Featured Posts

[আইন][feat1]

মানহানি হলে কি করবেন ? মামলার কেস কিভাবে করতে হয় ? কি কি আইন আছে ?

September 28, 2022


মানহানি মামলার কেস কিভাবে করতে হয় , কি কি আইন আছে? পুলিশ কেস করবেন না কি নিয়মে এগুবেন ? 

মানুষ! মান আর হুঁশ এই দুই মিলে এক নাম। কিন্তু এই মানুষেরই যখন হুঁশ থাকে না, তখন আমরা তাঁকে বেহুঁশ বলি । মান আছে অথচ আমরা যখন তাঁকে মান দিই না, তখন তাকে অসম্মান করা হয়। আর মানী হোক বা না হোক ভদ্রলোক হলে আরেক ভদ্রলোককে মান দিতে হবে, এটাই বাস্তব কথা। আপনি যদি মান সম্মান ওয়ালা লোককে সম্মান প্রদর্শন না করেন , হতে পারে সেটা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্ত তাতে হইতে বিপরীত হতেও পারে । কারন যার মান সম্মান আছে সেটাও তার একান্ত ব্যক্তিগত, যা একপ্রকার সম্পদের মতো। যেমন দেখবেন কোনও কোম্পানি বিক্রি করার সময় সেই কোম্পানির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হিসেব করার সময় ‘গুড উইল’ও হিসেব করা হয় একটি টাকার অংকে। আপনি কারো মান সম্মান যখন নষ্ট করতে চাইবেন, তখন সেটি ওই ব্যক্তির মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর আপনি যখন কারো মান সম্মান নষ্ট করতে চান বা করেন, তখন আইনের ভাষায় সেটিকে বলে মানহানি। মানহানি এমন একটি অপরাধ যার বিরুদ্ধে ফৌজদারি এবং দেওয়ানী উভয় প্রকারের প্রতিকার পাওয়া যায়। 

আগে মানহানি সরাসরি বা অফলাইনে হলেও বর্তমানে অনলাইনেও মানহানি হয়ে থাকে। তাই সাইবার আইনেও মানহানিকে অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। আইপিসি ধারা ৪৯৯তে মানহানি সম্বন্ধে বলা হয়েছে। 

এই দণ্ডবিধি অনুসারে, একজন ব্যক্তি যদি অন্য কোনও ব্যক্তির সুনাম বা মান বা খ্যাতি যাই বলি না কেন, যদি সেটি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভ হয়ে বা ওই ব্যক্তির সুনাম/মান নষ্ট হবে জেনে শুনে শব্দের দ্বারা বা চিহ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে বা কোনও প্রকার প্রতীক যা দৃশ্যমান তার মাধ্যমে নিন্দা প্রকাশ পায়, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে উক্ত শব্দ/চিহ্ন/প্রতীক দ্বারা ওই ব্যক্তির মানহানি করা হয়েছে। 

এক্ষেত্রে আপনি হয়ত ভাবছেন যে, এভাবে হিসেব করলে তো চোরকেও চোর বলা যাবে না, কারণ এতে তার মানহানি হবে। কিন্তু, ব্যাপারটি সেটি নয়। আপনি যেমন কারো সুনাম নষ্ট করার জন্য কোনও নিন্দা প্রকাশ করতে পারেন না, তেমনি আপনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুনাম নষ্ট হলেও, মানহানি হলেও সত্য কথা বলতে পারবেন। সত্যি বলতে আপনার কোনও বাঁধা নেই, সেটি যেকোনো পর্যায়েই হোক না কেন। যেমন আপনি যদি জনগণের কল্যাণে, সরকারী কর্মচারীর সরকারী কোনও কাজে তার আচরণ সম্বন্ধে সরল বিশ্বাসে কিছু বললে, আদালতের কার্যবিবরণী প্রতিবেদন প্রকাশ করলে, জনসমস্যা বিষয়ে বা কোনও ব্যক্তির আচরণ সম্বন্ধে সরল বিশ্বাসে কিছু বললে, গণ-অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করলে, সরল বিশ্বাসে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করলে, আদালতের সিদ্ধান্তে মামলার দোষ, গুন নিয়ে সরল বিশ্বাসে কথা বললে সেটি মানহানি হবে না। মানহানি হতে হলে অবশ্যই আপনাকে মিথ্যা কিছু বলতে হবে, যদি তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়। সরল বিশ্বাসে সত্য কথা বললে সেটি কোনও মতেই মানহানি হচ্ছে না। যে চুরি করেনি, তাকে আপনি চোর বললে সেটা ওই ব্যক্তির জন্য মানহানি হবে।


মানহানি মামলা কে করবে?

এক্ষেত্রে আপনার মানহানি হলে আপনি মামলা করতে পারবেন, অথবা আপনার মৃত বাবা, মা বা কোনও আত্মীয়ের যদি মানহানি হয়ে থাকে তাহলেও আপনি মামলা করতে পারবেন। এছাড়া, অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা মানসিক বা শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী কারো মানহানি করা হলে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক মানহানির মামলা করতে পারবে। অর্থাৎ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তার পক্ষে অভিভাবক মানহানির মামলা করতে পারবেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৮ ধারা অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়াও নিমোক্ত ব্যক্তিগণ এই মামলা করতে পারবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়া মানহানির মামলা করলে আদালত তা আমলে নেবেন না। যদি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মহিলা হয় সেক্ষেত্রে নিচের শর্তসাপেক্ষে আদালতের অনুমতি নিয়ে অন্য কেউ মামলাটি করতে পারেন- 

(১) উক্ত মহিলা দেশের রীতিনীতি ও প্রথানুসারে জনসমক্ষে হাজির হতে বাধ্য করা উচিত হবে না।

(২) উক্ত মহিলার বয়স ১৮ বছরের নীচে অথবা উন্মাদ অথবা আহাম্মক বা পীড়া বা অক্ষমতার কারণে নালিশ করতে অসমর্থ হন।


মানহানির জন্য মামলা কীভাবে দায়ের করবেন?

মানহানি একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করা হিসেবে ধরা হয়। যে কোনও মানহানির দেওয়ানি প্রতিকার হতে পারে, যেখানে অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বা ফৌজদারি শাস্তি যেখানে অভিযুক্তকে ২ বছর পর্যন্ত সাধারণ কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।

মানহানির অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে মেজিস্ট্রেটের কাছে। যিনি একজন পুলিশ অফিসারকে তদন্ত করার নির্দেশ দেবেন এবং তৎপরবর্তী ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই দেওয়ানি মামলায়, অবশ্যই অভিযোগকারীকে সিপিসি ধারা ১৯ এর আওতায় থাকা দেওয়ানী আদালতে অভিযোগ দাখিল করতে হবে। 


মানহানি করলে কোন আইনে কি শাস্তির বিধান রয়েছে?

মানহানি সবসময় যে অফলাইনে হবে তা কিন্তু নয়। বরং, বর্তমানে অনলাইনে আমরা অফলাইনের চেয়ে অনেক বেশী সময় কাটাই। ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইত্যাদিতে আমরা এখন প্রচুর সময় কাটাচ্ছি, এমনকি কোনো পত্রিকা পড়তে হলেও আমাদেরকে এখন অনলাইনেই ক্লিক করতে হয়। এই অনলাইনেও কিন্তু মানুষ একজন আরেকজনের মানহানি ঘটাতে পারে। তাই, ভারতীয় দণ্ড সংহিতার ধারা ৫০০-র অন্তর্গত মানহানির জন্য ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়ই হতে পারে। এক্ষেত্রে কেউ যদি একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করে তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়ই পেতে পারে। আর এটি জামিন যোগ্য অপরাধ।

মানহানি হলে কি করবেন ? মামলার কেস কিভাবে করতে হয় ? কি কি আইন আছে ? মানহানি হলে কি করবেন ? মামলার কেস কিভাবে করতে হয় ? কি কি আইন আছে ? Reviewed by WisdomApps on September 28, 2022 Rating: 5

হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ -সহজ ভাষায় খুঁটিনাটি

September 10, 2022

হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫

হিন্দু বিবাহ আইন


হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী বিবাহ একটি ধর্মীয় সংস্কারমূলক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। শাস্ত্রীয় মতে হিন্দু বিবাহ নানা প্রকারে হতে পারে। তবে অগ্নি সাক্ষী রেখে সপ্তপদীসহ বিবাহই সাধারণভাবে মেনে চলা হয়। স্বাধীনতার পরে সমাজের নানা কু-প্রথা বদল করে হিন্দু মহিলাদের উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়ার জন্য হিন্দু বিবাহ আইন পাশ হয় ১৯৫৫ সালে। 

