মুসলিম নিকাহ ও তালাকের সব নিয়ম কানুন -  মুসলিম ম্যারেজ ল - Muslim Marriage Law Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ২৪, ২০২২ Rating: 5

হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন । মিউচুয়াল ডিভোর্সের নিয়ম কি ? খোরপোশের নিয়ম ? দুই বিয়ের সাঁজা কি ? - বিস্তারিত জেনে নিন

অক্টোবর ২৩, ২০২২

hindu divorce law in bengali


হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন

সমাজে বিবাহ প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসারে সামান্য সমস্যা আলোচনা করে সমাধান করে নেওয়া ভালো । কোনো কারনে সমাধান ও সংশোধনের অযােগ্য হলে বিয়ে ভেঙে দিয়ে বিচ্ছেদের চেষ্টা করা উচিৎ । তবে এটা শেষ রাস্তা ভেবে নিয়েই এগানো উচিৎ । এখানে জেনে নিন বিবাহ বিচ্ছেদের নিয়ম কি ?


বিশেষ ক্ষেত্রে স্বামী অথবা স্ত্রী নিম্নলিখিত কারণ দেখিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে দরখাস্ত করতে পারেন।

যদি স্বামী বা স্ত্রীর কোন একজন

ক) তৃতীয় কোন ব্যক্তির সাথে স্বেচ্ছায় যৌন সংসর্গ করেছে।

খ) বিয়ের পরে যে কোন একজন অন্যের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার করেছে।

গ) একটানা অন্তত দুই বছর যে কোনাে একজন অন্যজনকে অবহেলা করে ফেলে চলে গেছে।

ঘ) হিন্দু ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।

ঙ) যে কোন একপক্ষের মাথা খারাপ হয়ে গেছে বা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এমন উদ্ভট আচরণ করছে, যে তার সাথে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চ) দুরারােগ্য / নিরাময়-অযােগ্য ধরণের কুষ্ঠ রােগে ভুগছে।

ছ) ছোঁয়াচে নিরাময়-অযােগ্য যৌন রােগে ভুগছে।

জ) সন্ন্যাস গ্রহণ করে সংসার ত্যাগ করেছে।

ঝ) অন্তত সাত বছর ধরে নিখোঁজ।


তাছাড়া নিম্নলিখিত কারনেও ডিভোর্স নেওয়া যায় -

• কোর্ট থেকে আলাদা বাস করার ডিক্রি পাবার পর স্বামী-স্ত্রী অন্তত এক বছর এক সঙ্গে থাকেননি।

• যদি কেউ এক সঙ্গে থাকার অধিকারের জন্য ডিক্রি পান অথচ তৎসত্ত্বেও এক বছর সেই অধিকার কাজে লাগানাে হয় নি।


কিছু কিছু কারণে কেবল স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন।

• স্বামীর আগের পক্ষের এক বা একাধিক স্ত্রী এখনও জীবিত, তাদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি।

বিয়ের পর স্বামী ধর্ষণ, সমলিঙ্গ যৌনসংসর্গ (পাশবিক আচার) ইত্যাদি বিষয়ে অভিযুক্ত।

• ইতিমধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণ-পােষণের অর্ডার পাশ হয়েছে এবং তারা এক বছরে

থাকছেন বা এক বছরের বেশি আলাদা ।

• বিয়ের সময় তার বয়স ১৫ বছরের কম ছিল, এবং ১৮ বছর বয়স হবার আগেই সে এই বিয়েতে অসম্মতি জানিয়েছে।

গেই সে এই বিয়েতে অসম্মতি


হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী বিচ্ছেদের মামলায় বিকল্প প্রতিকার

ধর্মান্তর, সন্ন্যাস বা নিরুদ্দেশ বাদে, যদি অন্য কোনাে কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন। আদালত বিবেচনা করে পৃথক বসবাসের ডিক্রি দিতে পারেন।

পরস্পরের সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ

স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে জেলা জজের আদালতে বিয়ে ভাঙার জন্য দরখাস্ত করতে পারেন এই তারা এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে আলাদা বসবাস করছেন, এক সঙ্গে থাকা অসম্ভব মনে হচ্ছে । অতএব, দুজনেই এ বিষয়ে একমত যে এ বিয়ে ভাঙাই উচিত।

১) দরখাস্তের তারিখের ছ'মাস পর, ও ১৮ মাসের ভিতর শুনানি হবে। দুজনের বক্তব্য শুনে ও দরখাস্তের বিবরণ যাচাই করে, আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি দেবেন।