এই আইনের আওতায় যাঁরা আসেন :
(ক) জন্মসূত্রে যাঁরা হিন্দু (অর্থাৎ যাঁরা খৃষ্টান, মুসলিম, ইহুদি বা পার্সি নন; এক্ষেত্রে বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্মের লোকেদেরও হিন্দুদের মধ্যে ধরা হবে);
(খ) যে কোনও সন্তান (বৈধ/অবৈধ) যার বাবা / মায়ের মধ্যে একজন হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মাবলম্বী, অথবা এইসব সম্প্রদায়ের বাবা / মায়ের দ্বারা পালিত হয়েছে;
(গ) যিনি স্বেচ্ছায় অন্য ধর্ম ছেড়ে হিন্দু, বৌদ্ধ বা শিখ ধর্ম গ্রহণ করেছেন। বিশেষ দ্রষ্টব্য : তফসিলি জনজাতির মানুষ এই আইনের আওতায় পড়বেন না । তফসিলি জনজাতির বিয়ে তাদের নিজের নিজের প্রচলিত প্রথা ও রীতি অনুযায়ী হয়।

হিন্দু মতে আইনসিদ্ধ বিয়ে কখন হতে পারে ? 
(ক) বর ও কনে দুজনেই হিন্দু ;
(খ) বিয়ের সময় দুপক্ষের কারোরই আগের পক্ষের স্ত্রী বা স্বামী নেই (মৃত বা আইনতঃ বিচ্ছেদ হয়েছে);
(গ) দুপক্ষের উভয়েরই বিয়েতে বৈধ সম্মতি না দেওয়ার মত মানসিক অসুস্থতা নেই এবং সন্তান প্রজননে সক্ষম;
(ঘ) দুপক্ষের কেউই পাগল নন বা ঘন ঘন মৃগী রোগে আক্রান্ত হন না;
(ঙ) বিয়ের সময় বরের বয়স অন্ততঃ ২১ বছর ও কনের বয়স অন্ততঃ ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে;
(চ) বর কনের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও তার দরুন বিয়ে নিষিদ্ধ হবে না, যদি তাদের মধ্যে প্রচলিত রীতি বা প্রথা অনুযায়ী তা আপত্তিকর না হয়;
(ছ) প্রথামত হিন্দু অনুষ্ঠানের মধ্যে অবশ্যই অগ্নিসাক্ষী রেখে সপ্তপদী হওয়া প্রয়োজন । সপ্তম পদ নেওয়া হলেই বিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরতে হবে ;
(জ) শহরে বিবাহ করতে গেলে ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে বিবাহ রেকর্ড করতে হবে। গ্রামে বা পঞ্চায়েত এলাকায় বিবাহ করতে গেলে পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। হিন্দু বিবাহের জন্য যে আলাদা ফর্ম আছে, তাতেই সই করতে হবে;
(ঝ) যদি কোনও পুরুষ ও মহিলা একই ছাদের তলায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস (সহবাস) করেন, তাহলে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসাবেই গণ্য করা হবে। 

বিবাহ নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক -
পশ্চিমবঙ্গে এখন সব বিয়ে রেজিস্ট্রি করা আবশ্যিক। হিন্দু মতে বিয়ে হলে আগে রেজিস্ট্রি না করলেও চলত কিন্তু ১৯৯৯ থেকে আর তা সম্ভব নয় । 'লিখিত রেকর্ড' থাকতেই হবে ।

বিয়ে বাতিল -
(ক) যদি বিয়ের পরে জানা যায় যে আগের পক্ষের স্ত্রী বা স্বামী জীবিত ও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি।
(খ) বা দুজনের মধ্যে একজনের বিয়ের সময় মাথা খারাপ ছিল বা মৃগী রোগ ছিল।
(গ) শারীরিক কারণে যৌন সঙ্গমে অক্ষমতা ।
(ঘ) এক বছরের মধ্যে আদালতে অভিযোগ করা হয় যে অভিভাবকের সম্মতি জোর করে আদায় করা হয়েছিল। এক বছরের বেশি হলে বিয়ে বাতিল হবে না ।
(ঙ) বিয়ের সময় কনের গর্ভে অন্য কোনো পুরুষের সন্তান ছিল। এই বিষয়টি বিয়ের সময় জানা ছিল না।
কিন্তু –
উপরের কোনো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি তাঁরা ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় স্বামী-স্ত্রী হিসাবে সহবাস করে থাকেন, (এক বাড়িতে থাকলেই কোর্ট তাই ধরে নেবে) তাহলে বিয়ে বাতিল হবেনা ।

দাম্পত্যের অধিকার -
যদি অকারণে বা তুচ্ছ কারণে, স্বামী বা স্ত্রী হঠাৎ ঘর ছেড়ে চলে যায়, তবে অন্য জন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পারে জেলা আদালতে । যে ছেড়ে চলে গেছে তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে কারণগুলো সত্যিই তুচ্ছ নয় । তা না হলে কোর্ট আদেশ দেবেন ঘরে ফিরে যেতে ।
আদালতের অনুমতিতে আলাদা - পৃথক বসবাস -স্বামী বা স্ত্রী আদালতে লিখিত জানাবে কেন তাদের এক সাথে ঘর করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে । সেই বুঝে আলাদা থাকার অনুমতি-পত্র বা ডিক্রি দেবেন আদালত । এই ডিক্রি থাকলে সহবাসের অধিকার আর থাকে না । তবে নতুন করে আবেদন করে সে ডিক্রি নাকচ করানো যায়। 
হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ -সহজ ভাষায় খুঁটিনাটি হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ -সহজ ভাষায় খুঁটিনাটি Reviewed by WisdomApps on September 10, 2022 Rating: 5

ভারতীয় আইন অনুযায়ী কোনও মহিলাকে গ্রেপ্তারের নিয়ম কানুন কি ? জেনে নিন

September 09, 2022

 ভারতীয় আইন অনুযায়ী কোনও মহিলাকে গ্রেপ্তারের নিয়ম কানুন




অপরাধ! এই শব্দটা শুনলেই চোখ বন্ধ করলে শুধু কি পুরুষের মুখ মাথায় আসে, নাকি মহিলার। কেউ অপরাধ করেছে শুনলে সেখানে লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয় না সম্ভবত। তবে এখানে বলে রাখি নারী-পুরুষ অপরাধীর তালিকায় পুরুষদেরই বেশি দেখা যায়। কিন্তু নারীদের মাতৃরূপেন সংস্থিতা রূপ যে এখন আর এক নেই। যত দিন যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে ছবিটা। সব ধরণের অপরাধেই নারীদের আধিপত্য বাড়ছে। পারিবারিক স্তর থেকে আন্তর্জাতিক, মহিলাদের সমান অধিকারের মতো ‘অপরাধে’র দিক দিয়েও অনেকটাই এগিয়ে। 

তবে আজকের আলোচনা ভারতীয় আইনে মহিলাদের গ্রেপ্তারের কি কি নিয়ম কানুন রয়েছেআইন সবার ক্ষেত্রেই সমান কাজ করে। অপরাধ করলে শাস্তি তো পেতেই হবে। সে নারীই হোক কি পুরুষ। তাই কোনও ব্যক্তি অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী তাঁকে শাস্তি পেতে হবে। এছাড়া কোনও অপরাধ করলে প্রথম পদক্ষেপ হলো সেই ব্যক্তিটিকে/মহিলাটিকে গ্রেফতার করা।

এতে সেই ব্যক্তি অদূর ভবিষ্যতে আর কোনও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকেন। এছাড়া কখনো সেই ব্যক্তিকে জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্যেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করার পর সেই ব্যক্তিকে বিচারালয়ে হাজির করা হয়। এতে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা যেতে পারে।

অভিযুক্ত যদি মহিলা হয়ে থাকেন, তাহলে নিষ্পক্ষ শুনানির জন্য তার সুরক্ষা করা হবে প্রথম বিষয়। এছাড়া নিশ্চিত করতে হবে যে ১৯৭৩ এর ধারা ৪৬(৪) অনুসারে সেই মহিলাকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। এখানে আরেকটা জিনিস মুখ্য সূর্যাস্তের পর ও সূর্যোদয়ের আগে কোনও মহিলাকে গ্রেফতার করা যাবে না।

যদি কোথাও অন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে একজন মহিলা পুলিশ আধিকারিক দ্বারা রিপোর্ট লিখিত থাকতে হবে এবং একজন ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ অর্থাৎ অনুমতি প্রয়োজন হয়।

মহিলা মাত্রেই যে অপরাধ করবে না, এমনটা নয়। তবে তাঁকে গ্রেফতার করার আগে তার সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়। যাতে পুলিশের মারফত কোনো দুর্ব্যবহার না হয়। অথবা কোনও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি না হয়, এটাও মনে রাখতে হবে।

দিনের বেলা একজন পুরুষ আধিকারিক অপরাধকৃত মহিলাকে গ্রেফতার করতে পারে। তবে আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন-

👉১৯৭৩ এর ধারা ৫০ এক সি আর পি সি অনুযায়ী গ্রেফতারের ওপর ভিত্তি করে যে সমস্ত অধিকারগুলি রয়েছে, সেগুলি দেখতে হবে।

👉গ্রেফতার হওয়া মহিলাকে গ্রেফতার করার আগে, পুলিশ আধিকারিককে মহিলার আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবকে জানাতে হবে। যারা এ বিষয়ে তথ্য দিতে পারবেন।

👉একজন মহিলাকে গ্রেফতারের আগে পুলিশ আধিকারিকের কর্তব্য যে, মহিলার অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা।

👉সিআরপিসি ধারা ৫০ অনুযায়ী জামিনের অধিকার সম্পর্কে জানা।

👉 সিআরপিসি ধারা ৫৬ অনুযায়ী কোনরকম দেরি না করে মেজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া ২৪ ঘন্টার বেশি কোনও মহিলাকে জেল হেফাজতে রাখা অবৈধ।

👉ধারা ৭৬ অনুযায়ী ২৪ ঘন্টা বা তার বেশি সময় জেল হেফাজতে না রাখার অধিকার।

👉আইনি পরামর্শের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ রাখার অধিকার। যা গ্রেফতারের আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়।

👉গ্রেফতারের আগে মারপিট, হাতাহাতি করে হাতকড়া পড়ানো অবৈধ মনে করা হয়।

👉একজন মহিলাকে গ্রেফতার করার পর একজন মহিলা পুলিশই পারে সার্চ করতে। আর সেই সার্চ করার প্রক্রিয়া হবে খুবই ভদ্রসম্মত। মহিলার সম্মানহানি না করে।

👉একজন পুরুষ পুলিশ আধিকারিক মহিলা অপরাধিকে সার্চ করতে পারবেন না। তবে মহিলার ঘরে অনুসন্ধান করতে পারেন।

👉গ্রেফতারির সময় একজন ডাক্তারকে দিয়েও সার্চ করানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে তার অধিকার রয়েছে।

👉 অভিযুক্ত মহিলা অপরাধীর আইনি সহযোগীতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

👉 এই সময়, পুলিশ আধিকারিক মহিলাকে গ্রেফতার করার সময় নিয়ম মানতে না পারলে মহিলা অপরাধী উকিলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

👉 অভিযোগের সময় একজন ম্যাজিস্ট্রেটকেও সম্বোধন করতে পারে। যাতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

👉 এছাড়া যদি কোনও মহিলা অপরাধীকে অবৈধভাবে গ্রেফতার করা হয়, বা গ্রেফতারের সময় সম্মানহানি হয় তাহলে অভিযুক্ত মহিলা তার অধিকারগুলো ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে পারেন।

অপরাধমূলক কাজের জন্য মহিলাকে গ্রেফতার করা হলে, উপরিউক্ত সমস্ত অধিকারগুলি সম্বন্ধে অবগত থাকতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে যদি আপনার আইনি অধিকার বিরুদ্ধাচরণ হয়, তাহলে আপনি কোনও আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারবেন।


লিখেছেন- বৈশাখী নার্গিস

ভারতীয় আইন অনুযায়ী কোনও মহিলাকে গ্রেপ্তারের নিয়ম কানুন কি ? জেনে নিন  ভারতীয় আইন অনুযায়ী কোনও মহিলাকে গ্রেপ্তারের নিয়ম কানুন কি ? জেনে নিন Reviewed by WisdomApps on September 09, 2022 Rating: 5

পশ্চিমবঙ্গ বাড়িভাড়া আইন, ১৯৯৭ - বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সুবিধা সহ বিস্তারিত

January 16, 2022

পশ্চিমবঙ্গ বাড়িভাড়া আইন, ১৯৯৭

tenant law of west bengal

কিছু কথা : গত ১০ই জুলাই ২০০১ তারিখ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বাড়িভাড়া আইন, ১৯৯৭ চালু হয়েছে, ১৯৫৬ সালের প্রচলিত বাড়িভাড়া আইন বাতিল করে। এই আইন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা এলাকায় এবং ১৯৯৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইনের অধীনে যে সমস্ত পৌর এলাকা আছে সেখানে এই আইন প্রযােজ্য হবে। রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে অন্য কোনাে এলাকা এই আইনের অধীনে আনতে পারেন অথবা কোনাে এলাকাকে এই আইনের আওতায় বাইরে রাখতে পারেন।

১৯৯৭ সালের বাড়িভাড়া আইনের মূল বিষয়  ঃ

১৯৫৬ সালের বাড়িভাড়া আইনে নাগরিক হিসাবে একজন ভাড়াটিয়ার বাসস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল। এই সুবিধা গ্রহণ করে বহু ভাড়াটিয়া বংশ পরম্পরার একটি বাড়িতে বহু বছর অতিবাহিত করত। উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত। বাড়িওয়ালাদের অনেকদিনের দাবি ছিল যে এমন একটি আইন, যার সাহায্যে ভাড়া,উচ্ছেদ ইত্যাদি সমস্যার বিষয়গুলি দ্রুত সমাধান হয় এবং তারাও যেন কোনােভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। সেইজন্য ১৯৫৬ সালের আইনটি পরিবর্তন করে এই নূতন বাড়িভাড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নূতন আইনে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি ন্যায়নিষ্ঠ (ট্রাইবুন্যাল) গঠনের কথাও বলা হয়েছে। বাড়িভাড়া দেওয়া বা নেওয়ার চুক্তি । আইনে এ বিষয়ে কিছু বলা নেই—এটি বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়ার নিজস্ব ব্যাপার। যারা এইভাবে চুক্তি করে ভাড়া গ্রহণ করেন তাদের বলা হয় অনুমতি পত্রের অধিকারী (lieansee)। 

সাধারণতঃ ভাড়াটিয়াদের আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই বাড়িওয়ালা এই ধরনের চুক্তি করেন। তবে এইসব চুক্তিও নূতন ভাড়াটিয়া সুরক্ষা আইনের উর্ধ্বে নয়। যে কোনাে অবস্থায় যে কোনাে পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ নূতন আইন অনুযায়ী মামলা করতে পারেন। তবে ভাড়াটিয়া বাড়ি ছাড়তে নারাজ হলে জোর করে বাড়িওয়ালা কিছু করতে পারবেন না, আইনের সাহায্য নিতে পারবেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি (২৪ বছরের বেশী) ভাড়াটিয়া আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে না। তা ছাড়া মেয়াদ হবার আগে বাড়িওয়ালার যদি ঘরের ন্যায়সঙ্গত প্রয়ােজন’ (reasonable requirement) হয় তা হলে তিনি ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছেড়ে উঠে যেতে বলতে পারেন, অবশ্য ভাড়াটিয়া এই ব্যাপারে নিয়ন্ত্রকের কাছে কোনাে অভিযােগ করলে নিয়ন্ত্রক এই বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানবেন যে বাড়িতে কত ঘর আছে, বাড়িওয়ালার সত্যিই কোনাে ঘরের প্রয়ােজন আছে কি না ইত্যাদি।

মামলার প্রতিবেদন বের হবার আগে কোনাে পক্ষের মৃত্যু হলে তার উত্তরসূরি প্রতিবেদনের সুযােগ নিতে পারেন। অন্যপক্ষকে সেই প্রতিবেদন মান্য করে চলতে হবে। 


নূতন বাড়িভাড়া আইনের বৈশিষ্ট্যঃ 

আর্থিক ভাবে সমাজের দুর্বল শ্রেণীর মানুষের স্বার্থ রক্ষাই পশ্চিমবঙ্গ বাড়িভাড়া আইনের মুখ্য উদ্দেশ্য। সেইজন্য এই আইনেআবাসিক ভাড়াটিয়ার ক্ষেত্রে

(ক) কলকাতা ও হাওড়া পুরসভাভুক্ত এলাকায় বাড়িভাড়া যখন মাসিক ৬,৫০০ টাকা বা কম সেখানে এই আইন প্রযােজ্য। অন্যথায় ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

(খ) অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া যখন মাসিক ৩০০০ টাকা বা তার কম তখন এই আইন প্রযােজ্য। অন্যথায় ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রিত হবে। অনাবসিক (বাণিজ্যিক) ভাড়াটিয়ার ক্ষেত্রে(ক) কলকাতা ও হাওড়া পুরসভাভুক্ত এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে মাসিক ১০,০০০ টাকা বা তার কম হলে এই আইন প্রযােজ্য। অন্যথায় ১৮৮২ সালে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন দ্বারা তা নিয়ন্ত্রিত হবে।

(গ) অন্যান্য এলাকায় মাসিক ৫০০০ টাকা বা তার কম ভাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে এই আইন প্রযােজ্য। অন্যথায় ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন দ্বারা তা নিয়ন্ত্রিত হবে। এর ফলে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৬নং ধারানুযায়ী ১৫ দিনের নােটিশে ভাড়াটিয়া স্বত্ব খারিজ করা যাবে। পূর্ববর্তী বাড়িভাড়া আইনে এই রকম কোনাে বিধান ছিল না।

নূতন আইনে ভাড়াটিয়ার সুবিধাঃ

(১) বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে শুধুমাত্র ন্যায্য ভাড়ার টাকা দাবি করতে পারেন। ভাড়ার টাকা ছাড়া কোনাে অধিমূল্য, নবায়ন মূল্য বা অন্য কোনাে অজুহাতে নগদ টাকা বা দ্রব্য, দাবি অথবা গ্রহণ, দণ্ডযােগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। কিন্তু নিয়ন্ত্রকের পূর্বানুমতি নিয়ে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে এক মাসের ভাড়ার টাকা বেশি নয় এই রকম টাকা অগ্রিম হিসাবে গ্রহণ করতে পারবেন, কিন্তু কোনাে সেলামি, দর্শনী বা অগ্রিম হিসাবে ইচ্ছামত টাকা গ্রহণ করতে পারবেন না।