২) বিয়ের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে বিচ্ছেদের জন্য দরখাস্ত করা যাবে না। অবশ্য হাইকোর্ট যদি মনে করে আবেদনকারী দুঃসহ কষ্টের মধ্যে রয়েছে তাহলে বিয়ের একবছরের আগেই আবেদন করার অনুমতি দিতে পারে, তবে বিয়ের একবছরের আগে ডিক্রি কার্যকর হবে না। এর কারণ হল সন্তানের জন্ম হলে তার স্বার্থে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে নূতন করে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব কিনা দেখা হয়।

৩) বিয়ে বাতিল হয়ে গেলেও, ইতিমধ্যে কোনাে সন্তান জন্মালে তাকে বৈধ সন্তান বলেই ধরা হবে। তবে সেই সন্তানের নিজের বাবা-মার ছাড়া আর কোনাে পারিবারিক সম্পত্তির উপর অধিকার থাকবে না।

৪) বিয়ে বাতিল হলে উচ্চতর আদালতে আপিল করার সময়সীমার শেষে উভয় পক্ষই আবার বিয়ে করতে পারেন।


এই আইনের ভিত্তিতে যে কোনাে মামলা খুব তাড়াতাড়ি চলার নির্দেশ

- শুনানি দিনের পর দিন চলবে - এক নাগাড়ে

- নােটিশ দেবার দিন থেকে ছ'মাসের মধ্যে রায় দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

- আপিল হলে তা তিন মাসের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা থাকবে।


বিবাহ বিচ্ছদের ক্ষেত্রে গােপনীয়তা

মামলার ক্ষেত্রেঅ ক্ষেত্রে গােপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। কোন খবর ছাপা বা অন্যভাবে প্রকাশ করা বেআইনি। এক মাত্র আদালতের অনুমতি নিয়ে হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট যদি অনুমতি দেন তবে করা যাবে।


হিন্দু বিবাহ আইন একাধিক বিবাহ অর্থাৎ একের বেশি বিয়ের সাজা কি ?

আগের স্ত্রী বা স্বামী বেঁচে থাকতে, (যদি আইনি বিচ্ছেদ না হয়ে থাকে) দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে তাকে ‘বিগ্যামি’ বলে। হিন্দু আইনে দ্বিতীয় বিবাহ একটি অপরাধ এবং তা শাস্তিযােগ্য।

হিন্দু বিবাহ আইন একাধিক বিবাহের সাজা : ভারতীয় দন্ড সংহিতার ৪৯৪ ও ৪৯৫ ধারা অনুযায়ী হবে। ৪৯৪ ধারায় সাত বছরের জেল , ৪৯৫ ধারায় দশ বছরের জেল ও জরিমানা ।


হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী খােরপােষ ভাতার নিয়ম কি ?

স্বামী বা স্ত্রীর আবেদন যদি আদালত যথাযথ মনে করেন, বিচ্ছেদের ডিক্রির সঙ্গে থােক টাকা বা যাবজ্জীবন মাসােহারার নির্দেশ থাকতে পারে। অবশ্য পরে আবার আপিল করে তা রদবদল করা বা কাটিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বৈধ হিন্দু বিয়ের যে ধারাগুলি আগে বলা হয়েছে তার কোন একটি ভঙ্গ করলে ক্ষেত্র বিশেষে একমাস থেকে দু'বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং এক হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা দুটিই একসঙ্গে হতে পারে।


সন্তানের দেখভাল

ছেলে-মেয়ে কার হেফাজতে থাকবে, লেখা পড়ার খরচ, মানুষ করার দায়িত্ব, এ সবের ব্যবস্থা আদালতের ডিক্রিতে থাকবে। সময়ে সময়ে তা নতুন করে বিচার করার সুযােগ থাকবে।


জেনে রাখা দরকার

বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য একজন উকিলের সাহায্যে যে এলাকায় কোন ব্যক্তির বিবাহ হয়েছিল সেই এলাকায়, অথবা বিবাদী যে এলাকায় বাস করছেন সেই এলাকায়, অথবা যেখানে দুজন

শেষ বসবাস করেছেন সেই এলাকায় মামলা করতে হবে।



হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন । মিউচুয়াল ডিভোর্সের নিয়ম কি ? খোরপোশের নিয়ম ? দুই বিয়ের সাঁজা কি ? - বিস্তারিত জেনে নিন হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন । মিউচুয়াল ডিভোর্সের নিয়ম কি ?  খোরপোশের নিয়ম ? দুই বিয়ের সাঁজা কি ?  - বিস্তারিত জেনে নিন Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ২৩, ২০২২ Rating: 5
Blogger দ্বারা পরিচালিত.