(২) বাড়িভাড়া প্রদানের জন্য আসবাবপত্র বিক্রয়ের শর্ত আরােপ করা যাবে না। ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেবার সময় বাড়িওয়ালা অথবা তার নির্বাচিত প্রতিনিধি ভাড়ার রসিদ দেবেন, রসিদ না দিয়ে ভাড়া গ্রহণ করা অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। বাড়িওয়ালা বাড়িটিকে বসবাসযােগ্য রাখবার জন্য রক্ষণাবেক্ষণ অর্থাৎ নিয়মিত মেরামতি ও প্রতিরােধমূলক ব্যবস্থা দ্বারা বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ অপারগ হন তখন ভাড়াটিয়া নিয়ন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে নিজের খরচে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবেন এবং খরচের টাকা প্রদেয় ভাড়া থেকে বাদ দিতে পারবেন। 

(৩) কোনাে ভাড়াটিয়া মারা গেলে তার পরিবারবর্গ যারা মৃত ভাড়াটিয়ার সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন ন্যায্য ভাড়া দিয়ে তারা পাঁচ বছর পর্যন্ত ঐ বাড়িতে বাস করতে পারবেন। বাড়িওয়ালার অনুমতি নিয়ে ভাড়াটিয়া উপ-ভাড়া দিতে পারবেন এবং বাড়িওয়ালার অনুমতি না নিয়ে তার অংশে বিদ্যুৎ সংযােগ নিতে পারবেন। মেরামত বা নির্মাণ বা পুননির্মাণের অজুহাত দেখিয়ে বাড়িওয়ালা বাড়ির দখল নিয়ে অযথা ফেলে রাখতে পারবেন না কিংবা মেরামত নির্মাণ বা পুননির্মাণ যাই হােক না কেন চুক্তি অনুযায়ী ভাড়াটিয়াকে না দিয়ে অন্য কাউকেও দখল দিতে পারবেন । তা দণ্ডযােগ্য অপরাধ।

(৪) বাড়িওয়ালা ভাড়া গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে ঐ ভাড়া ডাকযােগে মানিঅর্ডার করে ভাড়া দেওয়া যাবে। যদি বাড়িওয়ালা মানিঅর্ডারের টাকা গ্রহণ না করেন তখন ঐ বাড়িভাড়ার টাকা নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দিতে হবে। 


নূতন আইনে বাড়িওয়ালার সুবিধাঃ

(১) ভাড়াটিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে অথবা তার নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ভাড়া দেবেন। যে উদ্দেশ্যে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সেই উদ্দেশ্যেই ভাড়াটিয়া তা ব্যবহার করবেন, অন্য কোনাে উদ্দেশ্যে নয়।

(২) বাড়িওয়ালার লিখিত সম্মতি ছাড়া ভাড়াটিয়া বাড়ির কোনাে অংশ পরিবর্তন। বা সংযােজন করতে পারবেন না অথবা কোনাে অংশ উপ-ভাড়া দিতে পারবেন না বা কোনাে অংশের দখল হস্তান্তর করতে বা ন্যস্ত করতে পারবেন না।

(৩) নােটিশে বর্ণিত সময়ে বাড়ির যে কোনাে অংশে প্রবেশ পরিদর্শন করবার সুযোেগ বাড়িওয়ালা পাবেন। ন্যায্য ভাড়া যা স্থির হবে তার দশ শতাংশ হারে স্বাচ্ছন্দ্য খরচ বাবদ অতিরিক্ত টাকা ভাড়াটিয়াকে দিতে হবে। প্রত্যেক ভাড়াটিয়া পৌর আইন অনুযায়ী ভােগদখলকারী রূপে তার অংশের জন্য পৌর কর প্রদান করবেন।

(৪) বাড়ির দখল পরিত্যাগ করা বা হস্তান্তর করার জন্য ভাড়াটিয়া, বাড়িওয়ালার কাছ থেকে কোনাে রকম অর্থ দাবি করতে পারবেন না। যখন বাড়িওয়ালা সরকারি কর্মচারী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী বা সেনা, নৌসেনা বা বিমানবাহিনীর অব্যবহিতপ্রাপ্ত বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী তখন তিনি তাৎক্ষণিক বাড়ি উদ্ধার করার অধিকারী।

(৫) বাড়ির ন্যায্য ভাড়া এবং বৃদ্ধি বিভিন্ন সময়ে সরকার কর্তৃক প্রবৃদ্ধি করা যাবে। ভাড়াটিয়া আইন অমান্য করে উপ-ভাড়া প্রদান করলে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।


ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের কারণ :

নিম্নলিখিত কারণগুলি ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের জন্য প্রযােজ্য 

(১) ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১০৮ ধারার (৬); (১) এবং (৩) প্রকরণে বর্ণিত বিধানানুযায়ী প্রতিকূল কোনাে কাজ করলে; 

(২) যখন ভাড়াটিয়া অর্থনৈতিক বা অবৈধ কাজে বাড়িটি ব্যবহার করে;

(৩) যখন ভাড়াটিয়া বাড়িটির ক্ষতির জন্য দায়ী হয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ির ক্ষতিসাধন করে;

(৪) বাড়িওয়ালার লিখিত সম্মতি ছাড়া যখন ভাড়াটিয়া উপ-ভাড়া প্রদান করে;

(৫) যখন ভাড়াটিয়া বা তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি দশমাস পর্যন্ত বাড়িটি ব্যবহার করে তালাবন্ধ করে রাখে;

(৬) যখন ভাড়াটিয়া কোনাে বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট কেনেন বা তার নামে বরাদ্দ হয় অথচ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে উঠে না যান;

(৭) যখন ভাড়াটিয়া উৎপাত সৃষ্টি করেন বা বাড়িওয়ালা বা প্রতিবেশীদের উপদ্রব করেন;

(৮) যখন বাড়িওয়ালার নিজের অথবা যার স্বার্থে বাড়িটি করা হয়েছে তার ভােগদখলের যুক্তিসঙ্গত কারণে আবশ্যক হলে; এবং

(৯) যখন মাসিক ভাড়াটিয়া ১২ মাসের মধ্যে তিন মাসের ভাড়া দিতে ব্যর্থ হন। অথবা যখন মেয়াদী ভাড়াটিয়া তিন বছরের মধ্যে তিনি বার ভাড়া দিতে ব্যর্থ হন।

নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা :

নূতন আইনে নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রকের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে ন্যায়পীঠ স্থাপন হলে ন্যায়পীঠে এবং যতদিন না পর্যন্ত ন্যায়পীঠ স্থাপিত হয় ততদিন উচ্চ আদালতে।

পশ্চিমবঙ্গ বাড়িভাড়া আইন, ১৯৯৭ - বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সুবিধা সহ বিস্তারিত পশ্চিমবঙ্গ বাড়িভাড়া আইন, ১৯৯৭ - বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সুবিধা সহ বিস্তারিত Reviewed by WisdomApps on January 16, 2022 Rating: 5

পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার ও টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৯৭

November 23, 2021

 পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার ও টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৯৭ 


১৯৯৮ সালের ৩রা আগস্ট তারিখ থেকে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে উপরােক্ত আইনটি কার্যকরী হয়েছে। এই সংক্রান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে উক্ত তারিখে ৪২৩৮ নম্বর বিধান অনুসারে।

এখন থেকে এই আইনের কর্তৃপক্ষের অফিসের ঠিকানা হয়েছে বিকাশভবন, তৃতীয় তল, সাউথ ব্লক, সল্টলেক সিটি, কলকাতা ৭০০০৯১।

এই আইনের কতকগুলি বিশেষ বিষয়ের ওপর আলােকপাত করা হলাে।

ট্রাইবুন্যালের কর্তৃত্ব, ক্ষমতা এবং সেই ক্ষমতার ক্ষেত্রাধিকার অর্থাৎ জুরিসডিকসন নির্ণয়

(ক) প্রথমত, নির্দিষ্ট আইন : পশ্চিমবঙ্গ জমিদারী অধিগ্রহণ আইন, ১৯৫৩ পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন, ১৯৫৫ কলিকাতা ঠিকা টেন্যান্সি (অধিগ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮১ পশ্চিমবঙ্গীয় কৃষিমজুর, হস্তশিল্পী ও মৎস্যজীবীদের জন্যে বাস্তুভিটা অধিগ্রহণ আইন, ১৯৭৫ পশ্চিমবঙ্গ প্রেমিসেস টেন্যান্সি অ্যাক্ট, ১৯৯৭ দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া আদেশের ব্যাপারে ট্রাইবুন্যাল তার ক্ষমতা প্রয়ােগ করতে পারেন।

(খ) এই আইনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা বা ইচ্ছাকৃত অযত্ন বা অমনােযােগীতার বিরুদ্ধে এই ট্রাইবুন্যাল উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

(গ) জমিদারী অধিগ্রহণ আইনের ৩৬ নম্বর ধারা অনুসারে মাইনস ট্রাইবুন্যালের দেওয়া কোনাে আদেশের বিরুদ্ধে কোনাে আপিল এই ট্রাইবুন্যাল বিচারের জন্য নিতে পারেন।

(ঘ) ভারতীয় সংবিধানের ব্যবস্থা বা অবস্তুর সাথে যদি উপরিবর্ণিত কোনাে আইনের সংঘাত বাঁধে বা আইনটি প্রয়ােগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ব্যবস্থা অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করা হয়েছে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তাহলে ট্রাইবুন্যাল সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

(ঙ) হাইকোর্টে এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষ যে সমস্ত বিষয়ের নিষ্পত্তি শুনানি, মামলা বা আপিল কার্যক্রমের জন্যে ট্রাইবুন্যালকে দায়িত্ব নিতে বলবেন, ট্রাইবুন্যাল মেইন বিষয়গুলি দেখবেন। 

ট্রাইব্যুন্যালের কাছে কিভাবে দরখাস্ত পেশ করতে হবে ।

উক্ত আইনের ১০ নম্বর ধারাতে বলে দেওয়া হয়েছে, ট্রাইবুন্যালের কাছে কিভাবে দরখাস্ত পেশ করতে হবে।

(১) এই আইনের ৬ নম্বর ধারার ব্যবস্থা অনুসারে যদি কোনাে ব্যক্তি ভূমি সংস্কার দপ্তরের প্রদত্ত কোনাে আদেশের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আবেদন করতে চান অথবা কোনাে স্তরের আধিকারিকের দেওয়া আদেশ তার মনঃপুত না হয় অথবা আধিকারিকের কোনাে কাজ সম্পর্কে মনের ভেতর ক্ষোভ থাকে তাহলে তিনি ট্রাইবুন্যালের কাছে অভিযােগ জানাতে পারবেন। রাজ্য সরকারের কোনাে পদক্ষেপ সম্পর্কে তার ক্ষোভ

থাকলেও তিনি ট্রাইবুন্যালের কাছে আবেদন করতে পারবেন। 

(২) ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্তৃপক্ষের এই জাতীয় আদেশ দানের সাত দিনের মধ্যে উক্ত আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কোর্ট ফি দিতে হবে। 

(৩) অভিযােগকারী ব্যক্তি বা আবেদনকারী পক্ষ আইনগত ভাবে তার অসুবিধা নিরসনে যা যা কর্তব্য তা পালন করেছেন কিনা সঠিকভাবে তা দেখা হবে। ট্রাইবুন্যাল যদি দেখতে পান যে সমস্ত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও অভিযােগকারীর সমস্যাটি সমাধান হয়নি, তাহলে ট্রাইবুন্যাল উক্ত ক্ষেত্রটিতে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। 

(৪) যদি ট্রাইবুন্যাল দেখেন যে আবেদনটিতে সব বিষয়ের বর্ণনা যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, আবেদনকারী কোর্ট ফি জমা দিয়েছেন এবং অভিযােগগুলিকে যুক্তিগ্রাহ্য ভাবে পেশ করেছেন তাহলে ট্রাইবুন্যাল সেটি বিবেচনা করবেন। যদি কোনাে জায়গাতে, কোনাে ত্রুটি চোখে পড়ে তাহলে ট্রাইবুন্যাল প্রথমেই উক্ত আবেদনটিকে বাতিল হিসাবে ঘােষণা করবেন।

(খ) পশ্চিমবঙ্গ ভূমিসংস্কার আইন, ১৯৫৫।

(গ) পশ্চিমবঙ্গীয় কৃষি, শ্রমিক, হস্তশিল্পী এবং বাদ্যজীবীদের জন্যে বাজমি অধিগ্রহণ আইন, ১৯৭৫।

(ঘ) কলিকাতা ঠিকা টেন্যান্সি (অধিগ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮১।

(ঙ) পশ্চিমবঙ্গ প্রেমিসেস টেন্যান্সি অ্যাক্ট, ১৯৯৭।

এই আইনে যেখানে নির্দিষ্ট আইনে'—এই অনুসঙ্গটি ব্যবহৃত হয়েছে যেখানে এই পাঁচটি আইনের যে-কোনাে আইনকে বােঝানাে হবে।


পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার ও টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৯৭  পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার ও টেন্যান্সি ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৯৭ Reviewed by WisdomApps on November 23, 2021 Rating: 5

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বেশিরভাগ মহিলাই টাকা পাবেন না- কারন বিস্তারিত জেনে নিন

August 21, 2021

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প 

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার'মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এই প্রকল্পের সূচনা করেন । এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা সদস্যদের জন্য ন্যূনতম মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা । 

কারা এই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ?

২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই সুযােগ পাবেন। সাধারণ আর ও.বি.সি. সম্প্রদায়ের প্রার্থীরা মাসে ৫০০ টাকা | আর তপশিলী জাতি [S.C ]  ও তপশিলী উপজাতি [S.T]  সম্প্রদায়ের প্রার্থীরা মাসে ১,০০০ টাকা করে পাবেন। কোনাে সরকারি, সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা, বিধিবদ্ধ সংস্থা, পঞ্চায়েত, পৌরনিগম, পৌরসভা, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা, সরকার পােষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি সংস্থাতে নিয়মিত কোনাে চাকরি থেকে মাসিক উপার্জন করে থাকলে যােগ্য নন। 

‘লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্পের দরখাস্তের ফর্ম পূরণের সঙ্গে কি কি প্রমাণপত্র সঙ্গে থাকতে হবে ?

এই প্রমাণপত্র গুলি লাগবে :
(১) পাশপোের্ট মাপের রঙিন ফটো (দরখাস্তের ওপরের ডানদিকে নির্দিষ্ট জায়গায় সেঁটে), (২) স্বাস্থ্যসাথীকার্ডের স্ব-প্রত্যয়িত [ নিজে সই করে দিতে হবে ] জেরক্স কপি, 
(৩) আধার কার্ডের স্ব-প্রত্যয়িত জেরক্স
(৪) তপশিলী জাতি বা, তপশিলী উপজাতি সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের বেলায় কাস্ট সার্টিফিকেটের স্ব-প্রত্যয়িত জেরক্স, 
(৫) ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর (ব্যাঙ্কের ঠিকানা, আই.এফ.এস.সি. কোড, এম,আই.সি.আর, কোড সহ), 
(৬) রেশন কার্ডের স্ব-প্রত্যয়িত নকল, 
(৭) বাসিন্দা সাটিফিকেটের স্ব প্রত্যয়িত নকল, [ পঞ্চায়েত বা পোউরসভা থেকে তুলতে হবে]
(৮) বৈধ মােবাইল নম্বর ও ই-মেল আই.ডি, (যদি থাকে)।

‘লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্পের প্রয়ােজনীয় নির্দেশাবলী 

(১) প্রার্থীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।
(২) স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। যাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই, তারা আধার কার্ড দিয়ে দরখাস্ত করে এনরােলমেন্ট করে রাখতে পারেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেলে তবেই টাকা পাবেন।
(৩) একই পরিবারে একাধিক মহিলা থাকলে, যার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড | আছে, শুধুমাত্র তিনিই পাবেন। একাধিক মহিলা পাবেন না।
(৪) সরকার বা, সরকার পােষিত সংস্থায় যাঁরা চাকরি করেন তারা যােগ্য নন। 
(৫) পেনশন প্রাপ্ত মহিলারাও যােগ্য নন।
(৬) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।
(৭) যিনি আবেদন করবেন, তার নামেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। অন্য কারাে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিংবা জয়েন্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলে যোগ্য নন।
(৮) সরকারি বা বেসরকারি যে কোনাে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট থাকলেই হবে।
(৯) ইনকাম ট্যাক্স দেন এমন মহিলারা যােগ্য নন
(১০) লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলােড করে নিলে হবে না। এই ফর্ম সরাসরি দুয়াবে সরকার ক্যাম্প থেকেই সংগ্রহ করতে হবে


কোন মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্পে টাকা পাবেন না ? 


১। বয়স ২৫ এর নিচে বা ৬০ এর উপরে হলে তিনি লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পে টাকা পাবেন না । 

২। কোনো মহিলার নামে ব্যাবসার কারনে আই টি ফাইল করা থাকলে তিনি লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পে টাকা পাবেন না ।

৩। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না থাকলে আপনি আধার কার্ড দিয়ে আপ্লাই করবেন কিন্ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত টাকা পাবেন না । 

৪। একই পরিবারের একাধিক মহিলা থাকলে মাত্র ১ জন অর্থাৎ যার নামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড  আছে তিনিই পাবেন বাকিরা পাবেন না 

এই শর্তগুলি ঠিক ঠাক পালন না হলে অনেক মহিলাই এই প্রকল্পের কোনো টাকাই পাবেন না । কাজেই সব দিক দেখে নিয়ে তবেই ফর্ম ফিলাপ করবেন । 
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বেশিরভাগ মহিলাই টাকা পাবেন না- কারন বিস্তারিত জেনে নিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বেশিরভাগ মহিলাই টাকা পাবেন না- কারন বিস্তারিত জেনে নিন Reviewed by WisdomApps on August 21, 2021 Rating: 5

এই পদ্ধতিতে রেলের টিকিট ক্যান্সেল করলে ৪ ঘন্টাতেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে

June 26, 2021


এবার থেকে ওয়েটিং লিস্ট কিংবা আরএসি’তে থাকা ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে যাত্রীদের অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত চলে যাবে। সৌজন্যে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন লিমিটেড (আইআরসিটিসি)। এই সংস্থা ‘আই-পে’ নামে নিজস্ব পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করেছে। যার মাধ্যমে যাত্রীরা আইআরসিটিসি অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটার সময় ‘আই-পে’ গেটওয়ের মাধ্যমে দাম মেটাতে পারবেন। আবার ওয়েটিং লিস্ট কিংবা আরএসি’তে থাকা টিকিট ক্যানসেল করলে ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন যাত্রী। আগে ক্যানসেল করা টিকিটের মূল্য ফেরত পেতে তিন থেকে চারদিন সময় লেগে যেত। এ প্রসঙ্গে রেলের এক কর্তা বলেন, আগে যাত্রীরা নিজস্ব ব্যাঙ্ক কিংবা অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে টিকিটের দাম মেটাতেন। সেই টিকিট বাতিল করা হলে টাকা ফেরতের প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং আইআরসিটিসি’র মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানে সময় লাগত। এখন আইআরসিটিসি’র নিজস্ব ‘পেমেন্ট গেটওয়ে’ চালু হয়ে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত চলে যাবে।


জানা গিয়েছে, আইআরসিটিসি” মাধ্যমে গোটা দেশে প্রতিদিন অনলাইনে প্রায় ৯ লক্ষের বেশি টিকিট কাটা হয়। বহুক্ষেত্রে টিকিট কনফার্ম না হলে অনেকেই টিকিট ক্যানসেল করেন। এক্ষেত্রে আগে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে তিন-চারদিন নময় লাগত। ফলে হয়রানির শিকার হতেন যাত্রীরা। করোনাকালে এই সমস্যা চরমে পৌছেছিল। কারণ, এই পর্বে সীমিত সংখ্যক স্পেশাল ট্রেন চলছে। ফলে: ট্রেন সফরের জন্য মুলত অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হবে যাত্রীদের । তবে IRCTC এর এই নয়া ব্যাবস্থায় টিকিটের মুল্য ফেরত পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে। ফলে করোনার সময় এই “আই-পে" গেটওয়ে অধিকাংশ রেলযাত্রীর কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশের মোট বুকিং হওয়া রেল টিকিটের ১৩ শতাংশই কাটা হচ্ছে “আই-পে" গেটওয়ের মাধ্যমে। আইআরসিটিসি'র এই নতুন পেমেন্ট মাধ্যমে একদিনে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২৫ হাজার রেল টিকিটের দাম মেটানো হয়েছে।


তথ্যসূত্র - বর্তমান পত্রিকা ২৭/০৬/২১

এই পদ্ধতিতে রেলের টিকিট ক্যান্সেল করলে ৪ ঘন্টাতেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে এই পদ্ধতিতে রেলের টিকিট ক্যান্সেল করলে ৪ ঘন্টাতেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে Reviewed by WisdomApps on June 26, 2021 Rating: 5

এখন থেকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মচারীরাও চাকরীক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানে হাইকোর্টে বিচার চাইতে পারবেন

June 16, 2021



কলকাতা: বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীরাও হাইকোর্টে বিচার চাইতে পারেন না। যেহেতু সেগুলি সরকারি বা সরকার পােষিত নয়। কিন্তু, বিনীতা পটনায়েক পাধি'র মামলায় মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শেখর ববি শরাফ সাফ জানালেন, শিক্ষার অধিকার আইন ও রাজ্যের ডল্লুবিআরটিই বিধি অনুযায়ী আদালত এমন বিচারপ্রার্থীর অভিযােগের বিচার করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সেনা বিদ্যালয়ের আর্জি খারিজ করে দেওয়া এই রায় আগামী দিনে এমন বিদ্যালয়গুলির শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের সামনে মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।

 পানাগড়ের আর্মি পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে তিনি কাজ করছিলেন। এই পদে তাঁর শিক্ষানবিশিকালের মেয়াদ বৃদ্ধিও হয়েছিল। আচমকাই তাঁকে সেখানকার চেয়ারম্যান ছাটাই করেন। এভাবে তাঁর মৌলিক ছাড়াও বিধিবদ্ধ কিছু অধিকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি হাইকোর্টে অভিযােগ করেন। কিন্তু, বিদ্যালয় তথা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দাবি করা হয়, এটি যেহেতু অনুদানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাই কোনওভাবেই বিদ্যালয়টিকে সরকারি তকমা তথা পাবলিক বডি বলা যায় না। যদি কোনও অভিযােগ থাকে, তাহলে মামলাকারীকে দেওয়ানি আদালতে যেতে হবে, হাইকোর্টে নয়। জবাবে মামলাকারীর আইনজীবী সােনাল সিনহা জানান, শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী রাজ্য যে বিধি তৈরি করেছিল, সেটি রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেয়েছে। কলকাতা গেজেটেও তা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু, সেই সূত্রে কোনও নির্দেশিকা এখনও বেরয়নি। ফলে সেটি এখনও আইন নয়। যদি তা হতাে, তাহলে সেই সূত্রে  মামলাকারী সেই আইন গঠিত কমিশনে [ওয়েস্ট বেঙ্গল অনুযায়ী অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ (অ্যাডজুটিকেশন অব স্কুল ডিসপিউটস) কমিশন অ্যাক্ট, ২০০৮] বিচার চাইতে পারতেন। সেই সুযােগ না থাকায় এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী তিনি হাইকোর্টেই বিচার চাইতে পারেন।

 এই প্রেক্ষাপটে আদালত তার অন্তর্বত্তী রায়ে বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির কাজ বিচারযােগ্য। যেহেতু সেটি শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। ফলে ওই বিদ্যালয় ও মামলাকারীর মধ্যে চাকরি সংক্রান্ত যে চুক্তি হয়েছিল, তা এই আদালত খতিয়ে দেখতে পারে। তাই চার সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্ত পক্ষকে হলফনামা দিয়ে অভিযােগের জবাব দিতে হবে। অন্যদিকে, এই মামলার জেরে ওই পদে নতুন যিনি এসেছেন, তাঁর স্বার্থও যেহেতু জড়িয়ে থাকবে, তাই তাঁকেও এই মামলায় যুক্ত করতে হবে। 


তথ্যসূত্রঃ বর্তমান পেপার 

এখন থেকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মচারীরাও চাকরীক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানে হাইকোর্টে বিচার চাইতে পারবেন এখন থেকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মচারীরাও চাকরীক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানে হাইকোর্টে বিচার চাইতে পারবেন Reviewed by WisdomApps on June 16, 2021 Rating: 5

এবার পোস্টম্যান বাড়ি এসে আধারের সাথে মোবাইল লিঙ্ক করে দিয়ে যাবে

June 06, 2021


প্রায় ৪০ কোটি আধার কার্ডে মোবাইল নম্বর নেই। এতদিন মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করতে হলে প্রচুর ঝক্কি পোহাতে হতো। তবে এবার সেই দুর্ভোগের অবসান হতে চলেছে। পোস্টম্যান বা ডাকসেবকরা বাড়ি গিয়ে আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর রেজিস্টার করে দিয়ে যাবেন। তার জন্য দিতে হবে মাত্র ৫০ টাকা। মোবাইল নম্বর রেজিস্টার হয়ে গেলে ঘরে বসেই মোবাইলে এম আধার ডাউনলোড করে আধার সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করা যাবে। আধার কার্ডের সংশোধনের জন্য আর হয়রানির শিকার হতে হবে না।


সুকান্ত ভট্টাচার্যের যুগে খবর পাওয়ার ভরসা ছিল ডাক ব্যবস্থা। কিন্তু, তথ্য প্রযুক্তি ও স্মার্ট ফোনের যুগে খবর পেতে আর “'রানারে”র জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা ডাক বিভাগ চালিয়ে যাচ্ছে। চেষ্টা চলছে ব্যাক্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকারও। করোনা আবহে বাড়িতে টাকা পৌছে দিয়ে ডাকবিভাগ বহু নিসঙ্গ, অসহায় মানুষের আশীর্বাদ কুড়িয়েছে। এবার আধার কার্ডে মোবাইল সংযুক্ত করার মতো টেকনোলজি নির্ভর কাজ করবেন ডাক বিভাগের কর্মীরা।

ডাক বিভাগের নিজস্ব ব্যাক্কিং পরিষেবা ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্ট প্রায় ৪০ কোটি আধার কার্ডে মোবাইল নম্বর নেই। এতদিন মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করতে হলে প্রচুর ঝক্কি পোহাতে হতো। তবে এবার সেই দুর্ভোগের অবসান হতে চলেছে। পোস্টম্যান বা ডাকসেবকরা বাড়ি গিয়ে আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর রেজিস্টার করে দিয়ে যাবেন। তার জন্য দিতে হবে মাত্র ৫০ টাকা। মোবাইল নম্বর রেজিস্টার হয়ে গেলে ঘরে বসেই মোবাইলে এম আধার ডাউনলোড করে আধার সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করা যাবে। আধার কার্ডের সংশোধনের জন্য আর হয়রানির শিকার হতে হবে না।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের যুগে খবর পাওয়ার ভরসা ছিল ডাক ব্যবস্থা। কিন্তু, তথ্য প্রযুক্তি ও স্মার্ট ফোনের যুগে খবর পেতে আর “'রানারে”র জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা ডাক বিভাগ চালিয়ে যাচ্ছে। চেষ্টা চলছে ব্যাক্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকারও। করোনা আবহে বাড়িতে টাকা পৌছে দিয়ে ডাকবিভাগ বহু নিসঙ্গ, অসহায় মানুষের আশীর্বাদ কুড়িয়েছে। এবার আধার কার্ডে মোবাইল সংযুক্ত করার মতো টেকনোলজি নির্ভর কাজ করবেন ডাক বিভাগের কর্মীরা।

ডাক বিভাগের নিজস্ব ব্যাক্কিং পরিষেবা ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্ট

তথ্যসূত্র: বর্তমান পত্রিকা 
এবার পোস্টম্যান বাড়ি এসে আধারের সাথে মোবাইল লিঙ্ক করে দিয়ে যাবে এবার পোস্টম্যান বাড়ি এসে আধারের সাথে মোবাইল লিঙ্ক করে দিয়ে যাবে Reviewed by WisdomApps on June 06, 2021 Rating: 5

বিড়াল বা কুকুর পেটালে জরিমানা ৭৫০ টাকা সাথে ৫ বছরের জেল

February 06, 2021


বিড়াল একটু চালাক চতুর প্রানী , নিজের খাবার সে নিজেই খুজে নেয় । কিন্ত কুকুর হল মানুষ নির্ভর । চেনা অচেনা মানুষের কাছে ঘেসে এসে লেজ দুলিয়ে খাবার চাইতে বা একটু আদর খাওয়ার জন্য এরা উদগ্রীব হয়ে থাকে । কিছু মানুষ আছে যারা এই সহজ সরল জীবের মনের কথা বোঝে , একটু আদর করে বা কিছু খাবার দিয়ে সাহায্য করে । কিন্ত এমন অনেকেই আছেন যারা  চলতে চলতে রাস্তার পাশে থাকা কুকুর বিড়াল কে দেখে লাথি মারেন  বা ঢিল ছোড়েন । পশুদের উপর অত্যাচার ও পশু হত্যার বিরুদ্ধে বহুবার দেশ জুড়ে বিভিন্ন রকমের আন্দোলন  হলেও কোনো সুরাহা হয়নি । PCA আইন অনুযায়ী সামান্য ১০ টাকা বা সর্বাধিক ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে গেছে শত শত অপরাধী । কিন্ত এবার সেই অপকর্ম করলে পকেট থেকে 750 টাকা গুনাগার দিতে হবে । 

পশুদের উপর অত্যাচার বা পশুহত্যার সাজা কঠোর করতেই এমন আইনের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার । 60 বছরের পুরনো PCA আইনের সংশোধনীর খসড়া তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ।  পশুদের উপর অত্যাচার করলে ন্যূনতম 750 টাকা জরিমানার সংস্থান করা  হচ্ছে পাশাপাশি পশু হত্যার ক্ষেত্রে 75 হাজার টাকা বা পশুর মূল্যের তিনগুণ জরিমানা সংস্থান রাখা হয়েছে । তাছাড়া ৫ বছর পর্যন্ত হাজতবাস হতে পারে । অপরাধের বিচারে হাজতবাস ও জরিমানা সংস্থান দুটিই একসাথে রাখা হয়েছে ।  চলতি আইনে পশুদের পেটানো, লাথি মারা ,অত্যাচার করা, খেতে না দেওয়া ,যানবাহনে গাদাগাদি করে নিয়ে যাওয়া বা অঙ্গচ্ছেদের ক্ষেত্রে সামান্য ১০ টাকা থেকে সর্বাধিক 50 টাকা জরিমানা করা হয় । কোনো হাজতবাসের নিয়ম নেই । 



গত বছর কেরলে বিস্ফোরকভর্তি আনারস খেয়ে মারা যায় একটি হাতি।  সেই প্রসঙ্গ টেনে শুক্রবার রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ রাজিব চন্দ্রশেখর জানতে চান, এই আইন নিয়ে কেন্দ্র কিছু ভাবছে কিনা ।  উত্তরে কেন্দ্রীয় মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন ১৯৬০ সালের PCA আইনের সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছে । সরকার আরো কঠোর আইন আনার চিন্তা করছে । সংশোধনীতে জরিমানার পরিমাণ অনেকটাই বাড়ানো এবং শাস্তি সংস্থান রাখা হয়েছে । এর বিস্তারিত কিছু জানাননি মন্ত্রী । তবে সূত্রের খবর , পশুদেরএর উপর অত্যাচার কে কগনিজেবল অফেন্স হিসেবে খসড়া সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে । পশুদের উপর অত্যাচার কে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে - অল্প আঘাত , ভারি আঘাতে বিকলাঙ্গতা এবং আঘাতের জেরে খুনের জরিমানা যথাক্রমে ৭৫০ টাকা থেকে ৭৫  হাজার টাকা এবং অপরাধের গুরুত্ব বিচারে পাঁচ বছর পর্যন্ত হাজতবাস হতে পারে । এক্ষেত্রে রাজ্য পশু কল্যান বোর্ডকে স্বশাসিত বোর্ডের মর্যাদা দেওয়া হবে। 

বিড়াল বা কুকুর পেটালে জরিমানা ৭৫০ টাকা সাথে ৫ বছরের জেল বিড়াল বা কুকুর পেটালে জরিমানা ৭৫০ টাকা সাথে ৫ বছরের জেল Reviewed by WisdomApps on February 06, 2021 Rating: 5

পেট চিরে গর্ভস্থ শিশু চুরি

January 15, 2021


আমেরিকায়  পেট চিরে গর্ভস্থ শিশু চুরি,  কোট-এর রায় মৃত্যু দন্ড

লিসা একজন মহিলা কিন্তু তার ক‍ৃতকর্মে জন‍্য শেষ নিজেকে শেষ রক্ষা করতে পারল না। আমেরিকান সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপে তার মৃত‍্যুদন্ড কার্যকরী হল।
গত সত্তর বছরে মার্কিণ মুলুকে মৃত‍্যুদন্ড প্রাপ্ত একমাত্র মহিলা বন্দি লিসা মন্টগোমারির সাজা কার্যকর হল।
2004 সালে মিসৌরিতে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে শ্বাসরোধ করে, তাঁর পেট চিরে গর্ভস্থ শিশু চুরির অপরাধে লিসাকে দোষী সাবস্ত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তপাতের ফলে মত‍্যু হয় ববি জো স্টিনেট নামে তেইশ বছরের যুবতীকে। 
তদন্তে জানা যায়, সোশ‍্যাল সাইটে কুকুর প্রেমী
পরিচয় দিয়ে ববির সাথে ভাথে ভাব জমায় ৫২বছরের লিসা। ববির নানা তথ‍্য জোগাড় করে লিসা। এরপর একদিন ববির বাড়িতে নারকীয় ঘটনাটা ঘটায়। পেট চিরে যে শিশুটাকে ধরনীতে আবির্ভাব নামিয়ে আনে সেই শিশুটি নিজের সন্তান বলে পরিচয় দ‍্যায় প্রতিবেশীর কাছে।
শেষমেষ ধরা পড়ে যায় লিসা। পুলিশি জেরায় ববিকে খুনের কথা স্বীকার করে। 
২০০৭ সালে লিসাকে দোষী সাবস্ত করে মৃত‍্যুদন্ড দ‍্যায় আদালত। 
লিসার আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, যে লিসা মানসিক রুগী এবং প্রচন্ড অসুস্থ, তাকে মৃত‍্যুদন্ড রদ করা হোক। 
পরিবার সূত্রে জানা যায় যে, শৈশবে নিজের বাবর কাছে যৌন হেনাস্থার শিকার হয় সে। মা তাকে পাচার করে দিয়েছিল।২০০৪ সালে ওই ঘটনার সময় লিসা কাল্পনিক জগতে বিচরণ করত। বাস্তবের সাথে কোন মিলই ছিল না। তবে তার পরিবার এই অপরাধের জন‍্য ক্ষমা করেনি একদম।
২০০৮ সাল থেকে টেক্সাসের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মহিলা বন্দিদের জেলে ছিল লিসা। সেখানে চিকিৎসাও পেত।
মৃত‍্যুদন্ড কার্যকর হওয়ার খবরেও অবশ‍্য নির্বিকার ছিল লিসা।
তার শেষ ইচ্ছা আদালত জানতে চায়, লিসার উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত," না, কোন ইচ্ছে নেই।"
বুধবার ভোর রাতে ইন্ডিয়ানার কারাগারে ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করে তার মৃত‍্যু কার্যকর করা হয়।
পেট চিরে গর্ভস্থ শিশু চুরি  পেট চিরে গর্ভস্থ শিশু চুরি Reviewed by Admin on January 15, 2021 Rating: 5

লোকসমক্ষে গালাগালি করলে ১ মাসের জেল বা ২০০টাকা জরিমানা - সাজা পেলেন উকিল

June 14, 2020

১৪ই জুন তামিলনাড়ুর থুঠুকুডি জেলার লোকাল কোর্টে একটি কেসের নিস্পত্তি হচ্ছিল । কোভিড -১৯ প্যান্ডেমিকের কারনে এই কেসের মীমাংসা হচ্ছিল সম্পূর্ণ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে । কোর্টের জজ ও অন্যান্য উকিলেরাও লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে আলাপ আলোচনা চালাচ্ছিলেন । এরই মাঝখানে অ্যাডভোকেট স্যামোয়েল রাজেন্দ্র হঠাত খুব নিম্নমানের একটি গালাগালি দিয়ে ফেলেন । গালাগালিটি  আঞ্চলিক ভাষার অত্যন্ত কুরুচিকর একটি কথা । এই সময় জজ সাহেব মনোযোগ দিয়ে আসামীর বেইল অ্যাপিল শুনছিলেন । তিনি চমকে ওঠনে এবং খুব রেগে যান । 
অ্যাডভোকেট স্যামোয়েল এই কোর্টের একজন গণ্যমান্য উকিল হয়েও কিভাবে কোর্টকে এমন অপমানজনক কথা বললেন এই ভেবে জজ আশ্চর্য হয়ে যান । প্রায় ৩০ বছর ধরে অ্যাডভোকেট স্যামোয়েল এই কোর্টে তার ওকালতির চর্চা করে চলেছেন । এধরনের অবভ্য আচরণের আগে কখনো করেননি । আজ কি কারনে তিনি এইভাবে অকথ্য ভাষায় কোর্টকে গালি দিলেন সেটা জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট স্যামোয়েল জানান - " তিনি  বাড়ি থেকে লাইভ ভিডিও কলের মাধ্যমে কেস লড়ছেন । আসামীর বেইল অ্যাপিল চলা কালীন ওনার বাড়িতে কিছু সমস্যা হয় এবং সেই কারনে তিনি বাড়ির লোককে গালি দেন । কাজেই গালিটি কোনোভাবেই কোর্টের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়নি । অন্য কারোর উদ্দেশ্য দেওয়া  । তিনি ভুলে গেছিলেন যে কোর্টে লাইভ সেসন চলছে । " 

তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে বিচারপতি অ্যাডভোকেট স্যামোয়েলকে " intentional insult " অফ দা কোর্টের দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ভারতীয় ২০০ টাকা জরিমানা ধার্য করেন , জরিমানা না দিলে ১ মাসের হাজতবাসের বিধানও দেন । 

বিচারপতির মতে , যে অকথ্য ভাষা উনি ব্যবহার করেছেন তা একজন অশিক্ষিত মূর্খ মানুষও ব্যবহার করতে লজ্জা পাবে । একজন উকিল হয়ে জনসমক্ষে এমন ভাষা ব্যবহার করার কারনে তাকে এই জরিমানা অন্যথায় হাজতবাসের সাজা দেওয়া হল । আশাকরি এই ধরনের ভাষার ব্যবহার জনসমক্ষে আর কখনো তিনি করবেন না । 


তথ্যসূত্রঃ 

https://www.livelaw.in/news-updates/contempt-tamil-nadu-court-imposes-fine-on-advocate-for-using-filthy-language-during-hearing-via-videoconferencing-read-order-158313
লোকসমক্ষে গালাগালি করলে ১ মাসের জেল বা ২০০টাকা জরিমানা - সাজা পেলেন উকিল লোকসমক্ষে গালাগালি করলে ১ মাসের জেল বা ২০০টাকা জরিমানা - সাজা পেলেন উকিল Reviewed by WisdomApps on June 14, 2020 Rating: 5

মেয়েপক্ষ জোর করে "বিয়ে হয়েছিল" প্রমান করার চেষ্টা করছে , কি করবো ?

January 24, 2020

আমার ভাগ্নে ও তার পরিবার খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ওদের এক আত্মীয় আমার ভাগ্নের বিরুদ্ধে পুলিশে মিথ্যে এফআইআর দায়ের করেছেন। ওদের দাবি আমার ভাগ্নে নাকি ওদের মেয়েকে বিয়ে করেছে। আমার ভাগ্নের সঙ্গে ওই মেয়েটির একসময় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু প্রায় দুবছর আগেই ব্রেক আপ হয়ে যায়। তারপর তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু এখন মেয়েটির পরিবারের লোকেরা কিছু ফটোশপ করা ছবি দেখিয়ে প্রমান করতে চাইছে, আমার ভাগ্নের সঙ্গে ওর মেয়ের বিয়ে হয়েছে। শুধু তাই নয় ওরা নিত্যনতুন অভিযোগ আনছে আমার ভাগ্নের বিরুদ্ধে। মন্দিরের একজন পুরোহিতকে বিয়ের সাক্ষীও সাজিয়েছেন। পুলিশ কোনও তদন্ত ছাড়াই আমার ভাগ্নের পরিবারকে জেরা করছে আর বারবার বিরক্ত করছে। আমার ভাগ্নে দেশের বাইরে ভালো চাকরি করে। বর্তমানে ও দেশে ফিরতেই ভয় পাচ্ছে। ওর ধারণা এই আত্মীয় ওর বিরুদ্ধে মিথ্যে কেস আনতে পারেন। এতে আমার ভাগ্নের কেরিয়ার এবং ভবিষ্যত একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে।
আমার প্রশ্ন
১) এই অভিযোগের বিরুদ্ধে কোন ধরণের মামলা করা যেতে পারে?
২) কোর্টে কি আমার ভাগ্নেকেও উপস্থিত থাকতে হবে?
৩) এই ধরণের মামলা কতদিন চলতে পারে?

উত্তর:
১) ওই আত্মীয় আপনার ভাগ্নের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তা যদি সত্যি না হয় সেক্ষেত্রে আপনারা ওর বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ আনতে পারেন। আপনাদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওর উপযুক্ত শাস্তি হতে পারে।
২) আপনার ভাগ্নে যদি বিদেশে থাকেন সেক্ষেত্রে ওর পরিবারের কোনো ব্যক্তি পুলিশের কাছে বা আদালতে ওই আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে হেনস্থার অভিযোগ জানাতে পারেন।
৩) এই ধরণের মামলা কতদিন চলবে তা বলা মুশকিল।





আমরা তিন ভাই দুই বোন। আমি সবার বড়। আমি চাকরিসূত্রে বিদেশে থাকতাম। 2003 সালে আমি ফিরে আসি। ওই একই বছর আমি এতদিনের জমানো টাকা দিয়ে একটা জমি কিনেছিলাম আমার মায়ের নামে। কেনার আগে সকলের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। প্রত্যেকেই বলেছিল ওই জমিতে ওদের কোনো আগ্রহ নেই। এক ভাই তো লিখিত ভাবে জানিয়েছিল, এই সম্পত্তিতে ও কোনও অংশ চাই না। বাকি ভাইবোনেরাও মৌখিক ভাবে একই কথা বলেছিল। গতবছর আমার মা মারা গেছেন। আর তারপর থেকেই এক ভাই ও দুই বোন আমার সম্পত্তির অংশীদার হতে চাইছে। পুরো জমিটা আমি যে নিজের টাকায় কিনেছিলাম এটা প্রমাণের জন্য আমার কাছে ক্যানসেলভ চেকও আছে।
আমার প্রশ্ন,
১) জমিটা মায়ের নামে বলে কি আমার ভাই বোনেরা চাইতে পারে?
২) আইনসম্মতভাবে কি ওদের প্রতিরোধ করা যায়?

উত্তর:
১) জমিটা যেহেতু আপনার মায়ের নামে কিনেছিলেন সেহেতু মায়ের অবর্তমানে আপনি ও আপনার ভাইবোনেরা যৌথভাবে সেই সম্পত্তির অংশীদার। এই কারণে ওরা আপনার কেন জমিতে ভাগ চাইতে পারেন।
২) আইনসম্মতভাবে আপনি ওদের প্রতিরোধ করতে পারেন। তার জন্য আপনাকে আদালতে একটি suit for declaration রুজু করতে হবে, যা মহামান্য আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণাদি বিবেচনা করে রায় প্রদান করবেন।
মেয়েপক্ষ জোর করে "বিয়ে হয়েছিল" প্রমান করার চেষ্টা করছে , কি করবো ? মেয়েপক্ষ জোর করে "বিয়ে হয়েছিল" প্রমান করার চেষ্টা করছে   , কি করবো ? Reviewed by WisdomApps on January 24, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.